রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ২১:৪৩
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি হুমকি মুসলিম উম্মাহর ‘লাল রেখা’: ভারতীয় উলামা পরিষদের মহাসচিব

ভারতের মজলিসে উলামায়ে হিন্দ-এর মহাসচিব হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ কালবে জাওয়াদ নাকাভি ‘শান্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী অথবা পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি মুসলিম উম্মাহর জন্য অগ্রহণযোগ্য এবং এটি তাদের ‘লাল রেখা’।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ কালবে জাওয়াদ নাকাভি  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং যুদ্ধ উসকানি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অবিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ওপর জোর দেন।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
হুজ্জাতুল ইসলাম নাকাভি গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বহু সাংবাদিক নিহত হলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তা যথাযথভাবে নিন্দা করছে না। তাঁর অভিযোগ, ফিলিস্তিনে চলমান দমন-পীড়নের বাস্তবতা আড়াল করে কিছু গণমাধ্যম ভিন্ন বয়ান প্রচার করছে। তিনি সতর্ক করেন, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি হুমকি মুসলিম উম্মাহর ‘লাল রেখা’: ভারতীয় উলামা পরিষদের মহাসচিব

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নীতিকে সমর্থন দিচ্ছে। একই সঙ্গে শহীদ হাসান নাসরুল্লাহ ও শহীদ কাসেম সোলাইমানিকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উপস্থাপনের সমালোচনাও করেন।

হুমকি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি
তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বা পবিত্র স্থানগুলোর ওপর আঘাত এলে তা সহ্য করা হবে না। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিষয়টি ভারতের সরকারের কাছেও উত্থাপন করা হবে।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে যেমন দুর্বল দেশগুলো দখল ও তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়েছে, তেমনি আজও একই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

পাকিস্তানে শিয়া নির্যাতন ও শান্তির আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানানো হয় এবং পাকিস্তানে শিয়াদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি হুমকি মুসলিম উম্মাহর ‘লাল রেখা’: ভারতীয় উলামা পরিষদের মহাসচিব

অন্য বক্তারা বিশ্বশান্তি, আন্তধর্মীয় ঐক্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থানের আহ্বান জানান। তারা বলেন, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

সভা শেষে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়—

১. ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে হত্যার বা অপহরণের সব ধরনের হুমকি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

২. আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. যুদ্ধের হুমকির পরিবর্তে কূটনীতি ও সংলাপকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৪. বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha