সোমবার ৮ জুন ২০২৬ - ০১:৩৬
ইরানের নিক্ষেপ করা রকেটে লেখা বার্তা: ‘আমরা এপস্টাইন দ্বীপের দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে লড়ছি’

ইরান অধিকৃত ভূখণ্ডের (ইসরাইল) দিকে নিক্ষেপ করা রকেটের গায়ে ‘এপস্টাইন দ্বীপের দুর্নীতিবাজ চক্রের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা লিখেছে, দাবি করেছে যে বিশ্বকে সুদ ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত করতে তারা যিশু ও মূসার পথ অনুসরণ করছে এবং তাদের জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি ইরান কর্তৃক অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের (ইসরাইল) দিকে নিক্ষেপ করা একাধিক রকেটের গায়ে ফার্সি ভাষায় লেখা একটি বার্তা উদ্ধার করেছে সংবাদমাধ্যম। রকেটের গায়ে হাতে লেখা সেই বার্তাটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

বার্তাটিতে ইরান কেবল সামরিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ নয় বরং এক বৈশ্বিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। রকেটের গায়ে লেখা রয়েছে:

"আল্লাহর নামে। সেই আল্লাহ, যার ক্ষমতা সব নৌযান, বিমান ও সেনাবাহিনীর চেয়েও উচ্চতর। ঈসা (যিশু) ও মূসার প্রভু। বিশ্বের সমস্ত স্বাধীনচেতা মানুষের প্রভু। বিশ্বের সব মানুষের উদ্দেশে বলছি: আমরা একটি অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। এপস্টাইন দ্বীপের দুর্নীতিবাজরা। আমরা নিজেদের জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে আপস করব না। বিশ্বকে দুর্নীতি ও সুদমুক্ত করার জন্য। ঠিক যিশু ও মূসার পথেই।"

এই লেখায় পরোক্ষভাবে ইরান আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত ‘এপস্টাইন দ্বীপ’ কেলেঙ্কারির কথা উল্লেখ করেছে। ইরানের দাবি, তারা কোনো সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধে নয়, বরং বিশ্বব্যাপী এক ‘দুর্নীতিবাজ ও সুদভিত্তিক অর্থনীতির চক্রের’ বিরুদ্ধে লড়াই করছে। একইসঙ্গে তারা নিজেদের জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দানের কথাও বলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রকেটের বডিতে ধর্মীয় ও নৈতিক বাক্য ব্যবহার করে ইরান তাদের হামলাকে কেবল সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং একটি আদর্শিক যুদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে। যদিও অধিকৃত ভূখণ্ডের দিকে রকেট নিক্ষেপের ঘটনাকে অনেক দেশ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে, ইরানের বার্তাটি বিশ্বের কিছু মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এখন পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে এই রকেটের বার্তা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে ইরান সমর্থক অনেকে এ বার্তাকে ‘প্রতিরোধ ও ন্যায়ের পয়গাম’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha