সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১২:১১
রমজানে কুরআনের তাফসির মাহফিল নিয়ে শেখ জাকজাকির নির্দেশনা

রমজানে কুরআনের তাফসির মাহফিল নিয়ে শেখ জাকজাকির নির্দেশনা

রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নাইজেরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে কুরআনুল কারিমের তাফসির মাহফিল ব্যাপকভাবে আয়োজিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে নাইজেরিয়ার ইসলামি আন্দোলনের নেতা শেখ ইব্রাহিম জাকজাকি এক ভিডিও বার্তায় মুফাসসির ও আলিমদের প্রতি আল্লাহভীতি অবলম্বন এবং কালামে পাকের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তাফসিরের মিম্বারকে গালমন্দ, কটাক্ষ ও অগঠনমূলক বিতর্কের জায়গায় পরিণত করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রচারিত ওই বার্তায় শেখ জাকজাকি কুরআনের পবিত্রতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে মুফাসসিরদেরকে তাদের তাফসির মাহফিলে কঠোর শব্দ ব্যবহার ও বিভেদ সৃষ্টিকারী আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কিছু ব্যক্তি তাফসিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশকে সংঘাতের ক্ষেত্রে রূপান্তরিত করছে। শেখ জাকজাকি এ কাজকে কুরআনের প্রতি অসম্মান এবং পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদার পরিপন্থী বলে আখ্যায়িত করেন।

জ্ঞান ও দক্ষতা ছাড়া তাফসিরের ঝুঁকি
শেখ জাকজাকি বলেন, কুরআনের তাফসির কোনো সহজসাধ্য বিষয় নয়। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, একজন মুফাসসির আল্লাহর উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় ব্যাখ্যা করার অবস্থানে থাকেন, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, যদি কেউ কোনো পার্থিব দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কথা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে, তবে সে ভুল করে। তাহলে কীভাবে কেউ নিজেকে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের বাণীকে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে অর্থ করার অনুমতি দিতে পারে?

এ বিষয়ে নবী করিম (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করে শেখ জাকজাকি বলেন, “যে ব্যক্তি জ্ঞান ছাড়া কুরআনের তাফসির করে অথবা তাতে নিজের ব্যক্তিগত মতামত প্রবেশ করায়, সে তার ঠিকানা জাহান্নাম বানিয়ে নেয়।” তিনি হাদিসটিকে তাফসিরের অবস্থানের গুরুত্ব ও সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করে জোর দেন যে, এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মত চাপিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; উদ্দেশ্য শুধু আল্লাহর উদ্দেশ্য বুঝতে পারা।

মুফাসসিরের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা
শেখ জাকজাকি জোর দিয়ে বলেন, তাফসিরের ক্ষেত্রে সবাই প্রবেশের যোগ্য নয়। তিনি ‘যোগ্যতা’ এবং বিশেষ জ্ঞানার্জনকে মুফাসসিরের মৌলিক শর্ত হিসেবে গণ্য করেন। তাঁর মতে, যারা কুরআন বিষয়ক জ্ঞানে যথেষ্ট পারদর্শী নন, তাদের তাফসির করতে নিজেদের বাধ্য মনে করা উচিত নয়। বরং তাদের জন্য শিক্ষার পথে অগ্রসর হওয়া অথবা অভিজ্ঞ আলিমদের ব্যাখ্যা থেকে উপকৃত হওয়া উত্তম।

শেখ জাকজাকি আরও বলেন, একজন মুফাসসিরের অবশ্যই নির্ভরযোগ্য উৎস এবং সালাফদের রচনাবলি—যার মধ্যে মাসুর ও লুগাভি তাফসিরসমূহ রয়েছে—সেগুলোতে প্রবেশাধিকার ও দক্ষতা থাকতে হবে এবং সেগুলোতে ধারাবাহিকভাবে রুজু করতে হবে। তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, প্রতিটি মুফাসসিরের জন্য 'উলুমুত তাফসির' বা তাফসিরের জ্ঞানে দক্ষতা অর্জন করা অপরিহার্য ও অনিবার্য।

মা’রাজে ও বিশেষজ্ঞ আলিমদের কাছে রুজুর প্রয়োজনীয়তা
শেখ জাকজাকি বলেন, যেভাবে মুমিনগণ ফিকহি বিষয়ে মা’রাজে তাকলিদের অনুসরণ করেন, ঠিক সেভাবে কুরআনের অর্থ ও গূঢ় তাৎপর্য বুঝতেও বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ আলিমদের কাছে রুজু করা উচিত। ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে মতামত প্রদান করা ঠিক নয়।

শেষে তিনি সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের কুরআনুল কারিমের মর্যাদা সংরক্ষণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন যে, তাফসিরের মজলিসকে পরস্পরকে দোষারোপ ও পাল্টা জবাবের ক্ষেত্রে পরিণত করলে তা বিভেদ বিস্তার এবং কালামে পাকের আধ্যাত্মিক বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই ডেকে আনবে না।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha