সোমবার ৫ জানুয়ারী ২০২৬ - ১৩:২৬
গুজব ও ফেক নিউজ প্রতিরোধে আইনের খসড়া প্রকাশিত হওয়া উচিত!

কিভাবে বর্তমান জীবনযাপনের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো থেকে মানুষকে ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করা হয়; এই সবকিছু শেখার জন্য আপনার কোনো স্কুল-কলেজে ভর্তি হওয়ার দরকার নেই। বিনামূল্যে ঘরে বসেই শিখে নিতে পারেন। আপনার মিডিয়া আপনাকে শিখিয়ে দেবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, মাওলানা তাকি আব্বাস রিজভী বলেন, মানুষের আবেগ-অনুভূতিতে ওঠানামা কীভাবে হয়, কিভাবে তুচ্ছ বিষয়কে বড় করা হয়, কিভাবে বর্তমান জীবনযাপনের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো থেকে মানুষকে ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করা হয়; এই সবকিছু শেখার জন্য আপনার কোনো স্কুল-কলেজে ভর্তি হওয়ার দরকার নেই। বিনামূল্যে ঘরে বসেই শিখে নিতে পারেন। আপনার মিডিয়া আপনাকে শিখিয়ে দেবে।
মিডিয়ার এই উচ্ছৃঙ্খলতা ও অসততার লাগাম টেনে ধরাটা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। যেমন কয়েক দিন ধরে মানুষের মনের ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে, মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে, ভেনিজুয়েলার পর এবার ইরানের পালা। আয়াতুল্লাহ খামেনেই পলায়ন করেছেন... এসব গুজব ও ফেক নিউজ ছড়ানো প্রতিরোধে আইনের খসড়া প্রকাশিত হওয়া উচিত। কারণ মিডিয়া তার ভুল ও নেতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের জীবনে খুব খারাপ প্রভাব ফেলেছে এবং ফেলছে। আগে সাংবাদিকতায় সততা ছিল। এর সূচনা হয়েছিল মূলত সত্য, সামাজিক সংস্কার ও জনগণকে পথপ্রদর্শনের চেতনা থেকে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে রাজনীতির প্রভাব, আর্থিক স্বার্থ এবং অন্যান্য কারণে এর স্বচ্ছতা ও সততা ক্ষুণ্ন হয়েছে। এখন যেন রাজনৈতিক প্রভাব আরও বেড়ে গেছে এবং সাংবাদিকতায় সততা হ্রাস পাচ্ছে। মনে হচ্ছে সাংবাদিকতায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের পেশাগত নীতি-নৈতিকতার সাথে দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। তারা তাদের দায়িত্ব পালন না করে শুধু আর্থিক ও অন্যান্য স্বার্থের পেছনে ছুটছে। এমন পরিবেশে কিছু ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ মিডিয়াও রয়েছে, যারা রেটিং ও টিআরপি-এর বাণিজ্যিক চিন্তা থেকে উর্ধ্বে থেকে নিজেদের বিবেক ও ন্যায়ের স্বপক্ষে সোচ্চার হচ্ছে। কিন্তু এটা বললে হয়তো ভুল হবে না যে দুর্ভাগ্যক্রমে বর্তমানে মিডিয়া শুধু টাকা কামানোর মাধ্যম হয়ে উঠছে। সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় বিদ্বেষ, রাজনৈতিক আনুগত্য ও একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শ প্রচারে ব্যস্ত বেশিরভাগ মিডিয়াহাউজ তাদের মৌলিক দায়িত্ব ভুলে গেছে। আর এটাই হচ্ছে সাংবাদিকতার নীতিমালা ও নৈতিকতা বিস্মৃতির ফল যে, গত কয়েক দিন ধরে তুচ্ছ বিষয়কে বড় করে দেখানো হচ্ছে, ভেনিজুয়েলার পর এবার ইরানের পালা... এটা সত্য যে ইরানে মূল্যস্ফীতি ও নাজুক অর্থনীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে তীব্রতা দেখা গেছে। কিন্তু সেখানকার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেই-এর প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহার করা শুধু ভুলই নয়, একটি গুরুতর অপরাধ। ইরানের স্বাধীনতাপ্রিয় জাতি আগেও ইসলামী ব্যবস্থা এবং এ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ নেতৃবর্গ বিশেষ করে হযরত আয়াতুল্লাহ খামেনেই-এর প্রতি কৃতজ্ঞ ছিল, এখনও আছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে এই ভুল প্রচারণা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে দৃষ্টান্তমূলক উন্নতি ও অগ্রগতি সাধন করছে, তা বাস্তবে আয়াতুল্লাহ খামেনেই-এর কৌশলেরই ফল। আজ ইরানের উন্নতি, স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় ঐক্য ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে একটি শক্তিশালী শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে। এটা বাস্তবিক অর্থে আয়াতুল্লাহ খামেনেই ও তার সহযোগীদের দূরদর্শিতারই ফল। আয়াতুল্লাহ খামেনেই শুধুমাত্র একজন প্রাজ্ঞ আলেম ও আইনবিদই নন, একজন চিন্তাবিদ, আধ্যাত্মিক রাহবার, সমাজ সংস্কারক, রাজনৈতিক কৌশলী এবং সাথে সাথে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য একজন মহান নেতা।
অতএব, মিডিয়াকে এই অশালীন রসিকতা বন্ধ করা উচিত এবং বর্তমানে ইরানে যা ঘটছে তা নিয়ে বিকৃত সত্য এবং সত্যের সাথে মিলিয়ে মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করা উচিত। পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশার দিকে ফিরে তাকানো উচিত। বর্তমান যুগে মিডিয়া ও সাংবাদিকতা যদি সত্য, ন্যায়, কল্যাণ ও উন্নতির জন্য কাজ করে, তাহলে মানবতার জন্য এর চেয়ে উপকারী শক্তি আর কিছুই নেই। আর যদি সাংবাদিকতায় বিকৃতি চলে আসে এবং তা মিথ্যা, অসত্য, অকল্যাণ ও ফ্যাসাদের জন্য সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাহলে মানবজাতির জন্য এর চেয়ে ক্ষতিকর আর কোনো শক্তি নেই।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha