বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারী ২০২৬ - ১৩:৩৭
নামাজের জন্য সন্তানের জাগিয়ে তোলা— কার্যকর, কোমল ও স্থায়ী উপায়

নামাজে নিয়মিত হওয়া যখন একটি অভীষ্ট, তখন অনেক পরিবারই বিশেষ করে নবযৌবনা বা বালিগ হওয়া মেয়েদের ক্ষেত্রে ঘুমের কারণে বেগ পেতে পারে— দুপুরে দীর্ঘ ঘুম, ফজরের সময় উঠতে দুর্ভোগ ইত্যাদি।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরানের নামাজ বিষয়ক বিশেষায়িত কেন্দ্রের একজন বিশেষজ্ঞ ঘুমের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সন্তানের সঙ্গে সুশীল আচরণ— এই দুই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে নামাজের জন্য শিশুদের জাগানোর বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিয়েছেন।

একজন অভিভাবক প্রশ্ন করেন: “আমাদের মেয়ে কয়েক মাস আগে তাকলিফে (বালেগ) পৌঁছেছে। কিন্তু সে দুপুরে অনেক দীর্ঘ সময় ঘুমায়, যার ফলে মাগরিব– এশার নামাজে তাকে জাগানো কঠিন হয়। ফজরের সময়ও একই সমস্যা। অনেক সময় তর্ক–বিতর্ক করে উঠাতে হয়। আমরা কী করতে পারি?”

উত্তর: এখানে দু’টি বিষয় গুরুত্ব রাখে:
১. ঘুমের সঠিক ব্যবস্থাপনা:
• দুপুরের ঘুম: দুপুরের ঘুম সবার জন্য অপরিহার্য নয়। যিনি সকালে তাড়াতাড়ি ওঠেন এবং সারাদিন কাজ–কর্মে সক্রিয় থাকেন, তার জন্য সংক্ষিপ্ত দুপুরের বিশ্রাম উপকারী। তবে এর সময়সীমা ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হওয়া উচিত।

দুপুরে ১–২ ঘণ্টা ঘুমালে দুটি সমস্যা দেখা দেয়—

১. মানুষের ক্লান্ত ও বিরক্ত লাগে।

২. রাতে ঘুমাতে বেশ দেরি হয়, ফলে পুরো ঘুমের রুটিন নষ্ট হয়ে যায়।

রাতের ঘুম: ঘুম বিশেষজ্ঞরা বলেন, মধ্যরাতের আগের ঘুমের উপকারিতা মধ্যরাতের পরের ঘুমের তুলনায় অনেক বেশি।

বর্তমান সমাজে দেরিতে ঘুমানোর প্রবণতা বেড়ে গেছে। অনেকে চেষ্টা করেও ১২টার আগে বিছানায় যেতে পারেন না।

শিশুরা যেন রাত ১০–১০:৩০-এর মধ্যে ঘুমাতে যায়, সেই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—অভিভাবকের আচরণই সন্তানের মূল আদর্শ।

যদি বাবা–মা নিজেরাই রাত ১২–১টা পর্যন্ত মোবাইল বা টিভি নিয়ে জেগে থাকেন, তাহলে সন্তানকে আগেভাগে ঘুমাতে শেখানো বাস্তবে কঠিন হয়ে পড়ে।

২. সন্তানের সঙ্গে উপযুক্ত আচরণ
নামাজ পড়াতে গিয়ে সন্তানের ওপর রাগ করা, চাপ প্রয়োগ করা বা শাস্তি দেওয়া মোটেও সঠিক নয়। ইসলামের নির্দেশ হলো—নম্রতা, কোমলতা ও ধারাবাহিক উৎসাহ দিয়ে নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলা।

প্রতিটি নামাজ নিয়ে ঝগড়া বা চাপে ফেললে তার প্রতিক্রিয়া উল্টো হতে পারে। শিশু নামাজকে বিরক্তির বিষয় হিসেবে মনে করবে।

প্রথমে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করুন
শিশুর বিশ্বাস গঠনের পাশাপাশি ইতিবাচক প্রেরণা দেওয়া প্রয়োজন। যেমন—দুপুরের বিশ্রাম শেষে তাকে পছন্দের হালকা নাস্তার প্রতিশ্রুতি দিলে সময়মতো উঠতে উৎসাহ পায়।

ফজরের নামাজের ক্ষেত্রেও আচরণ যতটা সম্ভব স্নিগ্ধ ও শান্ত হওয়া উচিত। অতিরিক্ত কঠোরতা তার মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

উৎসাহ ও পুরস্কারের ব্যবহার
এই বয়সে ছোট পুরস্কার বা প্রশংসা খুব কার্যকর। যদি সে কয়েকদিন নিয়মিতভাবে নামাজের জন্য জেগে ওঠে, মাঝে মাঝে (রোজ নয়) একটি ছোট উপহার দিলে তার আগ্রহ বাড়ে।

শিশুরা সাধারণত নামাজ-বিরোধী নয়; তাদের মূল সমস্যা হলো ঘুম থেকে ওঠার স্বাভাবিক কষ্ট।
কিছুদিন নিয়মিত ঘুম–জাগরণের অভ্যাস হলে এটি স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত হয়।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha