বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫ - ১৬:৩৬
মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও প্রতিরোধের চেতনা

অবশ্যই অত্যাচারীরা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের পরিণতি কী ভয়ংকর!

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আল-কুদস দিবস: মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও প্রতিরোধের চেতনা
وَسَيَعْلَمُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ أَىَّ مُنقَلَبٍۢ يَنقَلِبُونَ

"অবশ্যই অত্যাচারীরা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের পরিণতি কী ভয়ংকর!"
— (আল-কুরআন, সূরা আশ-শু'আরা: ২২৭)


প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা "আল-কুদস দিবস" পালন করে। এটি ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের সমর্থনে এবং ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিবাদের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনটি মূলত ইসলামের প্রথম কিবলা বাইতুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম) মুক্তির আহ্বানে পালন করা হয়।

আল-কুদস দিবসের সূচনা ও ইতিহাস:

আল-কুদস দিবসের সূচনা করেছিলেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতা ইমাম খোমেইনি (রহ.), যিনি ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর ঘোষণা করেন যে, "রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে আল-কুদস দিবস হিসেবে পালন করা হবে।" তার এই ঘোষণা মুসলিম বিশ্বের মধ্যে একতা ও প্রতিরোধের নতুন দ্বার উন্মোচন করে।

ইরানের বিপ্লবের আগে এবং পরে ফিলিস্তিনি জনগণকে নানাভাবে দমন করা হয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিরা তাঁদের মাতৃভূমি হারায়, লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়। এরপর ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীর এবং গাজা দখল করে নেয়। এ সময় থেকে ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজ ভূমিতেই পরাধীন হয়ে পড়ে।

ইমাম খোমেইনি (রহ.) অনুভব করলেন যে, ফিলিস্তিন ইস্যু শুধু আরব জাতির নয়, বরং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর একান্ত দায়িত্ব। তাই তিনি আল-কুদস দিবস ঘোষণা করে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

আল-কুদস দিবস পালনের দর্শন:

১. মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক

আল-কুদস দিবস শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, বরং এটি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি দায়িত্বের স্মারক। বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা যখন এক কাতারে দাঁড়িয়ে আল-কুদসের মুক্তির জন্য আওয়াজ তোলে, তখন তা ইসলামী ঐক্যের শক্তিশালী বার্তা হয়ে ওঠে।

২. জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

এই দিনটি দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর দিন। ইসরায়েল অবৈধভাবে ফিলিস্তিনের জমি দখল করে রেখেছে এবং প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে। কুদস দিবস পালন করে বিশ্ব মুসলিম সমাজ এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে।

৩. নিপীড়িতদের সমর্থন

ইসলাম সব সময় নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষা দেয়। আল-কুদস দিবস হলো সেই শিক্ষা বাস্তবায়নের একটি মাধ্যম, যেখানে বিশ্ব মুসলিম সমাজ ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করে।

আল-কুদস দিবস ও বিভিন্ন ঘটনা:

১. ১৯৮২ সালের বেইরুট গণহত্যা

ইসরায়েলি বাহিনী ও তাদের মিত্র মিলিশিয়ারা লেবাননের সাবরা ও শাতিলা শরণার্থী ক্যাম্পে হাজার হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। এই গণহত্যা বিশ্ববাসীকে ইসরায়েলি বর্বরতার প্রকৃত রূপ দেখায় এবং আল-কুদস দিবসের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করে।

২. ২০০৮-২০০৯ গাজার যুদ্ধ

এই সময়ে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়, যাতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হন। আল-কুদস দিবস পালন করে বিশ্ব মুসলিম এই নৃশংসতার প্রতিবাদ জানায় এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।

৩. ২০২১ সালের আল-আকসা হামলা

রমজান মাসেই ইসরায়েলি বাহিনী আল-আকসা মসজিদে হামলা চালায়, যেখানে নামাজরত মুসলমানদের উপর নির্যাতন করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় গাজার প্রতিরোধ সংগঠনগুলো প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যা পরে ১১ দিনের যুদ্ধে রূপ নেয়। এই যুদ্ধ বিশ্ববাসীকে আবারও ফিলিস্তিনের দুঃখ-দুর্দশার দিকে মনোযোগ দিতে বাধ্য করে।

৪. ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস "অপারেশন আল-আকসা তুফান" নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের দিকে হাজার হাজার রকেট নিক্ষেপ করা হয় এবং হামাস যোদ্ধারা স্থলপথে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করে।
এই অভিযানের প্রতিক্রিয়ায়, ইসরায়েল "অপারেশন আয়রন সোর্ডস" নামে পাল্টা সামরিক অভিযান চালায়, যার ফলে গাজা উপত্যকায় ব্যাপক বোমা হামলা ও স্থল অভিযান পরিচালিত হয়। এই সংঘাতের ফলে গাজায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হন। 
এই সংঘাতের মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের উপর দমন-পীড়ন। হামাসের দাবি ছিল যে, ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবেই তারা এই অভিযান চালিয়েছে।

আল-কুদস দিবস পালনের বর্তমান পরিস্থিতি:

আজকের দিনে বিশ্বের বহু দেশে আল-কুদস দিবস পালিত হয়। ইরান, ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, তুরস্ক এবং ইউরোপ ও আমেরিকার বহু মুসলিম সম্প্রদায় এই দিনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে।

ফিলিস্তিনের জনগণ এখনো তাদের মাতৃভূমি মুক্তির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, আর আল-কুদস দিবস তাদের এই সংগ্রামকে আরও বেগবান করে তুলছে।

আল-কুদস দিবস উপলক্ষে ইসলামি নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণী:

আল-কুদস দিবস শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের মুক্তির ডাক নয়, বরং এটি গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক ঐতিহাসিক দায়িত্বের প্রতীক। যুগে যুগে ইসলামি নেতারা কুদস দিবস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন, যা আজও মুসলমানদের জন্য পথপ্রদর্শক।

১. ইমাম খোমেইনি (রহ.) – (আল-কুদস দিবসের প্রতিষ্ঠাতা)

"আল-কুদস দিবস শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের বিষয় নয়, এটি ইসলামের বিষয়। এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও জাগরণের প্রতীক। যে কেউ কুদস দিবসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, সে আসলে ইসলামবিরোধী শক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।"

"আমরা ঘোষণা করছি যে, মুসলমানদের অবশ্যই কুদস দিবসে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং এই বর্বর ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।"

২. আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী – (ইরানের সর্বোচ্চ নেতা)

"আল-কুদস দিবস একটি বৈশ্বিক আন্দোলনের নাম, যা মুসলিম উম্মাহকে জাগিয়ে তুলতে পারে। যারা এই দিনে চুপ থাকে, তারা ফিলিস্তিনের সাথে নয়, বরং জালিমদের সাথে রয়েছে।"

"ইসরায়েল একদিন ধ্বংস হবে, কারণ যে শক্তি দখলদারিত্বের উপর দাঁড়িয়ে থাকে, তা চিরস্থায়ী হতে পারে না। ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধই তাদের বিজয়ের চাবিকাঠি।"

৩. শহীদ কাসেম সোলাইমানি – (ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের অন্যতম নেতা)

"আমরা প্রতিজ্ঞা করছি, ফিলিস্তিন কখনো একা থাকবে না। আল-কুদস দিবস শুধু একদিনের ব্যাপার নয়, বরং এটি প্রতিটি মুহূর্তের সংগ্রাম, যেখানে প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব রয়েছে।"

"যদি মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকবে না। আল-কুদস হবে মুসলিম বিশ্বের রাজধানী।"

৪. শহীদ সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ – (হিজবুল্লাহর মহাসচিব)

"কুদস দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ফিলিস্তিন কেবল একটি জাতির সমস্যা নয়, বরং এটি সমগ্র উম্মাহর নৈতিক দায়িত্ব। মুসলমানদের উচিত নিজেদের শক্তি ঐক্যবদ্ধ করা এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।"

"ইসরায়েল কখনোই শান্তিপূর্ণ উপায়ে ফিলিস্তিন ছেড়ে যাবে না। শুধুমাত্র প্রতিরোধই তাদের পরাজিত করতে পারে, এবং কুদস দিবস সেই প্রতিরোধেরই প্রতীক।"

৫. শেখ ইবরাহিম জাকজাকী – (নাইজেরিয়ার শিয়া নেতা)

"আল-কুদস দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মুসলমানরা যদি এক হয়ে যায়, তাহলে কোনো শক্তিই আমাদের বিজয় থামিয়ে রাখতে পারবে না।"

"ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা এখনো অর্জিত হয়নি, কারণ কিছু মুসলিম শাসক দখলদারদের সমর্থন করছে। আমাদের এই বিশ্বাসঘাতকদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের মোকাবিলা করতে হবে।"

৬. মাহাথির মোহাম্মদ – (মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী)

"ইসরায়েল একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র, যা দখলদারিত্ব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে টিকে আছে। আমরা মুসলিম হিসেবে আমাদের ভাইদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলে, ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।"

"কুদস দিবস আমাদের জন্য মনে করিয়ে দেয়, ফিলিস্তিনের জন্য আওয়াজ তোলা মানে ন্যায়বিচারের জন্য আওয়াজ তোলা।"

আল-কুদস দিবস ও বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা:

আল-কুদস দিবস কেবল একটি ঐতিহাসিক দিন নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য চলমান প্রতিরোধ ও সংহতির প্রতীক। আজকের বাস্তবতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ফিলিস্তিন সংকট কোনো পুরনো ইস্যু নয়; বরং এটি এখন আরও তীব্র ও জটিল হয়ে উঠেছে। গাজায় নিরীহ মানুষের উপর হামলা, পশ্চিম তীরের বসতি সম্প্রসারণ, লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনের উপর আক্রমণ এবং সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ—সবকিছুই প্রমাণ করে যে ইসরায়েল ও তার মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশল গ্রহণ করেছে।

ফিলিস্তিন ও গাজার বর্তমান পরিস্থিতি:
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন:

গত এক বছরের অধিক সময় ধরে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে। হাজার হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছে, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু। অবরোধের কারণে খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বর্বরতা দেখলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং আমেরিকা ও ইউরোপীয় শক্তিগুলি ইসরাইল কে অর্থ ও অস্ত্র সমর্থন দিয়ে সাহায্য করে চলেছে।

পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ:

ইসরায়েল অবৈধভাবে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন করছে এবং ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করছে। প্রতিদিন সেখানে নতুন নতুন অবৈধ বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে এবং ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস করা হচ্ছে।

হামাস ও প্রতিরোধ আন্দোলন:

ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাস, ইসলামিক জিহাদ এবং অন্যান্য প্রতিরোধ গ্রুপ গাজার জনগণের রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।আল আকসা অভিযান এই লড়াইয়ের সর্বশেষ উদাহরণ।তাদের প্রতিরোধের মাধ্যমেই ইসরায়েল বুঝতে পারে যে,ফিলিস্তিনিরা কখনোই তাদের পৈত্রিক ভূমি ছাড়বে না এবং আত্মসমর্পণ করবে না।

লেবানন ও হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ:

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহস বসময় ফিলিস্তিনের পাশে থেকেছে। ২০০৬ সালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক যুদ্ধের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে যে ইসরায়েলকে সামরিকভাবে পরাজিত করা সম্ভব। বর্তমান সময়েও হিজবুল্লাহ ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে এবং সরাসরি ব্যাপক যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে হাসান নাসরুল্লাহ সহ শত শত হিজবুল্লাহ যোদ্ধা শহীদের অমিয় সুধা পান করেছে।

সিরিয়া: প্রতিরোধের আরেকটি ফ্রন্ট:

সিরিয়া সবসময় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল।ফলে ২০১১ সালে সেখানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল বিভিন্ন সময় সিরিয়ার সেনা অবস্থান ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছিল। ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো সিরিয়াকে দুর্বল করে রাখা, যাতে তারা ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনকে সহায়তা করতে না পারে।যদিও বর্তমানে সিরিয়ার সরকার পরিবর্তন হয়েছে এবং বর্তমান জুলানি সরকার আমেরিকা ও ইসরাইলের পলিসি বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে।

ইরান ও ইয়েমেনের ভূমিকা:
ইরান: প্রতিরোধের মূল শক্তি

ইরানই একমাত্র দেশ, যা ফিলিস্তিনিদের মুক্তির জন্য সরাসরি সহযোগিতা করছে। তারা হামাস, হিজবুল্লাহ এবং অন্যান্য প্রতিরোধ আন্দোলনকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দিয়ে থাকে।

ইয়েমেন: নতুন ফ্রন্ট

ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ (হুথি) আন্দোলন ঘোষণা করেছে যে, তারা ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য প্রস্তুত। সাম্প্রতিক সময়ে তারা ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে লোহিত সাগর এবং তৎসংলগ্ন সাগরপথে ইসরাইলি জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং বর্তমান ইসরাইল ও ফিলিস্তিন যুদ্ধে নিজেদের একাত্ম করে রেখেছে।এই ঘটনা বিশ্ববাসীকে বুঝিয়েছে যে ,প্রতিরোধ শুধু ফিলিস্তিন বা লেবাননের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি এখন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

উপসংহার:
আল-কুদস দিবস কেবল একটি দিবস নয়, এটি এক ঐতিহাসিক আন্দোলন, যা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা বহন করে। মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন, যেখানে বিশ্বের সকল ন্যায়পরায়ণ মানুষ ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। আমাদের সকলের উচিত এই দিবসের তাৎপর্য উপলব্ধি করা এবং কুদস ও ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো।
এর
"ফিলিস্তিন মুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ!"

লেখক: কবির আলী তরফদার কুম্মী।
তারিখ:২৭/০৩/২০২৫

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha