হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক আইনমন্ত্রী সালমান খুরশিদ, যিনি নয়াদিল্লিতে ইরানের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলের আমন্ত্রণে ‘শহীদ নেতার ঐতিহাসিক বিদায় অনুষ্ঠান’-এ অংশ নিতে ইরান সফর করেন, বলেন: নিজেকে পরিচয় করাতে আমি বলি যে আমি ইরানের একজন বন্ধু এবং আমি ইরানকে শ্রদ্ধা করি। আমি আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর (রহ.) শাহাদাত উপলক্ষে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং এই শোকের মুহূর্তে ইরানের জনগণের সঙ্গে সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করতে ইরানে এসেছি।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর মতো ব্যক্তিত্ব খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন
ইরানের এই ‘শহীদ নেতা’র ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে খুরশিদ তাঁকে একজন অনন্য নেতা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন: খুব কমই এমন নেতা পাওয়া যায়, যিনি আধ্যাত্মিকতাকে বাস্তব রাজনীতির সঙ্গে এমনভাবে একীভূত করতে পেরেছেন। তিনি রাজনীতিকে এমন এক উচ্চতায় উন্নীত করেছিলেন, যা আজকের বিশ্বে খুব কমই দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন: এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি নিজের জনগণ, নিজের দেশের আদর্শ এবং এমনকি সমগ্র মানবজাতির প্রতি এতটা অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন, তাঁকে খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি নিজের বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি এবং নিজের আদর্শের জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত ছিলেন। তাই তাঁর সমতুল্য ব্যক্তিত্ব খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন।
তিনি বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন সৃষ্টি করেছিলেন
বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর জনপ্রিয়তা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: সব ধর্মের মূল ভিত্তি হলো এক স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস এবং নিজের আত্মাকে মহান আল্লাহর কাছে সমর্পণ করা। বিভিন্ন ধর্মে ঈশ্বরের নাম ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সব ধর্মের পথ শেষ পর্যন্ত একই গন্তব্যে পৌঁছায়। আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.) ধর্মগুলোর এই অভিন্ন আত্মাকে উপলব্ধি করেছিলেন এবং তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এটিই তাঁর মহানতার অন্যতম প্রধান কারণ।
ভারতের কংগ্রেস পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিভাগের প্রধান বলেন: তিনি শুধু একটি দেশ বা একটি ধর্মের ছিলেন না; তিনি সমগ্র মানবজাতির ছিলেন এবং নিজের জীবন মানবসেবায় উৎসর্গ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন: ভারতের জনগণ আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর (রহ.) প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পোষণ করে। আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা ও সম্মানের সঙ্গে ইরানে এসেছি, যাতে ইরানের জনগণের প্রতি ভারতীয় জনগণ এবং বিশ্বের অন্যান্য স্বাধীনচেতা মানুষের সংহতি প্রকাশ করতে পারি।
ভারতের জনগণের খামেনেয়ীর প্রতি নিঃশর্ত শ্রদ্ধা রয়েছে
ভারতের জনগণ ও সরকারের অবস্থানের পার্থক্য সম্পর্কে খুরশিদ বলেন: জনগণের অনুভূতি এবং সরকারের নীতির মধ্যে পার্থক্য করা উচিত। সরকারগুলোকে রাজনৈতিক বিবেচনা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের এমন সীমাবদ্ধতা নেই; তারা আন্তরিকভাবে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন: আমি বিরোধী দলের একজন নেতা হিসেবে জনগণের প্রতিনিধি। তাই কূটনৈতিক বিবেচনার দ্বারা আমি বাধ্য নই। শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণের প্রকৃত অনুভূতি। আর ভারতের জনগণ আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর প্রতি নিঃশর্ত শ্রদ্ধা ও প্রশংসা পোষণ করে। আমি সেই মনোভাব নিয়েই ইরানে এসেছি।
জনগণের সহায়তা তাদের মহানুভবতার প্রমাণ
ইরানের প্রতি সাধারণ মানুষের সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন: যখন কোনো বন্ধু দুঃখ ও বিপদের মধ্যে পড়ে, তখন মানুষ হয় তার জন্য দোয়া করে, নয়তো তার প্রতি সমবেদনা জানায়, অথবা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে সাহায্য করে। আর্থিক কষ্ট থাকা সত্ত্বেও যারা নিজেদের সামান্য সম্পদের একটি অংশ ইরানের সহায়তায় দান করেছেন, তা তাদের মহান হৃদয় ও গভীর সংহতিরই প্রমাণ।
খামেনেয়ী ছিলেন ঐক্যের মহান আহ্বানকারী
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: যেমন একটি পরিবারের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি সব সদস্যকে একত্রিত করে সমস্যার সমাধান করেন, তেমনি আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.) সবাইকে সহাবস্থান, ঐক্য এবং সম্মিলিতভাবে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানাতেন। এই বার্তাটি শুধু ভারতে নয়, সারা বিশ্বেই পুনরাবৃত্তি ও প্রচার করা উচিত।
শেষে তিনি বলেন: আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর (রহ.) বার্তা ছিল একটি বৈশ্বিক বার্তা। তাঁর বক্তব্য শুধু ইসলাম বা ইরানের জন্য ছিল না; বরং তা সমগ্র মানবজাতির উদ্দেশে ছিল। আজ বিশ্ব বিভেদ, যুদ্ধ, দুর্ভোগ ও নানা সংকটে জর্জরিত। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন এমন ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন বেশি, যারা কেবল একটি জাতি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির প্রতিনিধিত্ব করবেন।
আপনার কমেন্ট