হাওজা নিউজ এজেন্সি: পাকিস্তানের করাচি শহরে আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এক বৃহৎ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদের খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে সংঘটিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
সমাবেশে উপস্থিত আলেমরা সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিস্তার রোধ করা রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির নিন্দা
সমাবেশে পাকিস্তানের মজলিসে ওয়াহদাতুল মুসলিমিনের মহাসচিব হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ হাসান জাফর নাকাভী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত হুমকির তীব্র নিন্দা জানান। তিনি এ ধরনের বক্তব্যকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও প্রতিরোধের প্রতীক। তাঁর বিরুদ্ধে যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ গোটা অঞ্চলে গুরুতর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

পাকিস্তানের আলেমরা আরও বলেন, ইরান ও পাকিস্তান ভ্রাতৃপ্রতিম দুই মুসলিম দেশ; তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক বিদ্যমান। ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপকে তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন।
জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান
বক্তারা অভিযোগ করেন, কিছু বৈশ্বিক শক্তি অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সমন্বিত ও কার্যকর কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, পাকিস্তান আর কোনো ধরনের অনিরাপত্তা সহ্য করতে পারে না; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই তাদের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সমাবেশে অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মনোজ চৌহান এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পাস্তর রহমত লাল— ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং জাতীয় সম্প্রীতি ও সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পররাষ্ট্রনীতি ও ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন
সমাবেশের এক পর্যায়ে বক্তারা জাতীয় স্বার্থ ও মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর কল্যাণের আলোকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
আপনার কমেন্ট