বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৫:২৫
ট্রাম্পের অনিচ্ছাকৃত সেবাই এখন মানবতার জাগরণের কারণ

যারা নিজের অন্তরের টানে সত্য খুঁজে বেড়ান, তারা আজ আগের চেয়ে অনেক পরিষ্কারভাবে সত্যিটা উপলব্ধি করতে পারছেন। কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিমা বিশ্বের মুখোশ খুলে দিয়ে সেই সভ্যতার আসল চেহারা—যা যুক্তিহীন ও নীতিহীন—সবার সামনে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: প্রয়াত আল্লামা মুহাম্মাদ তাকি মিসবাহ ইয়াজদি তাঁর এক বক্তৃতায় “মানবতার জাগরণে ট্রাম্পের অনিচ্ছাকৃত অবদান” নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা আজ নতুন করে ভাবায়। আসুন, তাঁর সেই বক্তব্যের কিছু অংশ জেনে নেই।

যারা সত্যিই নিজের সহজাত মানবিক বোধ থেকে সত্যের সন্ধান করেন, তারা এখন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন যে এই নিষ্ঠুরতা আর অরাজকতা কোথাও পৌঁছাবে না। তার ওপর এই ট্রাম্প সাহেব তো সবকিছু পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি যেন পর্দা পুরোপুরি সরিয়ে দিয়েছেন—এখন সবকিছু স্পষ্ট, সবাই বুঝতে পারছেন।

আসলে তিনি সবচেয়ে বড় একটা কাজ করে দিয়েছেন। ইউরোপীয়-পশ্চিমা সভ্যতার আসল চেহারা তিনি সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছেন—যে এই সভ্যতা কোনো নীতি-আদর্শে বিশ্বাস করে না। যুক্তি না, নৈতিকতা না, কোনো প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার না—কিছুতেই তাদের আস্থা নেই। তাদের কাছে শুধু অর্থই মুখ্য, শুধু পুঁজিই মূলমন্ত্র। ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, “ধনীদের দুধ দোহন করাই আমার কাজ।”

তাই যার মধ্যে এখনো মানবিক বোধ জাগ্রত আছে, সে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছে যে এ এক নজিরবিহীন বর্বরতা, ইতিহাসে যার তুলনা নেই। আমরা আশা করি, এই ঘটনাই হয়ে উঠুক ওই সভ্যতার পতনের সূচনা।

আল্লাহ চাইলে নিশ্চয়ই তিনি জানেন কী করতে হবে। আমাদের এখন দেখতে হবে আমাদের কর্তব্য কোথায়। এই পরিস্থিতিতে আমাদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত—সেই বিবেচনা করতে হবে। আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কোনো ত্রুটি যেন না হয়।

এই দ্বীন, যার ওপর আমরা বিশ্বাস রাখি, যাকে আমরা সত্য বলে জানি এবং অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই—সবচেয়ে আগে আমাদের নিজেদেরই তার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে।

ট্রাম্পের অনিচ্ছাকৃত সেবাই এখন মানবতার জাগরণের কারণ

আমাদের একটাই কাজ করা উচিত: আল্লাহর দ্বীন প্রচার ও সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা যা পারি, তা যেন কোনো ক্রটিতে না হয়। যতটুকু সামর্থ্য আমাদের, তার পুরোটাই কাজে লাগাতে হবে। আল্লাহ নিজেই বলেছেন, “আমি কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দিই না” (সূরা মুমিনুন: ৬২)। তিনি আমাদের সাধ্যের বাইরে কিছু চান না। শুধু নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যেতে বলেন; আর প্রতিশ্রুতি দেন, “তোমরা যদি চেষ্টা চালিয়ে যাও, আমি তোমাদের সাহায্য করব।”

সূত্র: প্রয়াত আল্লামা মিসবাহ ইয়াজদি, ২০১৮ সালের ২৭ মার্চ (১৩৯৭/০১/০৭ হিজরি সৌর) প্রদত্ত বক্তৃতা থেকে সংগৃহীত।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha