বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ২১:৪৩
ঐক্য সৃষ্টিকারী উপস্থিতি ও ইরানিদের মহোৎসব আমাদের ও দায়িত্বশীলদের কর্তব্য দ্বিগুণ ও অত্যন্ত ভারী করে তুলেছে

ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেন, "জাতির সুস্পষ্ট বার্তা হলো ইসলাম, বিপ্লব ও মূল্যবান শহীদদের আদর্শের প্রতি অটল থাকা, ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতৃত্বের অনুসরণ করা এবং জীবনযাত্রার ও সাংস্কৃতিক সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের দ্বিগুণ প্রচেষ্টা দাবি করা। আশা করি, সম্মানিত সরকার, বিভিন্ন দায়িত্বশীল ও প্রতিষ্ঠান নতুন পরিকল্পনা হাতে নেবে এবং জনগণের অগ্রগতি ও সমস্যা সমাধানে নতুন পথের সন্ধান পাবে।"

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২২শে বাহমান ১৪০৪ তারিখে সাহসী ইরানি জাতির আরেকটি মহাকাব্য সৃষ্টির প্রশংসায় ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান আয়াতুল্লাহ আরাফির বার্তার পূর্ণ বিবরণ নিম্নরূপ:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

ইলাহি অনুগ্রহের মৃদুমন্দ বাতাস ও জাতীয় উপস্থিতির উচ্ছ্বাস ২২শে বাহমান ১৪০৪-এর পদযাত্রাকে ইরান, ইসলাম ও ইসলামি বিপ্লবের ইতিহাসে এক বিস্ময়কর, চমকপ্রদ ও গর্বের ঘটনার রূপে দেখিয়েছে এবং স্বাধীনতা, মুক্তি, ইসলামি প্রজাতন্ত্র, বিশ্বব্যাপী আন্দোলন ও স্বৈরাচার, সাম্রাজ্যবাদ ও বিশ্বশোষণের বিরুদ্ধে সার্বজনীন প্রতিরোধের পতাকাকে আরো উন্নীত করেছে। আমরা মহান সত্যের দরবারে মস্তক অবনত করি এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। সাহসী ও সচেতন ইরানি জাতি, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম ও পরিবর্তনকামী এবং সজাগ তরুণদের প্রতি আমরা অন্তর থেকে অভিবাদন ও বিনয়াবনত জানাই এবং আন্তরিকভাবে এই ঈমানি, জাতীয় ও সার্বজনীন উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনার প্রশংসা করি, যা গ্রাম ও শহর থেকে শুরু করে মহানগরী, বিশেষ করে তেহরান ও কোম পর্যন্ত বিস্তৃত—একে মূল্যায়ন, কদর ও কৃতজ্ঞতা জানানো প্রয়োজন। 
এটা স্পষ্ট যে, ইসলাম, ইরান ও ইসলামি ব্যবস্থার এই জাঁকজমক ও গৌরব নিপীড়ক, দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিদ্বেষপূর্ণ শত্রুকে পশ্চাদপসরণে বাধ্য করবে এবং নিপীড়িত, ন্যায়প্রিয় ও সত্য সন্ধানীদের শক্তিশালী ও আশাবাদী করবে এবং বিশ্বে ইরান ও তার মহান জাতির কেন্দ্রীয় অবস্থানকে আরো সুউচ্চ করবে। কিন্তু এই ঐক্য সৃষ্টিকারী উপস্থিতি ও ইরানিদের মহোৎসব আমাদের ও দায়িত্বশীলদের কর্তব্য দ্বিগুণ ও অত্যন্ত ভারী করে তুলেছে।

বিশ্ব ও সমাজ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে আরও ভালোভাবে জানা, সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের সাথে আন্তরিক ও বৌদ্ধিক সম্পর্ক স্থাপন ও জোরদার করা, জিহাদ তাবইন ও সুস্পষ্ট ঘোষণার জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা, ইসলামি বিপ্লবের অর্জনসমূহ চিত্রিত করা, ইসলামের সভ্যতামূলক বক্তৃতার ধারা ও তার সাম্রাজ্যবাদের সাথে মোকাবিলার ক্ষেত্রসমূহ ব্যাখ্যা করা এবং নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা—এই সবকিছুই নির্বাহী, আইন প্রণয়ন, বিচার বিভাগীয়, সাংস্কৃতিক ও প্রচারমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর দায়িত্বের অংশ।

জাতির সুস্পষ্ট বার্তা হলো ইসলাম, বিপ্লব ও মূল্যবান শহীদদের আদর্শের প্রতি অটল থাকা, ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতৃত্বের অনুসরণ করা এবং জীবনযাত্রার ও সাংস্কৃতিক সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের দ্বিগুণ প্রচেষ্টা দাবি করা। আশা করি, সম্মানিত সরকার, বিভিন্ন দায়িত্বশীল ও প্রতিষ্ঠান নতুন পরিকল্পনা হাতে নেবে এবং জনগণের অগ্রগতি ও সমস্যা সমাধানে নতুন পথের সন্ধান পাবে।

শান্তি ও দরুদ বর্ষিত হোক হজরত ওয়ালিয়ে আসর (আ.)-এর প্রতি এবং গৌরবময় শহীদ ও শহীদদের ইমাম এবং মহান ইরানি জাতির প্রতি।

আলী রেজা আরাফি

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha