হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
রিপোর্ট: মুস্তাক আহমদ
ইতিহাস কখনো মরে না। সে শুধু মুখোশ বদলায়।
ওহুদের ময়দানে আমরা একদিন দেখেছিলাম—ক্ষমতার উন্মাদনায় মানুষ কতটা পশু হয়ে উঠতে পারে। শহীদে আ’জম হযরত হামজা (রাঃ)-এর বুক চিরে কালিজা বের করে চিবিয়ে খাওয়ার সেই দৃশ্য ইসলামের ইতিহাসে শুধু একটি ঘটনা নয়, বরং নৈতিক পতনের চূড়ান্ত প্রতীক। সেই নারীর নাম ইতিহাসে রয়ে গেছে—হিন্দা। সম্পর্কের বিচারে তিনি পরে মুসলিম সমাজে ‘নানী’ নামে পরিচিত হয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—সম্পর্ক কি অপরাধকে পবিত্র করে দেয়?
আজ প্রায় চৌদ্দশ বছর পর, আমরা আবার দাঁড়িয়ে আছি আরেক ওহুদের সামনে— নাম তার এপস্টিন ফাইল। যেখানে নানা, মামুরা খাচ্ছে নারীশিশুর নরম তুলতুলে মাংস ৷ এখানে আর তরবারি নেই, আছে প্রাইভেট জেট। এখানে যুদ্ধের ময়দান নেই, আছে বিলাসবহুল দ্বীপ।
কিন্তু শিকার সেই একই—নিরপরাধ শিশু ও নারী।
আধুনিক যুগের “মাংসখাওয়া”
এপস্টিন ফাইল প্রমাণ করেছে—বিশ্বের ক্ষমতাধর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক এলিটরা দীর্ঘদিন ধরে শিশু ও নারীদের যৌনভাবে শোষণ করেছে। এটা শুধু ধর্ষণ নয়, এটা মানুষত্বকে চিবিয়ে খাওয়া।
রক্ত নয়—কিন্তু আত্মা ক্ষতবিক্ষত।
এটাই আধুনিক যুগের মাংসখাওয়া।
কোরআন বলছে—
“যে একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল।”
(সূরা মায়িদা: ৩২)
শিশুর শৈশব হত্যা করা কি এর বাইরে পড়ে?
দ্বিচারিতার সাম্রাজ্য
সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্নটা এখানে—
যারা নিজেদের মানবাধিকার, নারী স্বাধীনতা আর সভ্যতার ঠিকাদার বলে পরিচয় দেয়, তারাই কেন এই নোংরামির কেন্দ্রে?
আরও ভয়ংকর সত্য হলো—এই শক্তিগুলোর সঙ্গে বহু মুসলিম রাষ্ট্রের ক্ষমতাকাঠামোর আত্মীয়তা, স্বার্থ আর নির্ভরতার সম্পর্ক।
আজ মুসলিম দুনিয়ার বহু শাসকগোষ্ঠীর জন্য
আমেরিকা ও ইজরাঈলের “মামার বাড়ি” সম্পর্ক। বাস্তবে এটাই সত্য৷
কেন?
কারণ রাজনৈতিক বিবাহ, অর্থনৈতিক দাসত্ব আর নিরাপত্তা চুক্তির নামে এমন এক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে—যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললে সিংহাসন নড়ে যায় মুসলমানদের ৫৬টি দেশের শাসকদের।
হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন—
“জালিমের বিরুদ্ধে কথা বলা সর্বোত্তম জিহাদ।”
(নাসায়ী) কিন্তু আজ সেই জিহাদ কোথায়?
সমস্যাটা সম্পর্ক নয়, চরিত্র
ইসলাম আত্মীয়তাকে পবিত্র করেছে,
কিন্তু অন্যায়ের সঙ্গে আপসকে নয়।
হিন্দা যদি একদিন মানুষের বুক চিরে কালিজা চিবিয়ে খায়, আর আজকের ক্ষমতাধররা যদি শিশুদের জীবন, শরীর ও ভবিষ্যৎ চিবিয়ে খায়—
তাহলে যুগ বদলালেও বর্বরতা বদলায়নি।
ফারাক শুধু এটুকু— তখন মানুষ চিৎকার শুনত,
আজ সবকিছু সাউন্ডপ্রুফ দ্বীপে ঘটে।
শেষ কথা
এপস্টিন ফাইল কোনো বিচ্ছিন্ন কেলেঙ্কারি নয়।
এটা আধুনিক সভ্যতার নৈতিক সার্টিফিকেট ছিঁড়ে ফেলার দলিল।
যে সভ্যতা শিশুদের রক্ষা করতে পারে না,
যে নেতৃত্ব ধর্ষকদের আশ্রয় দেয়,
যে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে অপরাধ ঢাকে—
সে সভ্যতা মানুষখেকো,
সে কেবল ছুরি নয়, আইন, মিডিয়া আর নীরবতা দিয়ে মানুষ খায়।
আজ দরকার নতুন করে ওহুদের শিক্ষা পড়া—
কে আত্মীয়, কে শক্তিশালী, কে সভ্য—তা দিয়ে নয়,
বরং কে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ায়—তা দিয়েই মানুষ চেনা।
আপনার কমেন্ট