শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ২১:৫৭
"শক্তিশালী ইরান" গড়ে তোলাই বিশ্বের অহংকারী শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের একমাত্র মুক্তির পথ

হাওজা / কোমের জুমার খতিব জোর দিয়ে বলেছেন যে, 'শক্তিশালী ইরান' বাস্তবায়ন বিশ্বের অহংকারীদের (মুস্তাকবেরিন) বিরুদ্ধে ইরানের জনগণের একমাত্র মুক্তির পথ। তিনি বলেন, মার্কিন সরকার যদি খুব বড় ভুল করে তবে তাকে তার নিজের সৈন্য ও কূটনীতিকদের মৃতদেহের জন্য অনেক কাফনের কাপড় প্রস্তুত করতে হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৪শে বাহমান ১৪০৪ ফারসি সনে (ইসলামী বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকীর রাষ্ট্রীয় সমাবেশের পরের শুক্রবার) খুতবায় আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুহাম্মদ সাঈদী বিপ্লবের বার্ষিকীর সমাবেশে জনগণের শত্রু-বিদারক, সচেতন ও ঐতিহাসিক উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনি জ্ঞানী ও বেলায়েত ফকিহ অনুসারী জনগণ, ইসলামী বিপ্লবের সুস্পষ্ট বার্তা অতীতের চেয়ে আরও জোরালোভাবে বিশ্ববাসীর কানে পৌঁছে দিয়েছেন এবং এই সময়ে যারা নিজেদের গণমাধ্যম দিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে কথা বলছিল, সেই বাজে কথাবাদীদের সামনে এই ঐশী ব্যবস্থার জনগণের ঐক্য, সংহতি, মহত্ত্ব ও শক্তির সুন্দর দৃশ্য প্রদর্শন করেছেন।

কোমের জুমার খতিব আরও বলেন, বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতাও একটি বার্তায় জনগণের এই লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশের প্রশংসা করেছেন এবং এই আন্দোলনকে শত্রুদের হতাশার কারণ হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে জাতীয় সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, 'শক্তিশালী ইরান' তত্ত্বটি ১৩৯০ সালের (ফারসি সন) শুরু থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জন্য একটি সামগ্রিক কৌশল হিসেবে বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। 'শক্তিশালী ইরান' বাস্তবায়ন বিশ্বের অহংকারীদের অত্যধিক দাবির বিরুদ্ধে ইরানের জনগণের একমাত্র মুক্তির পথ। একটি জাতির জন্য জাতীয় শক্তি একটি অত্যাবশ্যক বিষয় এবং সব মতের মানুষই এই বিষয়টি মেনে নেয়।

কোমের জুমার ইমাম আরও বলেন, জীবনযাত্রার ধরন ও পোশাকের ধরন জাতীয় শক্তির অন্যতম উপাদান, এই কারণেই এটির উপর জোর দেওয়া হয় এবং শত্রুরাও এটির উপর মনোযোগ দিয়েছে। আতাতুর্ক তুরস্কে এমনই একটি বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল এবং মানুষকে তাদের নিজস্ব পরিচয় থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। ইসলাম বিদ্বেষী রেজা খানও ইরানে একই পদ্ধতি চালু করেছিলেন, যার ফলে দেশটি আজও এই রেজা খানের বিশ্বাসঘাতকতার সাথে জড়িত।

তিনি আরও বলেন, শত্রুরা এই উপাদানটি সম্পর্কে সচেতন এবং যেহেতু এটি তাদের নিজস্ব স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক, তাই তারা কঠোর ও নরম পদ্ধতিতে আপনাদেরকে এর উচ্চ স্তরে পৌঁছাতে বাধা দিতে চায়।

কোমে ওযালিয়ে ফকিহের প্রতিনিধি বলেন, ইরানের জনগণের ২২শে বাহমান সমাবেশে ঐতিহাসিক উপস্থিতি ছিল বিশ্বের অহংকারীদের হতাশ করার একটি উপায়। তারা এখনও জনগণের এই সচেতন ও জ্ঞানগর্ভ উপস্থিতিতে বিস্মিত। আপনারা এই বিরাট আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের হতাশ ও চিন্তিত করে তুলেছেন। আমাদের জাতির অহংকারীদের সাথে মোকাবিলা ও সংগ্রাম শুধু সমাবেশ ও জমায়েতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আমাদের জাতির কুফরি শিবিরের সাথে মোকাবিলা চলতেই থাকবে যতক্ষণ না আমরা মহাশক্তিধরদের জুলুমের প্রাসাদগুলো ভেঙে ফেলি।

তিনি আরও বলেন, ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর হামলাকারীরা জেনে রাখুক, আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে তওহীদের পতাকা তোমাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাসাদ ও অত্যাচারীদের উপর উড়িয়ে দেব। যদিও তোমরা ইরানে ফ্যাসাদ ও ফিতনা সৃষ্টি করেছ, কিন্তু আমরা ঐশী সাহায্যের ওয়াদায় বিশ্বাস করে এবং ওলায়ে ফকিহ অনুসারী ও বীর জনগণের সহায়তায় তোমাদের ফিতনা মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং আমরা তোমাদের ফিতনা কঠোর ও নরম উভয় স্তরেই পরাস্ত করব।

কোমের জুমার খতিব স্মরণ করিয়ে দেন, যদি আমাদের জাতি সমাবেশে 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক' স্লোগান দেয়, তাহলে তা মার্কিন জনগণের উদ্দেশ্যে নয়। একটি জাতি হিসেবে মার্কিন জনগণের সাথে আমাদের কোনো সমস্যা নেই; বরং আমরা সেই দুষ্ট ও মন্দ মার্কিন সরকারগুলোর মুখোমুখি হচ্ছি যারা বছরের পর বছর ধরে আমাদের জাতি ও দেশের সাথে শত্রুতা করে আসছে।

মার্কিন সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে তোমাদের এক ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে এবং জেনে রাখো, তোমাদের এই সমস্ত সম্পদ ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানার সীমার মধ্যে রয়েছে। মার্কিন সরকার যদি ভুল করে তবে তাকে তার নিজের সৈন্য ও কূটনীতিকদের মৃতদেহের জন্য অনেক কাফনের কাপড় প্রস্তুত করতে হবে।

হযরত মাসুমেহ (সা.)-এর পবিত্র দরগাহের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, শাবান মাসের শেষ দশকটি মসজিদ সম্মাননার দশক। ইসলামের সূচনা থেকে আজ অবধি, মসজিদ হল স্পন্দনশীল হৃদয় যা ইসলামী সমাজের বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। মসজিদ হল শত্রুদের নরম যুদ্ধ মোকাবিলার কেন্দ্র এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিহাদি কার্যক্রম সংগঠিত করার কেন্দ্র। মসজিদ ধর্ম ও জীবনের মধ্যে নিজের সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

কোমের জুমার ইমাম জোর দিয়ে বলেন, এই গৌরবময় ঐতিহ্যের সাথে মসজিদ সর্বদা ইসলামের শত্রুদের বিদ্বেষ ও লক্ষ্যের শিকার হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতেও প্রায় ৩০০টি মসজিদের পবিত্রতা ভঙ্গ করা হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় আঘাত পেয়েছে। কিন্তু ইতিহাস দেখিয়েছে যে শত্রুরা প্রতিবার মসজিদ ভাঙচুর, কোরআন পোড়ানো এবং পবিত্র বিষয়গুলোর অপমান করে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও পবিত্র বিষয়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা ধ্বংস করতে চেয়েছে, আর জনগণ তাদের ভালোবাসা, উদ্দীপনা ও দানের মাধ্যমে মসজিদগুলো পুনর্নির্মাণ করেছে এবং আরও বেশি জ্ঞান ও অনুরাগ নিয়ে হারাম ও মসজিদগুলোতে উপস্থিত হয়েছে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha