বুধবার ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ - ২০:৫০
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও আমেরিকার ভূমিকার নিন্দা জানাল বাংলাদেশ শিয়া উলামা কাউন্সিল

আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা ও প্রকাশ্য হুমকিকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ শিয়া উলামা কাউন্সিল। এক বিবৃতিতে কাউন্সিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতি বন্ধের আহ্বান জানায় এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা কামনা করে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: বাংলাদেশ শিয়া উলামা কাউন্সিলের বিবৃতিটি নিম্নরূপ:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটির বিবৃতি: মাকামে বেলায়াতের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও বড় শয়তানের সামরিক হুমকির নিন্দা

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "অতএব হত্যা করো কুফরের নেতাদেরকে, তাদের আর কোনো নিরাপত্তা থাকবে না, হয়তো তারা বিরত হয়ে যাবে।" (আল-কোরআন)

আমরা, বাংলাদেশি শিয়া আলেমগণ, গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, আবারও রক্তখেকো ও উন্মাদ মার্কিন সরকার সকল আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও আইন অমান্য করে  বিপজ্জনক সামরিক সরঞ্জাম ও মানববিধ্বংসী অস্ত্রসম্ভার গুদাম করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের চারপাশের সীমান্ত ঘিরে ফেলেছে। তারা চরম ধৃষ্টতার সাথে প্রকাশ্যে শিয়া মুসলমানদের মহান মারজায়ে তাকলীদ ও বিশ্ব মুসলিমের ওয়ালীয়ে আমর (আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী) কে প্রাণ নাশের কথাও উত্থাপন করছে।

বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটি মহান মারজা'র প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও আনুগত্য ব্যক্ত করে আমেরিকা ও তার দোসরদের এই বিপজ্জনক হুমকি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র ও সামরিক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছে। উলামা সোসাইটি মনে করে, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার এহেন কার্যকলাপ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আগুন নিয়ে খেলার শামিল, যা বিশ্ব জায়নবাদের দুরভসন্ধিগুলোর অন্ধ অনুসরণ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন ছাড়া আর কিছু নয়। 

বিশ্ববাসী জানে, ‘বড় শয়তান’ আমেরিকার ইতিহাস শত সহস্র নিরপরাধ মানুষের রক্তে রঞ্জিত। আমেরিকাই হলো দেশে দেশে সকল সন্ত্রাস, বিদ্বেষ, অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলার উৎস। সম্প্রতি ইরানের অভ্যন্তরে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা ও সংঘর্ষের ঘটনাবলী এই দাবির পক্ষে সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

অতএব, ইমামিয়া উলামা সোসাইটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ— বিশেষ করে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানায়, তারা যেন কঠোরভাবে রক্তখেকো মার্কিনীদের পাগলামীপূর্ণ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি ভয়ঙ্কর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফ্রণ্ট খোলা থেকে বিরত রাখেন।
বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটি পুনরায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান, মহান রাহবার এবং সে দেশের জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি পুনর্ব্যক্ত করছে। আমরা বিশ্বাস করি, নিজেদের প্রতিরক্ষা অধিকার, ইরানের জনগণের একটি সম্পূর্ণ বৈধ অধিকার।  মার্কিনীদের এ সমস্ত বেসামাল সামরিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে আগ্রাসী অপরাধের দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য হতে পারে, কারণ এগুলোর কোনো বৈধ প্রতিরক্ষা ভিত্তি নেই।

পরিশেষে, আমরা ইসলামী বিপ্লবের প্রয়াত মহান নেতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, যিনি ইরানের জনগণকে স্বাধীনতা ও মর্যাদার মন্ত্র শিক্ষা দিয়ে গেছেন এবং বিশ্বসাম্রাজ্যবাদের  সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ়তা প্রদর্শনকে জাতির জন্য বীরত্ব ও গৌরবের বলে গণ্য করেছেন। তিনি বলেছিলেন, “আমেরিকা কোনো গলদই করতে পারবে না।”

 ইনশাআল্লাহ, এই দফায়ও আগ্রাসী শক্তিগুলো তাবাস মরুভূমির লজ্জাজনক পরাজয়ের চাইতেও ভয়ঙ্কর পরিণতির সম্মুখীন হবে।

"আল্লাহর সাহায্য আসছে এবং বিজয় সন্নিকটে।তাই সুসংবাদ দাও বিশ্বাসীদের। "

ওয়ালসালাম।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha