হাওজা নিউজ এজেন্সি: দীর্ঘ ৪৭ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ২২ বাহমান (১১ ফেব্রুয়ারি) ইসলামী বিপ্লব বিজয় দিবস মিলিয়ন মিলিয়ন (কোটি কোটি) মানুষের অংশগ্রহণে সতেজ, উদ্দীপ্ত, বিপ্লবী ও ঈমানী চেতনায় ভরপুর, প্রাণবন্ত ও অম্লান রয়ে গেছে। ইসলামী বিপ্লব ও প্রজাতন্ত্রবিরোধী পশ্চিমাদের বিষবাষ্পপূর্ণ ব্যাপক অপপ্রচার ও প্রচারণা সত্ত্বেও এ বিপ্লবী উদ্দীপনা পুরোনো হয়ে যায়নি; বরং সমগ্র ইরানজুড়ে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের এমন বিশাল মিছিল ও শোভাযাত্রা পৃথিবীর ইতিহাসে সত্যিই বিরল ও অভূতপূর্ব।

এ বছর ইসলামী বিপ্লব বিজয় বার্ষিকীর মিছিল ও শোভাযাত্রা পূর্বের বছরগুলোর তুলনায় ছিল আরও ব্যাপক ও বিশাল। সকাল ৯টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা আগ থেকেই লোকজনের প্রচণ্ড ভিড় ও সমাগম লক্ষ্য করা যায়। সব সময়ের মতো এ বছরও সমাজের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিপ্লব বিজয় বার্ষিকীর মিছিল ও শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী ইসলামী বিপ্লব বার্ষিকীর মিছিলে এই অসাধারণ ও অভূতপূর্ব উপস্থিতির জন্য ইরানি জাতির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গতকালের এ মহা ঘটনা কাছ থেকে না দেখলে উপলব্ধি ও বিশ্বাস করা সত্যিই কঠিন।
গত জানুয়ারিতে পশ্চিমাদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ষড়যন্ত্রমূলক উস্কানি ও প্ররোচনায় এবং প্রত্যক্ষ মদদে সৃষ্ট গোলযোগ ও ফিতনার আগুন নেভানোর লক্ষ্যে এক মাস পূর্বে, ২২ দেই (১২ জানুয়ারি ২০২৬) সমগ্র ইরানজুড়ে মিলিয়ন মিলিয়ন ইরানি জনতা একই ধরনের সমাবেশ ও মিছিল করেছিল।

এছাড়া আগামী ২২ এসফান্দ (১৩ মার্চ ২০২৬), যা ২৩ রমজান মোতাবেক জুম‘আতুল বিদা (রমজান মাসের শেষ শুক্রবার) ও বিশ্ব আল-কুদস দিবস, সে উপলক্ষেও সারা ইরানজুড়ে মিলিয়ন মিলিয়ন ইরানি জনতার অংশগ্রহণে মিছিল ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি বিশাল সমাবেশের আয়োজন সত্যিই বিস্ময়কর ও গৌরবজনক।
মহান আল্লাহর অপার কৃপা ও অনুগ্রহে জাতীয়, আন্তর্জাতিক এবং মুসলিম উম্মাহর নানা ক্রান্তিলগ্নে গত ৪৭ বছরে ময়দানে ইরানি জাতির এই বৈপ্লবিক উপস্থিতি শত্রুদের সব ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ ও ভণ্ডুল করে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। তাই নিঃসন্দেহে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের দিবস ২২ বাহমান (১১ ফেব্রুয়ারি) ইয়াওমুল্লাহ (মহান আল্লাহর দিবস) এবং ‘নাবা-ই আযীম’—অর্থাৎ মানবজাতির ইতিহাসের মহা ঘটনাবলীর অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের ৪৭ বছরের মাথায় সর্ববৃহৎ বিশ্ব কুফরি শক্তি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মোকাবিলায় ফিলিস্তিন ও আল-কুদস মুক্ত করার অভিপ্রায় নিয়ে দৃঢ় ও অটল পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে আছে ইসলামী বিপ্লবী ইরান। তাই যে কোনো সময় মহাসমর অত্যাসন্ন—এমন ধারণাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এর অর্থ, অজস্র চেষ্টা সত্ত্বেও বিশ্ব লুটেরা শক্তি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ন্যাটো জোট ইসলামী বিপ্লবী ইরানকে বিচ্যুত করতে পারেনি। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী–এর সুযোগ্য নেতৃত্বে ইরান মাথা ও বুক উঁচু করে ইসলামী উম্মাহর সুরক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। এমনকি ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শাহাদাত বরণ করলেও তিনি মহান আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে অটল ও দৃঢ়পদ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বিশ্বের সকল মুসলমানের উচিত—এবং এটি তাদের ঈমানি দায়িত্ব—এই বীর, সাহসী, অশীতিপর মহান নেতা ও ইসলামী বিপ্লবী ইরানকে সর্বাত্মকভাবে সমর্থন, সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা করা।
লেখক: মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান, ইসলামি চিন্তাবিদ গবেষক ও লেখক
১৩-২-২০২৬
আপনার কমেন্ট