শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬ - ২০:৫৩
এককণ্ঠে প্রতিরোধ: যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্বে মুসলিম ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা

‘ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন—মুসলিম বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যুদ্ধ ও গণহত্যার চিহ্ন স্পষ্ট। নীরব থাকার সময় আর নেই। আজ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিশ্বের নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর পক্ষে এককণ্ঠে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অপরিহার্যতা তুলে ধরা হয়েছে। শিরোনাম: ‘এককণ্ঠে প্রতিরোধ: যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্বে মুসলিম ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা’—যেখানে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা থেকে শুরু করে কূটনৈতিক পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে উম্মাহর নবজাগরণের ডাক দেওয়া হয়েছে।’ হওজা নিউজ এজেন্সিকে বিবৃতি দিয়েছেন হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা জয়নুল আবেদীন (মুবাল্লিগ নেপাল)।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা জয়নুল আবেদীন বলেন, আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয় মুসলিম উম্মাহর জন্য এক গুরুতর আশঙ্কার সংকেত বহন করছে। ফিলিস্তিনের গাজা থেকে শুরু করে ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, মিয়ানমারের রাখাইন, আফগানিস্তান ও আরও বহু স্থানে নিরীহ মানুষ প্রতিদিন সশস্ত্র সংঘাত, গণহত্যা ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পৃথিবীর অন্যান্য শক্তির স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীরবতা উদ্বেগজনক।

মাওলানা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই বিশ্বে মুসলিম উম্মাহর জন্য এককণ্ঠে প্রতিরোধ গড়ে তোলা আর নিছক কাম্য নয়-বরং এটি অপরিহার্য।

আমাদের আহ্বান:

প্রথমত: সকল ভেদাভেদ ভুলে ইসলামের কেন্দ্রীয় ভ্রাতৃত্ববোধে বিশ্বাস স্থাপন। রাজনৈতিক, মতাদর্শগত বা আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব নিরসন করে মানবতার সেবায় একসঙ্গে কাজ করা।

দ্বিতীয়ত: নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর পক্ষে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কার্যকর কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ।

তৃতীয়ত: মুসলিম দেশগুলোকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে স্বনির্ভর হতে উদ্বুদ্ধকরণ, যাতে বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা যায়।

চতুর্থত: জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে উম্মাহর আত্মশক্তি বৃদ্ধি করা, যাতে বিশ্বপরিবেশে মুসলিমরা প্রতিরোধের পাশাপাশি উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি, যুদ্ধ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এককণ্ঠে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমেই মুসলিম বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে। ঐক্য না থাকলে অস্তিত্বের সংকট এড়ানো কঠিন। এককণ্ঠবদ্ধ প্রতিরোধ মানে এই নয় যে আমরা কারোর ওপর আগ্রাসন চাই; বরং যারাই নির্যাতিত, যারাই শান্তি ও ন্যায় বিচার চায়-তাদের পক্ষে দাঁড়ানো।

শেষে তিনি বলেন, আজই হোক সংকল্প-আমরা এককণ্ঠে প্রতিরোধ গড়ব, যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্বে মুসলিম ঐক্যকে অস্ত্র বানাব।

জয় শান্তির, জয় মানবতার।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha