হাওজা নিউজ এজেন্সি: ফিলিস্তিনের সিনিয়র বিশ্লেষক আব্দুলবারি আতওয়ান 'রাই আলইউম' ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিথ্যা দাবি—যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইরান আক্রমণ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এর সমালোচনা করেন। আতওয়ান লিখেছেন, ট্রাম্প আসলে আঞ্চলিক আরব রাষ্ট্রগুলোর চাপেই এই আক্রমণ স্থগিত করতে বাধ্য হন।
আতওয়ান ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কাছে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের এই অপদস্থতা ও দুর্বলতার মূল কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জোর দেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হাস্যকর পশ্চাদপসরণের পটভূমিতে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা: একটি মুসলিম রাষ্ট্র প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে অনমনীয় অবস্থান নিয়ে দাঁড়িয়েছে, তার সামরিক শক্তি ও গণসমর্থনের ওপর ভর করে এই অতিমহাশক্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে। ইরানের জনগণ নিঃশঙ্ক ও দৃঢ়চিত্তে রাস্তায় নেমে এসেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আত্মসমর্পণ, পশ্চাদপসরণ বা কোনো প্রকার ছাড় দেওয়ার কোনো লক্ষণ দেখায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এ দাবি যে তেহরান সরকার সাম্প্রতিক অরাজকতার ঘটনাকারীদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করায় ইরান আক্রমণ বন্ধ করা হয়েছে, তা মূলত ট্রাম্পের গভীর হতাশা ও যুদ্ধ এড়িয়ে পালানোর চেষ্টামাত্র। বাস্তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি শাসনই অরাজকতাকারীদের উসকানি দিয়েছে ও রাস্তায় নামিয়েছে এবং তারা গোলযোগ সৃষ্টিকারীদের মধ্যে নিজেদের হাজার হাজার অনুগত এজেন্ট নিয়োজিত করেছিল।
আতওয়ান সামরিক ক্ষেত্রে ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসমূহের ইসরাইলি আকাশসীমায় সফল অনুপ্রবেশের ঘটনাকে চিহ্নিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছিল। তার মতে, এই সামরিক সক্ষমতাই নেতানিয়াহুকে আতঙ্কিত করে এবং ইরানের উপর গণহত্যামূলক আক্রমণ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করে।
এই নিবন্ধটি কিছু গণমাধ্যমের এ দাবিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা বলে আখ্যা দেয়, যারা দখলকৃত ভূমিতে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্বল্পতাকেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধভীতি তৈরির কারণ হিসেবে চালাতে চেয়েছিল। বরং, নিবন্ধে ইসরাইলি শাসনের ভয়ের পেছনে নিম্নলিখিত মূল কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়:
প্রথমত: ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সম্ভাব্য সামরিক অভিযান চূড়ান্ত ও সম্পূর্ণ ব্যর্থতার সম্মুখীন হবে।
দ্বিতীয়ত: ইসরাইলি শাসন ১২ দিনের যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা রোধে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণে গভীর শঙ্কিত। তারা বুঝতে পেরেছে যে, ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়ালে বিপুল সামরিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষয়ক্ষতি হবে এবং এতে তাদের আঞ্চলিক সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব চিরতরে বিলুপ্ত হতে পারে।
তৃতীয়ত: ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়েছিল যে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিস্তৃত এলাকা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে এবং এতে হাজার হাজার ইহুদি বসতিবাদীর প্রাণহানি ঘটতে পারে।
আতওয়ান তার বক্তব্য শেষ করেন এভাবে: ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতা তাঁর সাম্প্রতিক ভাষণে— পূর্বের মতোই, সঠিক ও সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে সকল ফিতনা পর্দার আড়ালে পরাজিত করেছে এবং জাতীয় সংহতির মাধ্যমেই চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছে।
আপনার কমেন্ট