বৃহস্পতিবার ২৮ আগস্ট ২০২৫ - ১৯:২৪
গাজায় ৮২৮ মসজিদ ধ্বংস ও ২৩৩ ইমামকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা

হামাস উৎখাত ও জিম্মি মুক্তির অজুহাতে টানা ২২ মাসেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েল অবরুদ্ধ গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই চলছে বোমাবর্ষণ, হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞ। লাশের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে, রেহাই পাচ্ছে না নারী-শিশু কেউই।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: সম্প্রতি গাজা দখলের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আনার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সেনারা আরও ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে। বিশেষভাবে টার্গেট করা হচ্ছে মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনা। ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে উপাসনালয়, হত্যা করা হচ্ছে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের। ইতোমধ্যেই গাজার বহু পাড়া-মহল্লা উপাসনালয়হীন হয়ে পড়েছে।

আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ২৩৩ জন ইমাম ও ইসলাম ধর্মের প্রচারককে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ধ্বংস করা হয়েছে ৮২৮টি মসজিদ, আরও ১৬৭টি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি গাজার তিনটি চার্চ ধ্বংস হয়েছে এবং নিহত হয়েছেন ২১ জন ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান।

গাজার মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতেহ বলেন, “মসজিদ, গির্জা, ধর্মীয় নেতা ও ইমামদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো প্রতিরোধের মূলভিত্তি ভেঙে দেওয়া এবং ধর্মীয় কণ্ঠস্বরকে চিরতরে স্তব্ধ করা।” তিনি আরও বলেন, ইমাম ও আলেমরা জাতীয় পরিচয় শক্তিশালী করতে, ঈমান জাগ্রত রাখতে এবং সামাজিক সংহতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের হত্যা ও ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মনোবল দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

থাওয়াবতেহর মতে, শতাব্দী প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা আসলে ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, সামাজিক পরিচয় ও সমষ্টিগত স্মৃতি মুছে ফেলার প্রচেষ্টা। এটি গাজার অস্তিত্ব ও ফিলিস্তিনিদের জাতীয় শেকড়ের ওপর ভয়াবহ হুমকি তৈরি করছে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha