মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬ - ১৭:৩৯
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি সমঝোতার প্রথম ধাপের লক্ষ্য ছিল চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অবসান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি সমঝোতা-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং—এমওইউ) প্রথম ধাপের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সমাধান করা।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: মঙ্গলবার তেহরানে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এবং বিদেশি ও আন্তর্জাতিক মিশনের প্রধানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের পর একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানো জটিল হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষ আলোচনাকে দুই ধাপে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি জানান, সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের দিন থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে। পরবর্তী ধাপের লক্ষ্য হবে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো।

আরাকচির ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরপরই দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরু হবে এবং তা ৬০ দিন ধরে চলবে। এ সময়ের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংঘাত চলাকালেই শুরু হওয়া এবং ১৫ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকা তিন মাসব্যাপী আলোচনার পর প্রথম ধাপের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি জানান, সমঝোতা স্মারকের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু হবে শুক্রবার, ১৯ জুন। তবে যুদ্ধের অবসানের ঘোষণা ইতোমধ্যেই সোমবার সকালে দেওয়া হয়েছে। তার মতে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করাই এই সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।

আরাকচি বলেন, লেবাননের যুদ্ধের অবসানকে ইরান বৃহত্তর সংঘাতের অবসানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছে। কারণ, তেহরানের দৃষ্টিতে উভয় ক্ষেত্রের ঘটনাপ্রবাহ পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সমঝোতার এক পক্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি শাসনব্যবস্থা এবং অন্য পক্ষে রয়েছে ইরান ও হিজবুল্লাহ। তার দাবি, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার অর্থ সেখানে দখলদারিত্বেরও অবসান ঘটানো। ভবিষ্যতে ইসরাইলের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ কিংবা লেবাননের ভূখণ্ডে তাদের অব্যাহত উপস্থিতিকে সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করার জন্য কাতার ও পাকিস্তানের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha