বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫ - ১০:০০
একটি কুকুর যেভাবে মানুষকে ইমাম আলী (আ.)’র বেলায়েত বুঝতে সাহায্য করে!

একটি বিস্ময়কর রেওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর বিশেষ অনুমতিতে একটি হিংস্র কুকুর কথা বলতে শুরু করে এবং প্রকাশ করে সে মুনাফিকদের প্রতি কীভাবে শত্রুতা পোষণ করে যারা আমিরুল মুমিনীন আলী (আ.)-এর মর্যাদাকে অপমান করে। এই ঘটনা শুধুমাত্র কুকুরটির মালিক ও তার পরিবারকে ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধই করেনি, বরং মুখে মুখে আলী (আ.)-এর মহব্বতের দাবিদার শিয়াদের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে রয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: “ইসলামে তাবলীগ পদ্ধতি” নামক গ্রন্থটি আহলে বাইত (আ.)-এর রেওয়ায়াত ও হাদীসের আলোকে সংকলিত হয়েছে, যাতে বহু শিক্ষণীয় কাহিনী রয়েছে। নিম্নে তার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা উপস্থাপন করা হলো:

কুকুরটি আলী (আ.)-এর শত্রুকে ছিন্নভিন্ন করল

হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, একদিন রাসূল (সা.)-এর সাথে ফজরের নামায আদায়ের পর তিনি সাহাবায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছিলেন। এমন সময় এক আনসারী এসে বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অমুক ব্যক্তির বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তার একটি কুকুর আমার পথ রোধ করে দাঁড়াল, আমার পোশাক ছিঁড়ে ফেলল এবং পায়ে আঘাত করল। এতে আমি ফজরের নামায আদায় করতে পারলাম না।”

পরদিন আরেক ব্যক্তি একইভাবে অভিযোগ করে জানালেন যে কুকুরটি তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলেছে এবং তাকে নামায থেকে বিরত রেখেছে। রাসূল (সা.) তখন সরাসরি সেই ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে বললেন, “হিংস্র কুকুরকে হত্যা করা উচিত।”

বাড়ির মালিক বেরিয়ে এসে বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমার বাড়িতে কেন তাশরিফ এনেছেন? আমি তো আপনার দ্বীনে নেই।” রাসূল (সা.) জবাবে বললেন, “তোমার একটি হিংস্র কুকুর আছে যা নিয়মিত লোকজনকে আঘাত করছে। তাকে এখানে আনো, আমি তাকে হত্যা করব।”

যখন লোকটি কুকুরটিকে নিয়ে আসল, তখন আল্লাহর বিশেষ কুদরতে কুকুরটি কথা বলতে শুরু করল: “আসসালামু আলাইকুম ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে হত্যা করতে চান কেন?” রাসূল (সা.) উত্তরে বললেন, “তুমি লোকদের পোশাক ছিঁড়ে দিয়েছ এবং তাদের নামায থেকে বিরত রেখেছ।”

কুকুরটি জবাবে বলল, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি মুমিনদের সাথে এমন আচরণ করি না। কিন্তু এই লোকেরা মুনাফিক এবং আমিরুল মুমিনীন আলী (আ.)-এর শত্রু। তারা বাড়িতে গিয়ে আপনার চাচাতো ভাইকে গালিগালাজ করে। যদি তারা এমন না করত, আমি তাদের বিরক্ত করতাম না।”

এ কথা শুনে রাসূল (সা.) কুকুরটির মালিককে এর সাথে সদয় আচরণের নির্দেশ দিলেন। লোকটি রাসূল (সা.)-এর পায়ে লুটিয়ে পড়ে বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কুকুর যদি আপনার রিসালাতের সাক্ষ্য দেয়, তবে আমি কি তার চেয়েও নিকৃষ্ট থাকব? আমাকে আপনার হাত দিন, আমি ইসলাম গ্রহণ করতে চাই।” সে তখন শাহাদাতাইন পাঠ করল: “আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ ওয়া আশহাদু আন্না আলিয়্যান ওয়ালিউল্লাহ।” বাড়ির সকলেই তখন ইসলাম গ্রহণ করলেন।

শিক্ষা:
একটি হিংস্র প্রাণীও আলী (আ.)-এর শত্রুদের চিনতে পেরে তাদের শাস্তি দেয়, কিন্তু তার অনুসারীদের কষ্ট দেয় না। আমরা মুখে “ইয়া আমিরুল মুমিনীন” বললেও আমাদের কর্ম যদি আলী (আ.)-এর শিক্ষার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হয়, তবে কিয়ামতের দিন আমাদের কী হবে? আমাদের অবশ্যই আত্মসমালোচনা করতে হবে এবং অন্যদেরকেও সৎপথে আহ্বান জানাতে হবে। আলেম ও তালিবে ইলমগণই মানুষকে সচেতন করতে সক্ষম। আপনারা হচ্ছেন আল্লাহর পথে জিহাদকারী, যাদের প্রতিটি লেখনী, পদক্ষেপ ও বক্তব্য মানুষের জন্য পথনির্দেশিকা। আল্লাহ আমাদের সকলকে ইমাম মাহদী (আ.)-এর সৈন্য হিসেবে কবুল করুন।

সূত্র: হাদীকাতুশ শিয়া, পৃষ্ঠা ৪০৫

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha