বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ০৯:৫৮
হুমকির মুখে আপসকামিতা ও নীরবতা শত্রুকে আরও সাহসী করে তোলে

হাওজা / হাওজা ইলমিয়ার জামেয়া মোদার্রেসীনের উপ-তত্ত্বাবধায়ক ইহুদি বানু নযীরের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে একে চুক্তিভঙ্গ এবং ইসলামী শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের একটি সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এ ঘটনার প্রতি দৃঢ় আচরণ আজকের ফিতনাকারী ও অনুপ্রবেশকারীদের মোকাবিলায় একটি উত্তম আদর্শ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামেয়া মোদার্রেসীন হাওজা ইলমিয়ার উপ-প্রধান আয়াতুল্লাহ আব্বাস কা'আবি কোমে অবস্থিত ইমাম হুসাইন (আ.) বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত পবিত্র কুরআনের ধারাবাহিক তাফসির ক্লাসে সূরা হাশরের প্রাথমিক আয়াতসমূহের তাফসির উপস্থাপন করেন এবং বানু নযীরের ঐতিহাসিক ঘটনাকে বিশ্লেষণ করে একে সমগ্র ইতিহাসে উম্মতে ইসলামের জন্য শিক্ষণীয় বলে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বক্তব্যের শুরুতে গাযওয়ায়ে বানু নযীরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন: বানু নযীর ছিল মদিনার আশপাশে বসবাসকারী ইহুদি গোত্রগুলোর একটি। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল এবং ‘মিসাকুল মদিনা’ (মদিনা সনদ)-এ স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু তারা অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব, রাজনৈতিক শক্তি ও সম্পর্ক ব্যবহার করে একদিকে মদিনার মুনাফিকদের এবং অন্যদিকে কুরাইশের মুশরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নবগঠিত ইসলামী সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালায়।
জামেয়া মোদার্রেসীন হাওজা ইলমিয়া কোমের উপ-প্রধান আরও বলেন: এই ষড়যন্ত্রের নেতৃত্বে ছিল কা'আব ইবনে আশরাফ। সে চল্লিশ আরোহীসহ মক্কায় গিয়ে ইসলামী ফ্রন্টের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কুরাইশের মুশরিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে। গাজওয়ায়ে ইহুদ-এ মুসলমানদের আপাত পরাজয়ের পর তারা ধারণা করেছিল যে ইসলাম দুর্বলতার চূড়ায় পৌঁছেছে এবং চূড়ান্ত আঘাত হানার সময় এসে গেছে।
তিনি বলেন: এই ষড়যন্ত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের প্রজ্ঞাপূর্ণ কৌশল এবং ঈমাম আলী (আ.)-এর নেতৃত্বে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়। বানু নযীরের দশজন শীর্ষ নেতা নিহত হয় এবং কা‘ব ইবন আশরাফও মূল সংঘর্ষের আগেই একটি বিশেষ অভিযানে নিহত হয়।
আয়াতুল্লাহ কা'আবি বলেন: আমাদের উচিত ফিতনাকারীদের ক্ষমতার উৎসগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করা স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার পূর্বশর্ত। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম কখনও বানু নযীরের বিশ্বাসঘাতকতাকে এমনভাবে বাড়তে দেননি যে পরে তারা বলতে পারে—আমাদের এ অর্থ ছিল না, আমাদের এমন উদ্দেশ্য ছিল না, আমরা সংশোধন করতে চাই।
মজলিসে খোবরগানে রাহবারির এই সদস্য আরও বলেন: যদি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম নমনীয়তা প্রদর্শন করতেন, তাহলে হয়তো সাময়িকভাবে এই ফিতনা থেমে যেত; কিন্তু পরবর্তীতে ফিতনাকারীরা আবার শক্তি সঞ্চয় করত। বানু নযীরকে দৃঢ়তার সঙ্গে বহিষ্কার এবং তাদের ক্ষমতার উৎস বিচ্ছিন্ন করা বিদ্রোহী ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করার কারণ হয়েছিল। অভ্যন্তরীণ অনুপ্রবেশ ও ফিতনার মোকাবিলায় আজও এই আদর্শ আমাদের জন্য দিকনির্দেশক; আর হুমকির মুখে আপসকামিতা ও নীরবতা শত্রুকে আরও সাহসী করে তোলে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha