হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামি ইতিহাসে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যাদের ত্যাগ, ভালোবাসা ও আত্মদান ছাড়া ধর্মের পরিপূর্ণতা কল্পনা করা যায় না। তাদের মধ্যে একজন হলেন উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদিজা আল-কুবরা (রা.), যিনি শুধু তার সম্পদই নয়, তার জীবন ও হৃদয় দিয়েও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
হযরত খাদিজা (রা.)-এর পবিত্র জীবন
হযরত খাদিজা (রা.) কুরাইশের সর্বাধিক সম্মানিত পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং তার পবিত্রতা, সততা ও সত্যবাদিতার জন্য "তাহিরা" উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও তার সুনাম ছিল অতুলনীয় এবং তার সততা মক্কাবাসীদের মধ্যে একটি আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হত।
মোবারক বিবাহ ও ত্যাগের সূচনা
হযরত খাদিজা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সততা ও সদাচরণে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিবাহের প্রস্তাব পাঠান। এই বিবাহ শুধুমাত্র একটি পার্থিব সম্পর্ক ছিল না, বরং এটি ছিল আল্লাহর ইচ্ছায় একটি পবিত্র বন্ধন, যা ইসলামের ভিত্তিকে মজবুত করেছিল। হযরত খাদিজা (রা.) তার সমস্ত সম্পদ ও সম্পদ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পায়ে নিবেদন করেছিলেন এবং ইসলামের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী হিসেবে প্রমাণিত হন।
ঈমানের প্রথম আলো
যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উপর প্রথম ওহী নাযিল হয়, তখন হযরত খাদিজা (রা.) সর্বপ্রথম তার সত্যতা স্বীকার করেন। এই কঠিন সময়ে তিনি শুধু নবী করিম (সা.)-কে সান্ত্বনাই দেননি, বরং সম্পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তার এই ভালোবাসা ও আনুগত্য কিয়ামত পর্যন্ত আনুগত্যের চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
শিবে আবি তালিবে ধৈর্য ও অবিচলতা
যখন মক্কার কাফেররা অত্যাচারের চরম সীমায় পৌঁছে এবং মুসলমানদেরকে তিন বছর ধরে শিবে আবি তালিবে অবরুদ্ধ করে রাখে, তখন হযরত খাদিজা (রা.) তার সমস্ত সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করেন এবং কঠিনতম পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ও অবিচলতার প্রতীক হয়ে থাকেন।
আইয়ামে ওফাত - নবী (সা.)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ দুঃখ
১০ রমজান মাসে হযরত খাদিজা (রা.) এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য এই দুঃখ ছিল অকথনীয়, কারণ তিনিই ছিলেন তার সর্বশ্রেষ্ঠ সমর্থন। এই বছরটিকে "আমুল হুজন" বা দুঃখের বছর বলা হয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হযরত খাদিজা (রা.)-এর প্রতি ভালোবাসা
হযরত খাদিজা (রা.)-এর মৃত্যুর পরও নবী করিম (সা.) তাকে স্মরণ করতেন। যখনই তার কোনো বান্ধবী আসতেন, তিনি তাদের সম্মান ও মর্যাদা দিতেন এবং যখনই হযরত খাদিজা (রা.)-এর কথা উঠত, তার চোখ অশ্রুসজল হয়ে যেত। একবার হযরত
আয়েশা (রা.) বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সর্বদা হযরত খাদিজা (রা.)-এর কথা বলেন, অথচ আল্লাহ আপনাকে তার চেয়ে উত্তম স্ত্রী দান করেছেন?
নবী করিম (সা.) বললেন: আল্লাহর কসম! খাদিজার মতো কেউ নেই। যখন সবাই আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তখন সে আমার উপর ঈমান এনেছিল। যখন সবাই আমাকে ত্যাগ করেছিল, তখন সে আমাকে সাহায্য করেছিল। এবং আল্লাহ আমাকে তার গর্ভ থেকে সন্তান দান করেছিলেন।
হযরত খাদিজা (রা.)-এর মর্যাদা
হযরত খাদিজা (রা.)-এর মর্যাদা এই থেকে অনুমান করা যায় যে, আল্লাহ তাআলা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে তাকে জান্নাতে একটি বাড়ির সুসংবাদ দিয়েছিলেন, যেখানে কোনো শোরগোল হবে না, কোনো কষ্ট হবে না।
উপসংহার
হযরত খাদিজা (রা.)-এর জীবন আমাদের সকলের জন্য একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তার আনুগত্য, ত্যাগ, ধৈর্য ও ইসলামের জন্য আত্মদান কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি মুসলিম নারীর জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। আজ হযরত খাদিজা (রা.)-এর ওফাত দিবসে আমাদের উচিত তার জীবনাদর্শকে অনুসরণ করার অঙ্গীকার করা, যাতে আমরাও ইসলামের সত্যিকারের অনুসারী হতে পারি।
আল্লাহ আমাদেরকে হযরত খাদিজা (রা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন!
আপনার কমেন্ট