হাওজা নিউজ এজেন্সি: “পবিত্র রমজান মাসে প্রবেশের জন্য আত্মিক প্রস্তুতির লক্ষ্য এবং এ মাসের অফুরন্ত রহমত ও বরকত থেকে সর্বোচ্চ উপকার লাভের উপায়” শীর্ষক আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রশ্ন: শাবান মাসের এই শেষ দিনগুলোতে পবিত্র রমজান মাসকে গভীরভাবে উপলব্ধি করা এবং এর অফুরন্ত রহমত, মাগফিরাত ও বরকত থেকে সর্বোচ্চ কল্যাণ অর্জনের জন্য আমার কী করণীয়? কীভাবে আমি নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে পারি, যাতে এ মাসের পূর্ণ সুফল লাভে সক্ষম হই?
উত্তর: রমজানের প্রকৃত কল্যাণ লাভের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো আন্তরিক তওবা। আল্লাহ তাআলার দরবারে বিনম্রচিত্তে ফিরে আসা, অতীতের গুনাহের জন্য গভীর অনুতাপ প্রকাশ করা এবং ভবিষ্যতে সেগুলো থেকে বিরত থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করা—এটাই সত্যিকারের তওবার রূপ। তওবা কেবল মুখের উচ্চারণ নয়; এটি অন্তরের পরিবর্তন এবং জীবনধারার সংশোধনের অঙ্গীকার।
এরপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো গুনাহ থেকে সচেতন ও দৃঢ়ভাবে বিরত থাকা। কারণ গুনাহ অন্তরকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে এবং ইবাদতের স্বাদ নষ্ট করে দেয়। যে ব্যক্তি রমজানের পূর্বেই নিজেকে পাপমুক্ত রাখার চেষ্টায় সচেষ্ট হয়, তার জন্য রমজানের নূর ও বরকত গ্রহণ করা সহজতর হয়।
তৃতীয়ত, আল্লাহর সঙ্গে গভীর ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা অপরিহার্য। বেশি বেশি জিকির, দোয়া, ইস্তিগফার ও মুনাজাতের মাধ্যমে অন্তরকে কোমল ও সজীব রাখতে হবে। একান্ত নির্জনে প্রভুর সঙ্গে কথা বলা, নিজের দুর্বলতা স্বীকার করা এবং তাঁর রহমতের প্রত্যাশা করা—এগুলো আত্মিক পরিশুদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সবশেষে, রমজানকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক রোজার মাস হিসেবে নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। শাবান মাসের শেষ দিনগুলো যদি আত্মসমালোচনা, তওবা ও ইবাদতের মাধ্যমে কাটানো যায়, তবে রমজান হবে সত্যিকার অর্থেই পরিবর্তনের মাস—আত্মার পুনর্জাগরণের মাস।
আপনার কমেন্ট