হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৬ জুন ২০২৬ – আসহাবিল কিসা মসজিদে আজকের জুমার খুতবায় হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা গোলাম মুস্তাফা বলেন, কারবালার ময়দানে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাত কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা ক্ষমতার লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল ইসলামের খাঁটি রূপকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এক ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ।
ইসলামে মোহাম্মদী রক্ষায় আত্মত্যাগ
খুতবায় মাওলানা মুস্তাফা উল্লেখ করেন, “ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর নানার দ্বীন-অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রদর্শিত ইসলাম-কে রক্ষা করার জন্যই ইয়াজিদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।” তিনি বলেন, ইয়াজিদ তখন ইসলামকে নিজের মনগড়া রূপে গড়ে তুলতে চেয়েছিল, যা ছিল সম্পূর্ণভাবে ‘ইসলামে মোহাম্মদী’-র পরিপন্থী।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
মাওলানা গোলাম মুস্তাফা কারবালার যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। ৬১ হিজরির ১০ মহররম (৬৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর) ইসলামের নবী মুহাম্মদের নাতি হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর নেতৃত্বাধীন অল্প কয়েকজন সমর্থক ও আত্মীয় এবং উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদের বিশাল বাহিনীর মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তিনি বলেন, ইয়াজিদের নির্দেশেই কারবালা প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (আ.)-কে শহীদ করা হয়।
ইয়াজিদের শাসনব্যবস্থা ও ইসলামের মৌলিক মূল্যবোধ
মাওলানা মুস্তাফা আরও বলেন, ইয়াজিদের শাসনব্যবস্থা ইসলামের মৌলিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাকে পদদলিত করছিল। সেই পরিস্থিতিতে নীরবতা পালন করলে দ্বীন বিকৃত হয়ে যেত-তাই ইমাম হুসাইন (আ.) মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েও সত্যের পতাকা উঁচিয়ে রেখেছিলেন।
তিনি সেদিনের ঘটনাকে ‘সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার চরম আত্মত্যাগের’ ইতিহাস হিসেবে বর্ণনা করেন।
উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে আহ্বান
বক্তব্য শেষে তিনি মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানান, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর এই ত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকতে এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সচেষ্ট হতে।
আসহাবিল কিসা মসজিদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত শতশত মুসল্লি খুতবাটি মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
কারবালার বার্তা
উল্লেখ্য, কারবালার এই মর্মান্তিক ঘটনা আজও মুসলিম উম্মাহর হৃদয়কে কাঁদায়। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর এই আত্মত্যাগ দ্বীনকে বিকৃতি থেকে রক্ষার জন্য এক চিরন্তন উদাহরণ হয়ে রয়েছে।
আপনার কমেন্ট