বুধবার ২২ জুলাই ২০২৬ - ১১:২১
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আন্দোলন ইরানি জাতির প্রতিরোধের আদর্শ

পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি বলেছেন, হযরত আবা আব্দিল্লাহ আল-হুসাইন (আ.)-এর আন্দোলন জুলুম ও ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। তিনি বলেন, আজ ইরানের জনগণ আশুরার সংস্কৃতি এবং ‘হাইহাত মিন্নায্-যিল্লাহ’ (অপমান কখনোই আমাদের জন্য নয়) এই স্লোগান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে জুলুমবাজ ও ঔদ্ধত্যবাদীদের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে এবং মর্যাদা ও প্রতিরোধের পথ বেছে নিয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ দুপুরে মাহাবাদ জেলার সুন্নি আলেমদের এক সমাবেশে পশ্চিম আজারবাইজানে সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ও উরুমিয়ার জুমার ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সাইয়্যেদ মাহদি কোরাইশি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শোকের দিনগুলোতে সমবেদনা জানিয়ে এবং ‘শহীদ নেতা’-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.) মহানবী (সা.) এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কাছে অনন্য মর্যাদার অধিকারী। আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি ভালোবাসা সকল মুসলমানের অভিন্ন বন্ধন।

তিনি মহানবী (সা.)-এর বর্ণিত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ফজিলতসংক্রান্ত হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আশুরার আন্দোলন কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; বরং এটি বিশ্বের সকল স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য একটি শিক্ষালয়, যা মুসলমানদের মর্যাদা, আত্মত্যাগ, প্রতিরোধ এবং দ্বীন রক্ষার শিক্ষা দিয়েছে।

ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আন্দোলন ইরানি জাতির প্রতিরোধের আদর্শ

উরুমিয়ার জুমার ইমাম বলেন, আশুরার সংস্কৃতি আজও ইরানি জাতিকে অনুপ্রাণিত করছে। তিনি বলেন, ইরানের জনগণ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে এবং ‘হাইহাত মিন্নায্-যিল্লাহ’ স্লোগানকে ধারণ করে বৈশ্বিক ঔদ্ধত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে এবং কখনোই এই জাতির মর্যাদা ও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হতে দেবে না।

হুজ্জাতুল ইসলাম কোরাইশি বলেন, দ্বীন রক্ষা জীবন ও সম্পদ রক্ষার চেয়েও অগ্রগণ্য। ইসলামী বিপ্লবের শহীদরা এবং ‘শহীদ নেতা’ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে ইসলাম ও আল্লাহর মূল্যবোধ রক্ষার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এটিই আশুরার মানবজাতির প্রতি শিক্ষা।

তিনি বলেন, মানুষের পরীক্ষা নেওয়া আল্লাহর চিরন্তন বিধান। ইরানের জনগণ কঠিন পরীক্ষায় ইসলাম ও ইসলামী বিপ্লবের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রমাণ করেছে এবং দেখিয়েছে যে, দ্বীন, মাতৃভূমি ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার জন্য তারা কোনো ত্যাগ স্বীকারে পিছপা হবে না।

জুমার ইমাম আশুরার শিক্ষা তুলে ধরতে আলেমদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শিয়া ও সুন্নি উভয় মাজহাবের আলেমরা সবসময় মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়ে সমাজে দৃঢ়তা ও সচেতনতা সৃষ্টি করেছেন এবং এই ধারা আরও শক্তিশালীভাবে অব্যাহত রাখা উচিত।

তিনি মুমিনদের সাহায্য করার ব্যাপারে আল্লাহর প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের বিজয়ের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। ইরানের জনগণও মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সত্যের পক্ষে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে।

আরবাঈন জিয়ারতের বিশেষ মর্যাদা

বক্তব্যের অন্য অংশে কোরাইশি আরবাঈন জিয়ারতের বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শিয়া সংস্কৃতিতে কেবল হযরত আবা আবদিল্লাহ আল-হুসাইন (আ.)-এর আরবাঈনেরই বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এই ঐতিহ্যের সূচনা মহানবী (সা.)-এর সাহাবি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারির জিয়ারতের মাধ্যমে হয় এবং পরবর্তীতে পবিত্র ইমামগণ (আ.) এটিকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তিনি আরও বলেন, আজ আরবাঈনের জিয়ারত বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশে পরিণত হয়েছে। এটি আহলে বাইত (আ.)-এর আদর্শের প্রতি মুসলমানদের ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও গভীর সম্পর্কের এক উজ্জ্বল প্রকাশ।

ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি ভালোবাসার মর্যাদা

হুজ্জাতুল ইসলাম কোরাইশি ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসে, তাকে তাদের সঙ্গেই পুনরুত্থিত করা হবে’-এই হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.), তাঁর সঙ্গীসাথীদের প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁদের পথ অনুসরণ করলে মানুষ তাঁদের সংগ্রামের সওয়াবে অংশীদার হয়। এই ভালোবাসাই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের অন্যতম পুঁজি।

শেষে তিনি ইসলামের সকল আলেম ও দাঈদের জন্য আল্লাহর কাছে সাফল্য কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, মুসলমানরা পবিত্র কোরআন, মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ এবং আহলে বাইত (আ.)-এর আদর্শ আঁকড়ে ধরে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকবে এবং আল্লাহর রহমত ও পবিত্র আহলে বাইত (আ.)-এর শাফাআতের সৌভাগ্য লাভ করবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha