মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ০৯:১৭
হিজবুল্লাহ মহাসচিব: প্রতিরোধ আন্দোলন লেবাননের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে চায়

হিজবুল্লাহ মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম বলেছেন, প্রতিরোধ আন্দোলন কোনো বিভেদ সৃষ্টি করতে চায় না; বরং তারা জাতীয় লেবানিজ সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে চায়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: গতকাল সোমবার শহীদ নেতাদের বার্ষিক স্মরণসভায় দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

শহীদ নেতাদের স্মরণে আয়োজন
হিজবুল্লাহ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট প্রতিরোধ নেতা শেখ রাগেব হার্ব, সাবেক মহাসচিব সাইয়্যেদ আব্বাস আল-মুসাভি এবং জিহাদি কমান্ডার হাজ্ব ইমাদ মুগনিয়াহকে স্মরণ করা হয়। ইসরায়েলি অভিযানে নিহত এই তিন নেতা হিজবুল্লাহর প্রতিষ্ঠা ও সামরিক বিকাশে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন।

প্রতিরোধের পথে অটল থাকার অঙ্গীকার
নাইম কাসেম ভাষণের শুরুতে বলেন, “আমরা শহীদ নেতাদের পথ অনুসরণ করব, ইনশাআল্লাহ। মুক্তি অর্জনের জন্য দখলদারিত্বের মোকাবিলায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই হবে।”

হিজবুল্লাহকে বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা একটি জাতীয়, দেশপ্রেমিক, ইসলামি এবং মানবিক প্রতিরোধ আন্দোলন।”

ইসরায়েল প্রসঙ্গে কঠোর সমালোচনা
হিজবুল্লাহ নেতা ইসরায়েলকে “সম্প্রসারণবাদী সত্তা” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটি “সমগ্র ফিলিস্তিন দখলের পরিকল্পনা করছে।” তিনি অভিযোগ করেন, “ইসরায়েল গাজার ৬০ শতাংশ এলাকা দখল করে রেখেছে এবং অবশিষ্ট অংশে প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছে।”

নাইম কাসেম আরও দাবি করেন, ইসরায়েল কেবল ফিলিস্তিন নয়, সমগ্র অঞ্চল দখলের পরিকল্পনা করছে।

লেবাননের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার আহ্বান
হিজবুল্লাহ প্রধান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হিজবুল্লাহ বিভেদের বিরোধিতা করে এবং লেবাননের সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে সমর্থন দেয়।”

তিনি জাতীয় ঐক্য, পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও মুক্তির পক্ষে এবং সকল প্রকার ফিতনার বিপক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। নাইম কাসেম বলেন, “আমরা চাই লেবানিজ সেনাবাহিনী সঠিকভাবে সশস্ত্র হোক, যাতে তারা ইসরায়েলি শত্রুর বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে।”

সরকারের সমালোচনা
হিজবুল্লাহ নেতা লেবাননের সরকারের সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, “কেন লেবাননের সরকার ছাড় না দিয়ে জাতীয় প্রতিরক্ষা বিষয়ে আলোচনার জন্য পর্যায়ক্রমে বৈঠক করে না?”

নাইম কাসেম লেবাননের সরকারের নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে “গুরুতর ভুল” হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা “ইসরায়েলি শত্রুর লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করছে।”

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা যদি আত্মসমর্পণ করতে চান, তবে সংবিধান সংশোধন করুন।”

যুদ্ধ না চাওয়া কিন্তু প্রতিরক্ষায় প্রস্তুত
নাইম কাসেম তার ভাষণের শেষ পর্যায়ে স্পষ্ট করেন, “হিজবুল্লাহ যুদ্ধ চায় না, তবে লেবানন রক্ষায় প্রস্তুত। যুদ্ধক্ষেত্রই তা প্রমাণ করবে।”

তিনি বলেন, “যুদ্ধ শুরু করা আর আগ্রাসনের মোকাবিলা করার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। আমরা প্রতিরক্ষায় প্রস্তুত। হুমকির কাছে মাথা নত করব না।”

আন্তর্জাতিক চাপ ও আমেরিকার ভূমিকা
হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, “আমরা বিনামূল্যে কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত নই, না আমরা আমেরিকান, আন্তর্জাতিক ও আরব অভিভাবকত্বের আদেশ বাস্তবায়নে প্রস্তুত।”

তিনি দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লেবাননকে দুর্বল করার বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করছে—মূলত নিরস্ত্রীকরণ এবং দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার আহ্বানের মাধ্যমে।

নভেম্বর ২০২৪ চুক্তি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গ
বাইম কাসেম উল্লেখ করেন যে ২০২৪ সালের নভেম্বরে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লেবানন পরোক্ষভাবে বাস্তবায়ন করলেও ইসরায়েল তা বাস্তবায়ন করেনি।

হিজবুল্লাহ-আমাল আন্দোলন ঐক্য
কাসেম হিজবুল্লাহ ও আমাল আন্দোলনের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্যের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমরা ও আমাল আন্দোলন মৌলিক জাতীয় ইস্যুতে একই অবস্থান ধারণ করি।”

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha