হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন জনসাধারণের সামনে আনা হয়। সে সময় কান্নারত সমর্থকদের একটি বড় দল সেখানে উপস্থিত ছিল।
শোকগাঁথা গাওয়ার সাথে তারা শোক প্রকাশ করছিলেন। তখন কফিনের ওপর থেকে ফুল ছুড়ে দেওয়া হয় জনতার দিকে।
শুক্রবার তার কফিন এবং তার সঙ্গে নিহত পরিবারের সদস্যদের কফিন শায়িত রাখা হয় সেই বৃহৎ নামাজের (মোসাল্লায়) হলে, যা তার পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সম্মানে নির্মিত হয়েছিল।
ইরানের জন্য আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠান এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সমর্থনপুষ্ট ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠী নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ থেকে টিকে যাওয়ার পর আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে।
আগামী কয়েক দিনের বড় শোকযাত্রাগুলোয় লাখো মানুষকে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে কর্তৃপক্ষ পরিবহন, খাবার ও থাকার ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছে।
সব মিলিয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শোক জানাতে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ইরানি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার আগে সরকারের দিক থেকে জাতীয় ঐক্যের ঘোষণা এলেন দেশটির ভেতরে এখনকার মতো বিভাজন এর আগে খুব কম সময়েই এত গভীর ছিল বলে মনে করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রতি জনসমর্থন অত্যন্ত দুর্বল। আর নতুন সর্বোচ্চ নেতা, খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে তার বাবার নিহত হওয়ার পর থেকে কোনো নতুন ছবিতে দেখা যায়নি। তিনি ওই হামলায় আহত হয়েছিলেন।
মোজতবা খামেনি তার বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত থাকবেন কি না সেব্যাপারে এখনো কিছু জানানো হয়নি তার কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে।
তেহরানের সড়কগুলোয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধান সড়কজুড়ে মোতায়েন রয়েছে সামরিক ও পুলিশ যানবাহন, আর পুলিশ সদস্য ও কালো পোশাক পরিহিত স্বেচ্ছাসেবী বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা মোটরসাইকেলে টহল দিচ্ছিলেন।
জানাজা চলাকালে কোনো হামলা চালানোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্কও করেছে ইরান।
শুক্রবার কফিনগুলো পৌঁছানোর পর, অপেক্ষমাণ জনতার উঁচু করে তোলা হাতের ওপর দিয়ে সেগুলো বহন করে আনা হয়। এরপর জাতীয় পতাকা ও কালো শোকপতাকায় ঘেরা, উঁচু ও সূক্ষ্ম টাইলসের কারুকাজখচিত খিলানাকৃতির একটি অংশের সামনে সাদা ধাপযুক্ত মঞ্চে সেগুলো রাখা হয়।
ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের ঘনিষ্ঠ লেবানণি মিত্র হেজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ এবং জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ইমাদ মুঘনিয়েহর পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বও-যার মধ্যে ছিলেন প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা শুক্রবার সকালে সেখানে এসে কান্না ও প্রার্থনায় অংশ নেন। একদল জেনারেল কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে সামরিক অভিবাদন জানান।
আপনার কমেন্ট