হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
প্রতিবেদন: মুস্তাক আহমদ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi ইসরায়েল সফরে গিয়ে বলেন, “ইসরায়েল ইহুদিদের পিতৃভূমি এবং ভারত মাতৃভূমি।”
ইসরায়েলি পার্লামেন্ট Knesset-এ ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি এ মন্তব্য করেন এবং সেখানে তাকে ‘স্পিকার অফ দ্য নেসেট মেডেল’ সম্মাননা প্রদান করা হয়—যা ঐ প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত।
এই বক্তব্যকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম হয়েছে। বিষয়টি কয়েকটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে—
১. কূটনৈতিক বাস্তবতা বনাম ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতাঃ
—— ভারত দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন প্রশ্নে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছে। একদিকে Israel-এর সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, অন্যদিকে Palestine-এর আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি সমর্থন—এই দ্বৈত নীতিই ছিল ভারতের কূটনৈতিক ঐতিহ্য।
মোদীর বক্তব্যে “পিতৃভূমি” শব্দের ব্যবহার অনেকের মতে শুধু সৌজন্যমূলক নয়, বরং আদর্শিক স্বীকৃতির ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষত যখন ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত এখনো সংবেদনশীল ও চলমান, তখন এমন বক্তব্য ভারতের ঐতিহ্যগত নিরপেক্ষ অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, এটি চরম লজ্জার৷
২. আদর্শিক প্রতীকী ভাষাঃ
—— “পিতৃভূমি” ও “মাতৃভূমি” শব্দ দুটি গভীর আবেগময় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বহন করে। ইসরায়েলকে ইহুদিদের পিতৃভূমি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মানে ঐতিহাসিক-ধর্মীয় দাবিকে সম্মান জানানো। একই সঙ্গে ভারতকে মাতৃভূমি বলা—ভারতের বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয়ের সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
সমালোচকদের মতে, এই বক্তব্য ভারতের সংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতার চেয়ে একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক ঘনিষ্ঠতার প্রতিফলন।
৩. কৌশলগত স্বার্থঃ
—— বাস্তবতা হলো, ইসরায়েল ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সহযোগী। ড্রোন প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। এটি মানবিকতার জন্য হুমচি৷
এই দৃষ্টিকোণ থেকে বক্তব্যটি কূটনৈতিক বিনিয়োগ—যার লক্ষ্য সামরিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করা।
৪. অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাবঃ
—— ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই বক্তব্যের প্রতিফলন থাকতে পারে। শাসক দল দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ককে একটি আদর্শিক মিল হিসেবে তুলে ধরে। ফলে এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সমর্থকদের কাছেও একটি প্রতীকী বার্তা বহন করে।
মোদীর “ইসরায়েল পিতৃভূমি, ভারত মাতৃভূমি” মন্তব্যটি নিছক সৌজন্যমূলক বক্তব্য নাকি একটি বৃহত্তর কৌশলগত ও আদর্শিক অবস্থানের প্রকাশ—তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকবে।
এটি একদিকে দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা নির্দেশ করে, অন্যদিকে ভারতের ঐতিহ্যগত ভারসাম্যপূর্ণ পশ্চিম এশিয়া নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে।
আপনার কমেন্ট