শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৯:৫১
রপ্তানি ও বিনিয়োগ বাড়লেই অর্থনীতির চাকা সচল হবে; বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর

ইরানের পবিত্র নগরী কোমের ব্যবসায়ী সমিতি ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাতে দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় নেতা ও হাওজায়ে ইলমিয়ার প্রধান আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আ'রাফি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রপ্তানি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য হাওজা ইলমিয়ার (ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) পক্ষ থেকে প্রস্তুতি ব্যক্ত করেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: কোমে অবস্থিত ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের কেন্দ্রীয় দপ্তরে আয়োজিত এই বৈঠকে আয়াতুল্লাহ আ'রাফি বলেন, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগই দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি।

কোমের ঐতিহাসিক মর্যাদা
বৈঠকে ইসলামী ইতিহাসে কোম নগরীর মর্যাদা তুলে ধরে তিনি বলেন, “কোম এক হাজার ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। ইরানের জাতীয় সম্মাননা হযরত ফাতিমা মাসুমেহ (সা. আ.)-কে এখানে সমাধিস্থ করার আগেও শহরটির ধর্মীয় গুরুত্ব ছিল।”

ইরানের প্রভাবশালী ধর্মীয় নীতি-নির্ধারণী সংস্থা শূরায়ে নিগাহবানের অন্যতম সদস্য আয়াতুল্লাহ আ'রাফি উল্লেখ করেন, তেহরান কিংবা বাগদাদের মতো নগরীগুলো নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও কোম তার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ধারা কখনো হারায়নি। গত এক শতাব্দীতে এটি শিয়া মুসলমানদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

রপ্তানি ও বিনিয়োগ বাড়লেই অর্থনীতির চাকা সচল হবে; বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর

বিশ্বপরিমণ্ডলে কোমের অবস্থান
তিনি বলেন, “ইসলামী বিপ্লবসহ বিশ্বব্যাপী বড় বড় পরিবর্তনের তাত্ত্বিক ও বাস্তব ভিত রচিত হয়েছে কোমের চিন্তাধারা থেকে। ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের ছায়া এখনও বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান।”

আয়াতুল্লাহ আ'রাফি আল-মুস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের (ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) কথা উল্লেখ করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে বিশ্বের ১২০টি দেশের শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এটাই প্রমাণ করে কোম কেবল ইরানের একটি শহর নয়, বরং একটি বৈশ্বিক প্রভাববলয়।

বেসরকারি খাত ও অর্থনীতি
অর্থনীতি প্রসঙ্গে আয়াতুল্লাহ আ'রাফি স্পষ্ট করেন, “আমি বেসরকারি খাতের পক্ষে একনিষ্ঠ সমর্থক, তবে এর ওপর যথাযথ ও স্বচ্ছ তদারকি জরুরি। উৎপাদন ও সেবার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাদের প্রতিটি সম্ভাব্য সহায়তা দেওয়া উচিত।”

তিনি মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দায়ী হলেও বাকি সমস্যা সমাধানে বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করার বিকল্প নেই। রপ্তানি বাড়ানো ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করলেই অর্থনীতির গতি ফিরবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রপ্তানি ও বিনিয়োগ বাড়লেই অর্থনীতির চাকা সচল হবে; বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সহযোগিতা
শহরের উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি বৃহত্তর পরিসরে চিন্তা করার ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। শেষে তিনি ইরানের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাওজা ইলমিয়ার পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতিতে সহায়তার আশ্বাস দেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha