বুধবার ১ জুলাই ২০২৬ - ১২:৪৩
শহীদ ইমামের জিয়ারতকারীদের সেবায় কোমের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ

হাওজা / হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মালেকি জোর দিয়ে বলেছেন যে, শহীদ ইমামের জানাজার অনুষ্ঠানে আগত জিয়ারতকারীদের আতিথেয়তার জন্য কোমের সব ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি ছাত্রাবাসের কক্ষ, নামাজঘর, গ্রন্থাগার এবং অন্যান্য শিক্ষামূলক স্থানসহ প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা জিয়ারতকারীদের সেবায় ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, কোম প্রদেশের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের এক মতবিনিময় সভায়-যা দারুশশিফা উচ্চ মাদ্রাসার আমিরুল মুমিনীন (আ.) সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়-কোমের হাওজা ইলমিয়ার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মালেকি দেশের বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতি এবং "শহীদ ইমাম"-এর পবিত্র মরদেহের জানাজার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এটি সমসাময়িক ইতিহাসের এক বিরল ঘটনা।

তিনি বলেন, রোজা অবস্থায় এবং পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের শাহাদাত অত্যন্ত মর্মান্তিক ও গভীর প্রভাববিস্তারকারী ঘটনা। এর ফলে জনগণের মধ্যে এক বিশাল আবেগের সঞ্চার হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই জনসমাগম রাজনৈতিক বা দলীয় আনুগত্যের ফল নয়; বরং মানুষের ঈমান ও ধর্মীয় প্রেরণার বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, গত চার মাস ধরে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি আল্লাহর প্রতিশ্রুত জাতীয় জাগরণের বাস্তবায়নেরই প্রমাণ। এ সময় মানুষ সংগ্রামের ময়দান ছেড়ে যায়নি; প্রত্যেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আদর্শ ও মূল্যবোধ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে। এখন আমাদের দায়িত্ব এই বিশাল জনসমর্থনকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা।

সব সক্ষমতা নিয়ে জিয়ারতকারীদের সেবায় নামতে হবে

ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বলেন, জানাজার অনুষ্ঠানের সময় কোমে কয়েক মিলিয়ন জিয়ারতকারীর আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার হিসাব অনুযায়ী কয়েক মিলিয়ন মানুষ কোমে আসবেন। জনগণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক সহযোগিতা ছাড়া তাদের যথাযথ সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।

তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো জিয়ারতকারীদের থাকার ব্যবস্থা করা। যেমন সাধারণ মানুষ নিজেদের ঘর অতিথিদের জন্য খুলে দিচ্ছেন, তেমনি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা জিয়ারতকারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। ছাত্রাবাসের কক্ষ, নামাজঘর, গ্রন্থাগার, আঙিনা বা ব্যবহারযোগ্য অন্য কোনো স্থান অব্যবহৃত রাখা যাবে না।

অন্তত ২০ হাজার তালিবে ইলমের আবাসনের প্রয়োজন

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মালেকি জানান, সারা দেশ থেকে তালিবে ইলমদের কাফেলা কোমে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অন্তত ২০ হাজার তালিবে ইলম কোমে পৌঁছাবেন। তাদের আবাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

তিনি বলেন, হাওজা ইলমিয়ার ছাত্রবিষয়ক বিভাগ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। প্রতিটি কাফেলার জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হবে, যাতে তারা কোমে পৌঁছেই সরাসরি নির্ধারিত স্থানে যেতে পারেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুবিধা নিশ্চিত করতে জনগণের অংশগ্রহণ

তিনি আরও বলেন, আজ মানুষ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তাই প্রতিবেশী, দাতব্য ব্যক্তি, শিক্ষক, তালিবে ইলম এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয়ভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান একটি পূর্ণাঙ্গ সেবাকেন্দ্রে পরিণত হয়।

জিয়ারতকারীদের সেবা করা হবে পরিচালক, শিক্ষক ও তালিবে ইলমদের অগ্রাধিকার

মালেকি বলেন, জিয়ারতকারীদের সেবা করাও এক ধরনের জিয়ারত ও ইবাদত। তাই পরিচালক, শিক্ষক, কর্মচারী এবং তালিবে ইলমরা নিজেদের জিয়ারতকারীদের খাদেম হিসেবে বিবেচনা করবেন। এমনকি এ কারণে যদি তারা অনুষ্ঠানের কোনো অংশে উপস্থিত থাকতে না পারেন, তবুও এই সেবাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

গ্রীষ্মকালেও পাঠদান অব্যাহত থাকবে

তিনি বক্তব্যের আরেক অংশে তালিবে ইলমদের শিক্ষার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতার আলোকে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, গ্রীষ্মকালীন শিক্ষাক্রম অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পূর্বের পাঠ পুনরালোচনা, অনুশীলন ও সুদৃঢ় করার সুযোগ পাবে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে।

তিনি পরিচালকদের এই কোর্সকে গুরুত্বের সঙ্গে আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি যেন কেবল কয়েক ঘণ্টার ক্লাসে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং যথাযথ শিক্ষাসামগ্রী ও পরিকল্পনার মাধ্যমে সৃষ্ট শিক্ষাগত ঘাটতি পূরণ করতে হবে।

জানাজার অনুষ্ঠান শেষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে

তিনি আরও বলেন, জানাজার অনুষ্ঠানের সঙ্গে একই সময়ে কোনো পরীক্ষা নেওয়া উচিত নয়। দেশের বিশেষ পরিস্থিতি ও শোকের পরিবেশ বিবেচনায় পরীক্ষা অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আয়োজন করা হবে এবং এর সময়সূচি শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হবে।

বক্তব্যের শেষে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মালেকি গত কয়েক মাসে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালিত সেবাকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং জনগণের পাশে থেকে জিয়ারতকারীদের সেবা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha