হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, নয়াদিল্লি, ২৬ মে-বিশ্বকবি হাকিম আবুল কাশেম ফেরদৌসি স্মরণোৎসব উপলক্ষে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর। এতে অংশগ্রহণকারীদের সামনে ইরানের কাউন্সিলর বলেন, আজকের জটিল ও উত্তাল বিশ্বে শান্তি, মানবতা ও সহাবস্থানের যে বার্তা বহন করে শাহনামা, তার প্রয়োজন আগের চেয়েও বেশি।
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলনস্থলে ফেরদৌসি-চর্চা
আগা খান কালচারাল ফাউন্ডেশন ও নূর আন্তর্জাতিক মাইক্রোফিল্ম সেন্টারের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক হুমায়ুনের সমাধি জাদুঘরের সম্মেলন কেন্দ্র ও সাউন্ডার নার্সারি কালচারাল কমপ্লেক্সে। অনুষ্ঠানে ছিল শাহনামার বিরল পাণ্ডুলিপি ও পোস্টারের এক চিত্তাকর্ষক প্রদর্শনী, পাশাপাশি একটি একাডেমিক-সাহিত্যিক সভা যাতে কবি, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।
শাহনামা: শুধু মহাকাব্য নয়, সভ্যতার আয়না
বক্তারা শাহনামাকে নিছক একটি কাব্যগ্রন্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাকে ইরান ও বৃহত্তর পারস্য সভ্যতার সাংস্কৃতিক পরিচিতির এক অনন্য দলিল হিসেবে বর্ণনা করেন। এতে মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়পরায়ণতা, দেশপ্রেম ও প্রজ্ঞার যে অমর বাণী বিদ্যমান তা আজকের আন্তর্জাতিক পরিসরেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ফেরদৌসি কেবল ইরানেরই নন, সমগ্র মানব সভ্যতার অহংকার। শাহনামার মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ভাষা ও সাহিত্য জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখে। আজ যখন নানা সংঘাত ও বিভাজনের মুখোমুখি বিশ্ব, তখন ফেরদৌসির কলম থেকে উচ্চারিত সহিষ্ণুতা ও মানবপ্রেমের বাণী আমাদের পথ দেখায়।
ভারত-ইরান সাংস্কৃতিক বন্ধনের নতুন অধ্যায়
এই আয়োজন দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের এক নতুন সেতু হিসেবে কাজ করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা। উপস্থিত ভারতীয় গবেষকরা ফেরদৌসির রচনাভুবনের প্রশংসা করে বলেন, শাহনামা উপমহাদেশের বহু ভাষার সাহিত্যকেও প্রভাবিত করেছে এবং এটি ভারত-ইরানের ভাগ করা ঐতিহ্যের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
প্রদর্শনীতে থাকা শতাব্দীপ্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলো দর্শনার্থীদের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিশেষ করে নূর মাইক্রোফিল্ম সেন্টার থেকে সংগৃহীত দুর্লভ সংস্করণগুলো গবেষক ও কবি-সাহিত্যিকদের গভীর আগ্রহ সৃষ্টি করে।
উপসংহার
মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে যখন সাংস্কৃতিক সংকট ও পরিচয়ের প্রশ্ন জটিল আকার ধারণ করছে, তখন ফেরদৌসি স্মরণোৎসবের মতো উদ্যোগ প্রমাণ করে-প্রাচীন কাব্যের মধ্যেই আজকের সমস্যার সমাধানের বীজ লুকিয়ে থাকতে পারে। ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলরের এই অনুষ্ঠান তাই ছিল একযোগে অতীতকে সম্মান জানানো এবং ভবিষ্যতের জন্য পথনির্দেশ গ্রহণের এক সার্থক প্রয়াস।
আপনার কমেন্ট