হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের হাওজা ইলমিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাইয়্যেদ মুফিদ হুসাইনি কুহসারি আন্তর্জাতিক কুরআন প্রদর্শনীর সময় হাওজা ইলমিয়ার মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রের স্টল পরিদর্শনকালে হাওজা নিউজের প্রতিনিধির সাথে কথা বলেন।
তিনি এ আলোচনায় সমসাময়িক যুগে পবিত্র কুরআনের গুরুত্বের বিভিন্ন দিক এবং ধর্মীয় ও জ্ঞানভিত্তিক কূটনীতিতে এর অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
ইরানের হাওজা ইলমিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক প্রধান বলেন: পবিত্র কুরআন সকল ধর্ম ও মাজহাবের জন্য একটি অভিন্ন পবিত্র গ্রন্থ।
কুরআন কেবল মুসলিম বিশ্বের আসমানি কিতাবই নয়; বরং এমন একটি গ্রন্থ, যার প্রতি বিশ্বের দুই বিলিয়নেরও বেশি মানুষ ঈমান রাখে। এ কারণেই এটি সব ধর্ম ও বিভিন্ন মাজহাবের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু এবং ধর্মীয় মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জ্ঞানভিত্তিক সংলাপ ও পারস্পরিক আদান-প্রদানের জন্য একটি আন্তর্জাতিক অভিন্ন ভিত্তি হিসেবে পরিচিত।
তিনি আরও বলেন: পবিত্র কুরআন আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর মনোযোগের কেন্দ্র হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী বহু গবেষণা ও অধ্যয়নের মৌলিক উৎস। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে অধ্যয়ন করা হয়। তাই কুরআন কেবল ধর্মীয় কূটনীতিতেই নয়, বরং বৈজ্ঞানিক ও একাডেমিক কূটনীতিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন কুহসারি বলেন: আহলে বাইত (আ.)-এর অনুসারীদের মধ্যে ইরান ও হাওজা ইলমিয়ার আলেমদের বিশ্বপর্যায়ে তাফসিরে কুরআনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, তাফসীরে তাসনিম, যা আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী অমুলি-এর রচনা এবং প্রায় ৮০ খণ্ডে সংকলিত, ইসলামী বিশ্বে এমনকি এর বাইরেও ব্যাপক মনোযোগ অর্জন করেছে।
তিনি বলেন: পবিত্র কুরআনের প্রতি মনোযোগ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর কেন্দ্রিকতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাওজা ইলমিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলোর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সুতরাং এই মহান সক্ষমতাকে বিশ্বে কুরআনিক কূটনীতির প্রসারের জন্য যথাযথভাবে কাজে লাগানো উচিত।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাইয়্যেদ মুফিদ হুসাইনি কুহসারি:
ইরান ও হাওজা ইলমিয়াকে বিশ্বপর্যায়ে তাফসিরে কুরআনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়
হাওজা / হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাইয়্যেদ মুফিদ হুসাইনি কুহসারি বলেন: কুরআনিক কূটনীতির প্রসারের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো পবিত্র কুরআনের সক্ষমতাগুলোকে বিভিন্ন ভাষায় পরিচিত করানো এবং কুরআনভিত্তিক প্রবন্ধ ও গ্রন্থসমূহকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকাশ করা।
আপনার কমেন্ট