মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ০৮:২৫
সন্তান যদি বাবাকে ভালো না বাসে, তবে বাবার দ্বীনকেও ভালোবাসবে না

একজন সন্তানের জীবনে বাবার ভূমিকা কেবল কর্তৃত্ব বা ভীতি প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত শিক্ষণ ও আদর্শ গড়ে তোলার জন্য বাবাকে হতে হবে সন্তানের প্রথম বন্ধু—যার সঙ্গে সে খোলামেলা কথা বলতে পারে, খেলাধুলা করতে পারে এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার পরামর্শ নিতে পারে। যদি সন্তান বাবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করতে না পারে, তবে বাবার দ্বীন বা নৈতিক শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহও জন্মাবে না।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: মরহুম আয়াতুল্লাহ হায়েরি শিরাজী (রহ.) তাঁর এক বক্তব্যে সন্তানদের জীবনে পিতার ভূমিকা সম্পর্কে এই গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

তিনি বলেন— শুধু এইটুকু যে সন্তান পিতার প্রতি ভীতি বা কৃত্রিম শ্রদ্ধাবোধ রাখবে এবং বাবার কথায় এসে নীরবে বসে থাকবে— এতে প্রকৃত কোনো ফল আসে না।

বরং পিতার উচিত সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা। তার সঙ্গে খেলাধুলা করা, একসঙ্গে সময় কাটানো এবং সহমর্মিতার সঙ্গে কথা বলা। পিতা যেন সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আচরণ করেন, মনের কথা তার সঙ্গে ভাগ করে নেন, গোপন না রাখেন। প্রকৃতপক্ষে, পিতাকেই হতে হবে সন্তানের জীবনের প্রথম বন্ধু।

আফসোস সেই পিতার জন্য, যে সন্তানের জীবনে দ্বিতীয় বন্ধুর অবস্থানে রয়ে যায়। কারণ, তখন সন্তান বাবার কাছ থেকে যা-ই শোনে, তা সে আগে নিজের প্রথম বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করে। যদি বন্ধু তা অনুমোদন করে, তবে সে গ্রহণ করে; আর অনুমোদন না করলে তা গ্রহণ করে না।

এই প্রসঙ্গে তিনি একটি বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আপনার ঘরে একটি পিংপং টেবিল রাখুন। স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে পিংপং খেলুন। এতে খুব বেশি জায়গাও লাগে না। অথচ এই সাধারণ খেলাধুলার মাধ্যমেই আপনি ধীরে ধীরে আপনার সন্তানকে গড়ে তুলতে পারেন।

এই খেলাধুলার পথ ধরেই তাকে নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলুন। নিজের সঙ্গে তার আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি করুন, যাতে সে আপনাকে ভালোবাসে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপনার সঙ্গ কামনা করে। তখন আপনি যখন বলবেন, “আমি নামাজ পড়তে যাচ্ছি”, সে নিজে থেকেই বলবে, “আমিও যাব।”

কারণ বাস্তবতা হলো— সন্তান যদি বাবাকে ভালোবাসতে না শেখে, তবে সে কখনো বাবার দ্বিনকেও ভালোবাসবে না।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha