বুধবার ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ - ১৫:৪১
ছায়াসঙ্গী শহীদ কাশেম সুলেমানী

ইরানের জনগণ শহীদদের প্রতি যে শ্রদ্ধা, ভক্তি আর প্রেম নিবেদন করে—তা পৃথিবীর খুব কম জাতিই পারে। তারা শহীদকে শুধু স্মরণ করে না, তারা শহীদকে বাঁচিয়ে রাখে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, 

রিপোর্ট: মুস্তাক আহমদ

২০২২ সাল।
জীবনে প্রথমবার ইরানের মাটিতে পা রেখেছিলাম। আমরা ছিলাম সাতজন—কিন্তু মনে হচ্ছিল, আমরা একা নই। চারপাশে কোথাও না কোথাও যেন একজন নীরব সঙ্গী হাঁটছেন আমাদের সাথে—তিনি শহীদ কাশেম সুলেমানী।
ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে ঘুরেছি। যা দেখেছি, তা কোনো বইয়ে লেখা যায় না—চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয় না। ইরানের মানুষ তাঁকে কতটা ভালোবাসে, কতটা হৃদয়ের ভেতরে ধারণ করে রেখেছে—তা আমি নিজ চোখে দেখেছি।
ইরানে নির্বাচন আসে নীরবে।
নির্বাচনের একদিন আগেও বোঝার উপায় নেই যে নির্বাচন সামনে। আমাদের দেশের মতো দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার, মাইকে চিৎকার, ক্ষমতার প্রদর্শন—কিছুই নেই।
কিন্তু আছে শহীদদের ছবি।
আছে রক্তে কেনা মর্যাদার স্মারক।
সরকারি ভবন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, সড়ক, অলি-গলি—সবখানেই শহীদদের মুখ। আর সেই মুখগুলোর ভিড়ে বারবার চোখে পড়ে যায় এক নাম, এক অবয়ব—কাশেম সুলেমানী। কোথাও তাঁর ভাস্কর্য, কোথাও ছবি—তিনি যেন পুরো ইরানজুড়ে ছায়া হয়ে আছেন।
আসলে ইরানের জনগণ শহীদদের প্রতি যে শ্রদ্ধা, ভক্তি আর প্রেম নিবেদন করে—তা পৃথিবীর খুব কম জাতিই পারে। তারা শহীদকে শুধু স্মরণ করে না, তারা শহীদকে বাঁচিয়ে রাখে।
২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি—তিনি শহীদ হলেন।
ছয় বছর পেরিয়ে গেছে।
কিন্তু আজও মনে হয়, শহীদ কাশেম সুলেমানী যেন আমাদের হৃদয়ের একেবারে পাশে বসে আছেন। নীরবে তাকিয়ে আছেন, মাথায় হাত রেখে বলছেন— “ভয় পেয়ো না, পথটা ঠিকই আছে।”
যেদিন তাঁর শাহাদাতের খবর শুনেছিলাম, সেদিন মনে হয়েছিল—আমার কলিজার একটি অংশে যেন আমেরিকা তীর ছুঁড়ে মেরেছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠছিল।
আর যেদিন শুনলাম—সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ শহীদ হয়েছেন—
সেদিন মনে হয়েছিল, ইজরাঈল যেন আমার কলিজায় সরাসরি গুলি চালালো।
এই শোক শুধু খবরের শোক নয়—এ শোক আত্মার।
কাশেম সুলেমানী শুধু একজন মানুষ ছিলেন না।
তিনি ছিলেন ছায়াসঙ্গী—
যিনি সামনে দাঁড়িয়ে বুলেট নিয়েছেন,
পেছনে দাঁড়িয়ে সাহস জুগিয়েছেন,
আর শহীদ হয়ে আজও আমাদের সাথে হাঁটছেন।
শরীর মাটিতে শুয়ে আছে,
কিন্তু ছায়াটা এখনো আমাদের মাথার ওপর—
প্রতিরোধের ছায়া,
সম্মানের ছায়া,
শহীদের ছায়া। তবে তাঁর প্রতি একটি প্রচ্ছন্ন 'হিংসা লুকিয়ে রেখেছি আমার অন্তরে, সেই 'হিংসাটি হলো তাঁর মত গৌরবময় শহীদ হবো৷ এ রকম শাহাদত দেখে লোভ হয়, এমন শহীদ হবো৷ বিছানায় মরে কি লাভ, যদি না 'পবিত্র আহলে বাইতের শত্রুর গুলিতে ঝাঁঝরা না হতে পারি৷

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha