হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
بسم الله الرحمن الرحيم
আলহামদুলিল্লাহ, যাঁর নির্দেশে সমগ্র সৃষ্টিজগত পরিচালিত। দরুদ ও সালাম নবি মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি আমাদের কাছে পূর্ণ দ্বীন ও নেতৃত্বের চূড়ান্ত নির্দেশনা পৌঁছে দিয়েছেন।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা আখতার আলী বলেন, গাদীরে খুমের ঘটনা ইসলামি উম্মতের জন্য এক যুগান্তকারী বার্তা বহন করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) হজ্জাতুল বিদার সময় আল্লাহর নির্দেশে ঘোষণা করেছিলেন: “যার যার মাওলা আমি, এই আলী তার মাওলা।”
তিনি বলেন, এই বাণী কেবল ব্যক্তিগত প্রশংসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি উম্মতের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনার স্পষ্ট ইশারা। আজকের প্রেক্ষাপটে গাদীরের বার্তা আমাদের শেখায়:
১. ইসলামি নেতৃত্বের ভিত্তি: ইমামত ও খিলাফত হবে ন্যায়পরায়ণ, আলেম ও আল্লাহর নির্দেশিত ব্যক্তির দায়িত্ব। রাসুলের পরে উম্মতের দায়িত্ব হলো সেই নেতৃত্বকে চিহ্নিত করা যিনি কুরআন ও সুন্নাহর পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম।
২. উম্মতের ঐক্যের সূত্র: গাদীরের বাণীকে কেন্দ্র করে ভেদাভেদ নয়, বরং এটিকে ঐক্যের বিন্দু বানাতে হবে। সকল মুসলিম যেন ইমাম আলী (আ.) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে পারে, কিন্তু মতপার্থক্যকে সংহতিতে রূপ দিতে পারে।
৩. বিচার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা: নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য হলো সমাজে ইনসাফ কায়েম করা। গাদীরের ঘটনা ঘোষণা করে যে নেতৃত্ব কোনো বংশীয় বা পার্থিব স্বার্থের খেলনা নয়-বরং এটি আল্লাহর হুকুম ও জনগণের কল্যাণের মাধ্যম।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা আখতার আলী বলেন, আমাদের উচিত এই মহান ঘটনার শিক্ষা নিয়ে কুরআন ও আহলে বাইতের (আ.) পথ অনুসরণ করা, যাতে উম্মতের বিভক্তি দূর হয় এবং রাসুলের (সা.) স্বপ্নের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য পথের দিশা দিন ও গাদীরের প্রকৃত মর্ম উপলব্ধি করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
ওয়াল্লাহু আলামু বিস সওয়াব
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা আখতার আলী
আপনার কমেন্ট