হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, "আমরা সবাই বৈশ্বিক ইলেক্ট্রনিক ডিজিটাল ভার্চুয়াল সামাজিক ও সংবাদ মাধ্যম সমূহের অনাকাঙ্ক্ষিত কোরবানি বা শিকারে পরিণত হয়েছি বা হয়ে যাচ্ছি।"---- এ শিরোনামে ইরানী সংবাদ মাধ্যম ইসনায় (Isna) সদ্য প্রকাশিত এ প্রবন্ধে ইলেকট্রনিক,ডিজিটাল, ভার্চুয়াল ও সামাজিক মিডিয়া বা মাধ্যমসমূহ বিশ্বের আনাচে কানাচে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা,বিপদাপদ, বিপত্তি,গোলযোগ, গণ্ডগোল,যুদ্ধ,দ্বন্দ্ব-সংঘাত,সংঘর্ষ, ধ্বংসযজ্ঞ,অপমৃত্যু,হত্যাকাণ্ড,গণহত্যা, অনিরাপত্তা, অনিশ্চয়তা ইত্যাদি সংক্রান্ত দু:সংবাদ এবং খারাব খবর ও নেতিবাচক তথ্য-উপাত্ত প্রতিনিয়ত সরবরাহ করছে এবং একদম অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে আমাদের সবার মাঝে অনিরাপত্তাবোধ, দুশ্চিন্তা,উদ্বেগ,উৎকণ্ঠা,কুধারণাবোধ,স্ট্রেস,মানসিক চাপ ও পীড়ন,মর্ম-বেদনা,অস্বস্তিবোধ, মানসিক-মনস্তাত্তিক পীড়ন,চাপ,আঘাত বা ট্রমার ( যাকে ডিজিটাল ভার্চুয়াল সামাজিক মিডিয়া ট্রমা বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম বাহিত ও জনিত ট্রমা বা আঘাত ضربه های روحی-روانی رسانهای বলা উচিত ) উদ্ভব ঘটাচ্ছে এবং আমাদের দেহে প্রতিনিয়ত ও সর্বদা কর্টিজোল হরমোনের নিঃসরণ ও অন্ত:ক্ষরণ ঘটিয়ে আমাদের দেহ ও মনে সবসময় স্থায়ী মানসিক স্ট্রেস (চাপ ও টেনশন বা পীড়ন ও উত্তেজনা) তৈরি করছে এবং তা বজায় রাখছে যা আমাদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে বা নষ্ট করে দিচ্ছে।আর এ ক্ষেত্রে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য হানির শিকার ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যার সুদূর প্রসারী স্থায়ী নেতিবাচক ধ্বংসাত্মক প্রভাব রয়েছে!
ইলেকট্রনিক ডিজিটাল ভার্চুয়াল সামাজিক ও সংবাদ মিডিয়া বা মাধ্যম সমূহের নেতিবাচক প্রভাব এবং আপদ ও বিপদ
এ প্রবন্ধের শুরুতে বলা হয়েছে:*"((ব্যাপক ভিত্তিক যোগাযোগ ও সম্পর্কের এ যুগে প্রত্যক্ষ দর্শন (সরাসরি চোখে দেখা) ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্যে পার্থক্যকারী সীমারেখা আর বিদ্যমান নেই।এখন ক্ষতির শিকার হওয়ার জন্য সংকটের কেন্দ্রস্থলে দৈহিক বা শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। স্মার্ট ডিজিটাল মোবাইল ফোন অন (চালু) করলেই বিশ্বের আনাচে কানাচে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বিভিন্ন দেশ,শহর ও অঞ্চলে যুদ্ধ,দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সংঘর্ষ ও মারামারি এবং বিশ্ব জুড়ে মানবজাতির দু:খ-কষ্ট ও যন্ত্রণার হৃদয়বিদারক দৃশ্য ও চিত্র প্রতিনিয়ত ও
অহরহ আমাদের মানসপটে সরাসরি প্রতিফলিত হচ্ছে এবং আমাদের মনের গভীরে অনুপ্রবেশ করছে।আর এ সব প্রপঞ্চ ও ঘটনার চিত্র ও দৃশ্যের মাঝেই ডিজিটাল ট্রমা (ডিজিটাল মানসিক আঘাত) নিহিত রয়েছে যা বর্তমানে একবিংশ শতকে মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য সবচেয়ে বড় মারাত্মক চ্যালেঞ্জ ও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে!!!! আমাদের বর্তমান সমাজ এমন এক অসুস্থ সমাজে পর্যবসিত ও পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে যেখানে স্ট্রেস সৃষ্টি কারী দৃশ্যের ছবি ও চিত্র আমাদের মনে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে বোমাবর্ষণ করে ও আঘাত হেনেই যাচ্ছে। অথচ আমাদের আবেগ ও অনুভূতির ওপর এ সব আঘাত ও ট্রমা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা বিধানকারী কোনো ক্রিয়াশীল মেকানিজম ও রক্ষাকবচ নেই।আমরা যেমন ভাবে স্বাস্থ্য সম্মত (বিশুদ্ধ ও নিরাপদ) সুষম পুষ্টি ও খাদ্যগ্রহণের বিষয়টা রেয়াত ও ব্যবস্থাপনা করে থাকি ঠিক তেমনিভাবে ডিজিটাল মিডিয়া বা মাধ্যমসমূহ যে ব্যবহার করা উচিত সে ব্যাপারে জোর গুরুত্বারোপ করে একজন মনোস্তাত্ত্বিক ও মনোবিজ্ঞানী বলেছেন:আমাদের যেহেন (ذِهْن) বা মনকে দর্শন (দেখা) বা প্রত্যক্ষণ সংক্রান্ত দূষণের (visual pollutions) বিষবাষ্প দিয়ে দূষিত হতে দেওয়া একান্ত অনুচিত।))*" (উক্ত প্রবন্ধের প্রথম দিক থেকে উদ্ধৃত)
কিন্তু তথাকথিত আধুনিকতা, প্রগতিশীলতা, বিজ্ঞান মনস্কতা,মুক্ত-উদার,সংস্কার বিরোধী মন-মানসিকতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের প্রবক্তারা আধুনিক ডিজিটাল ইলেকট্রনিক সামাজিক ভার্চুয়াল মাধ্যম সমূহের মারাত্মক ধ্বংসাত্মক ও ক্ষতিকর কুপ্রভাবের কথা মোটেও উল্লেখ তো করেই না বরং তাদের ভাবসাব এমন যে এগুলো এখন আধুনিক উন্নত প্রগতিশীল জীবন ও সমাজের জরুরী অপরিহার্য ও অবিচ্ছেদ্য বিষয় ও অংশে পরিণত হয়েছে!!!!! কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক এবং মনোবৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন,পর্যবেক্ষণ,গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বলছে এ সব মাধ্যমের ভয়ানক ও ভয়াবহ স্থায়ী মানসিক ও শারীরিক চাপ,মনোবিকৃতি ও ক্ষতির কথা যা হচ্ছে অধিক বাস্তব (حقیقی),অধিক মানবিক (انسانی),অধিক বুদ্ধিবৃত্তিক (عقلی) ও অধিক বৈজ্ঞানিক (علمی)।আর এ কারণেই বর্তমান (একবিংশ) শতাব্দী আসলে মিডিয়া জনিত মানসিক ট্রমার শতাব্দী হিসেবে বিশেষজ্ঞদের কাছে বিবেচিত ও পরিগণিত হচ্ছে!!!!
অতএব আমরা কি তথাকথিত আধুনিকনিতাবাদীদের অবৈজ্ঞানিক,অতাত্ত্বিক,অবুদ্ধিবৃত্তিক, অনভিজ্ঞতাব্যাঞ্জক অন্ত:সারশূন্য মুখরোচক কথা ও প্রচারণায় মজব নাকি বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের বুদ্ধিবৃত্তিক,অভিজ্ঞতালব্ধ,গভীর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পর্যবেক্ষণ ভিত্তিক,সুচিন্তিত যৌক্তিক কথা,মন্তব্য ও ফলাফল গ্রহণ করব?!!!!!আর এসব ডিজিটাল মিডিয়ার অসামাজিক চারিত্রিক নৈতিক (চরিত্র ও নীতিনৈতিকতা হনন জনিত) নেতিবাচক প্রভাব,ক্ষতি ও অপকার তো আছেই।বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে তথাকথিত এ সব আধুনিকতাবাদীই ফিৎরত (সহজাত মানব প্রকৃতি),বিবেকবোধ ( وِجدان),বুদ্ধিবৃত্তি (আকল) ধর্ম,নীতি-নৈতিকতা ও আখলাক বিরোধী চরম বস্তুবাদী,চরম অসভ্য,চরম নির্লজ্জ,চরম অভদ্র,চরম বেয়াদব,চরম হীন-নীচ (চরম ইতর),চরম অশালীন,চরম চরিত্রহীন,চরম লুচ্চা,চরম বদমাইশ,চরম ব্যভিচারী,অপরাধী,চরম পাপী ও চরম অবিবেচক (যালেম)।এরা চরম স্বার্থবাদী ও চরম ভোগবাদীও বটে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ,সুখ ও ভোগানুভূতি ছাড়া আর কিছুই চিন্তা করে না ও বোঝে না।আর আধুনিক পাশ্চাত্য ও প্রাচ্য হচ্ছে চরম সর্বনাশা বস্তুবাদী ধর্মবিরোধী ধ্বংসাত্মক এই আধুনিকতাবাদের প্রবক্তা ও ধ্বজাধারী এবং এরাই গোটা মানব জাতিকে নানা ভাবে ও বিভিন্ন পন্থায় ধ্বংস ও বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে যেগুলোর একটি হচ্ছে মিডিয়া ট্রমা জনিত স্থায়ী মানসিক চাপ,পীড়ন, বিকৃতি ও স্ট্রেস।আর প্রয়োজনীয় তথ্যসমৃদ্ধ ও সুচিন্তিত এ প্রবন্ধে আধুনিক বা অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক সামাজিক ভার্চুয়াল মিডিয়ার ভয়াবহ বাস্তবতার এ চিত্র খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।এ প্রবন্ধ সুপাঠ্য এবং বাংলায় অনুদিত হওয়া উচিত।
ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
আপনার কমেন্ট