সোমবার ২০ জুলাই ২০২৬ - ১৩:১৯
সর্বোচ্চ নেতার বার্তা জাতীয় ঐক্যের সনদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিভঙ্গের বিরুদ্ধে দৃঢ় জবাব

হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিই রাদ সর্বোচ্চ নেতার সাম্প্রতিক বার্তার বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে বলেন, এই বার্তা বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতি অতিক্রমের একটি দিকনির্দেশনা। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির অবিশ্বস্ততা, শত্রুর যুদ্ধ-উসকানির বিরুদ্ধে সতর্কতা এবং ইরানি জাতির বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা-এই কৌশলগত বার্তার প্রধান বিষয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হুজ্জাতুল ইসলাম মাহদি রাফিই রাদ তেহরানে হাওজা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সর্বোচ্চ নেতার সাম্প্রতিক বার্তাকে জাতীয় ঐক্যের সনদ, জনসচেতনতার আহ্বান এবং শত্রুর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের ঘোষণা হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, ১৮টি অনুচ্ছেদে বিভক্ত এই বার্তায় দেশের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনগুলো তুলে ধরা হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণ ও রাষ্ট্রের করণীয়ের একটি রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি সর্বোচ্চ নেতার বার্তার সূচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বার্তার প্রথম অংশ আল্লাহকেন্দ্রিক ও আধ্যাত্মিক ভাষায় শুরু হয়েছে। সেখানে বিদায় অনুষ্ঠানে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি এবং ইরানি জাতির সৃষ্টি করা ঐতিহাসিক ঘটনাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে।

হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিই রাদ বলেন, এই বার্তায় জনগণের আনুগত্য, দূরদর্শিতা, ইসলামী ও ইরানি পরিচয় এবং বিপ্লবের নেতার প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রশংসা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান, মাশহাদ, কারবালা ও নাজাফে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইরানের বন্ধুদের প্রশংসা, বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বিস্ময় এবং শত্রুদের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কারণ হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বার্তার আরেকটি অংশের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সর্বোচ্চ নেতা যুক্তরাষ্ট্রের বারবার চুক্তি ভঙ্গের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছেন যে, এ আচরণ মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের অবিশ্বস্ততার প্রমাণ।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জবরদস্তি, একচেটিয়া আধিপত্যের মানসিকতা এবং সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ-যা ইরানি জাতির জাতীয় পরিচয় ও মূল্যবোধের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি আরও বলেন, এই বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ-উসকানিমূলক নীতি অব্যাহত থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, এই পথ অনুসরণ করলে ওয়াশিংটনকে আরও বেশি মূল্য দিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি অসম্মানের মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোদ্ধা ও সাহসী জনগণের প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে ইরানি জাতির প্রস্তুতি ও দৃঢ়তার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে।

হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিই রাদ বলেন, জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর এই বার্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা "পবিত্র ঐক্য" শব্দবন্ধ ব্যবহার করে জনগণ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ বাস্তবায়ন, দেশের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং শত্রুর হুমকি মোকাবিলা-সবই এই ঐক্য অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর নির্ভরশীল।

তিনি আরও বলেন, এই বার্তায় বিভেদ, মতবিরোধ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক পার্থক্যকে অতিরঞ্জিত করার বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা কিংবা মতপার্থক্য থাকলেও সমাজে বিভাজন ও বিচ্ছিন্নতার সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত নয় বলে এতে জোর দেওয়া হয়েছে।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ঐক্য রক্ষা সবার দায়িত্ব হলেও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং বিপ্লবের প্রতি অনুগত ব্যক্তিদের দায়িত্ব আরও বেশি। সর্বোচ্চ নেতা স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসলামী ব্যবস্থায় যাঁদের ওপর কোনো দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে অথবা যারা নিজেদের বিপ্লব, ইমাম ও শহীদদের প্রতি অনুগত মনে করেন, তাঁদের সমাজের সংহতি ও ঐক্য রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে এবং বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিই রাদ বার্তার অন্যান্য দিক উল্লেখ করে বলেন, সর্বোচ্চ নেতা জনগণের উচিত রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের প্রতি আস্থা রাখা এবং বিশ্বাস করা যে তাঁরা জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছেন-এ বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, বার্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় উপস্থিতির ওপর জোর। সর্বোচ্চ নেতা জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ভবিষ্যতেও সতর্কতা, দূরদর্শিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি ও পরিবর্তনগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং বিপ্লব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের ভূমিকা অব্যাহত রাখে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha