হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকুরিয়া, কলকাতা: ‘বল বীর-বল উন্নত মম শির!’-বিদ্রোহের সে চির অমলিন কণ্ঠ আজও বাঙালির মনে দোলা দেয়। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে নানা আয়োজনে তাঁকে স্মরণ করল ইয়ং কলকাতা সংগঠন। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়া সভাঘরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা কবির প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, আবৃত্তি ও সঙ্গীতের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক সনাতন হালদার। তাঁর পরিচালনায় একে একে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা সংগঠনের প্রবীণ উপদেষ্টা গোপাল চক্রবর্তী, এবং অন্যান্য বক্তারা।
গোপাল চক্রবর্তী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম শুধু কবি নন, তিনি ভারতের জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক প্রেরণার নাম। তাঁর লেখা ‘বিদ্রোহী’, ‘ভাঙার গান’, ‘দুর্গম গিরি’-প্রতিটি কবিতায় স্বাধীনচেতার আগুন ঝরে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাঁর অবদান চির স্মরণীয়। আজকের তরুণ প্রজন্ম যদি নজরুলকে অন্তর থেকে পড়ে, তবে দেশপ্রেমের সেই অমৃতধারা আরও বেগবান হবে।”
অন্যান্য বক্তারা নজরুলের ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে মানবতার বাণী ও নিপীড়িতের পক্ষে কণ্ঠস্বরের কথা উল্লেখ করেন। তাঁরা মনে করিয়ে দেন, ভারতের জাতীয় চেতনা গঠনে নজরুলের অসামান্য ভূমিকা- দেশভাগের পরে তাঁর রচনা ‘বিধাতা’, স্বাধীনতা পরবর্তী বাঙালি মননের ভিত্তি নির্মাণে সাহায্য করেছিল।
অনুষ্ঠানে কবির জনপ্রিয় গান ‘কারার ঐ লৌহ-কপাট’, ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি এবং ভজন পরিবেশন করা হয়। ঢাকুরিয়া সভাঘর ছিল উপস্থিত উৎসাহী তরুণ-তরুণী ও প্রবীণ শুভাকাঙ্ক্ষীদের পদচারণায় মুখর। শেষে সংগঠনের সদস্যরা কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’-এই নজরুলের চিরন্তন প্রার্থনাগীতি ধ্বনিত হয় পুরো সভাঘরে।
ইয়ং কলকাতা সংগঠন প্রতি বছর কবির জন্মদিনে এই আয়োজন করে আসছে। আহ্বায়ক সনাতন হালদার সাংবাদিকদের জানান, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য নজরুলের সাহিত্য ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। আজকের অনুষ্ঠানে কবির মর্মবাণী যুবসমাজকে পথ দেখাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”
অনুষ্ঠানের শেষে গোপাল চক্রবর্তী ও ইয়ং কলকাতার পক্ষ থেকে কবি নজরুলের আত্মার শান্তি কামনা করে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়।
আপনার কমেন্ট