বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২৬ - ১৫:৪৮
সারদার নাকদি: আমেরিকা ৩০ বছর হুমকি দিয়েছে; হামলা করার পর বুঝলাম-তারা কিছুই নয়

সিপাহর সর্বাধিনায়কের উপদেষ্টা সারদার মোহাম্মদ রেজা নাকদি বলেছেন, আমেরিকা ৩০ বছর ধরে হুমকি দিয়েছে। কিন্তু যখন তারা হামলা করল, তখন আমরা বুঝলাম-তারা আসলে কিছুই নয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, জাঞ্জানে অনুষ্ঠিত ‘ইরানের আত্মোৎসর্গকারীদের’ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি শত্রুদের হামলার মোকাবিলায় ইরানি জনগণের প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে বলেন, আরোপিত যুদ্ধের (ইরান-ইরাক যুদ্ধ) শুরু থেকেই আমাদের সম্মানিত পুরুষ ও সাহসী নারীরা মাঠ ছাড়েননি এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন। যেসব সাহসী পুরুষ শাহাদাতের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে যুদ্ধের ময়দান পূর্ণ করেছিলেন এবং আপনারা যেসব নারী-পুরুষ দৃঢ়তা, সাহস ও নিজেদের যোদ্ধাদের জানাজায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শত্রুদের পরাজিত ও অপমানিত করেছেন-তাদের কথা স্মরণ করতে হবে।

জনগণের প্রতিরোধে শত্রুর পরাজয়

তিনি বলেন, যেসব পরাশক্তির হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অস্ত্র এবং বৃহত্তম অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে, তারা আপনাদের তুলনায় হাজার গুণ বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করেছে। তাদের কাছে এমন সব অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে, যা আপনাদের নেই। কিন্তু এসব শক্তি আপনাদের সশস্ত্র বাহিনীর সামনে পরাজিত ও অপমানিত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তিন দিনে ইরানের পতনের শত্রু-ভ্রম

সিপাহর সর্বাধিনায়কের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা যুদ্ধের শুরুতে শত্রুপক্ষের ভুল হিসাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীকে ডেকে তাদের সংসদে বলেছিলেন: আমরা ইরানের নেতাকে হত্যা করেছি এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে ইরান পতন হবে। আপনাদের কোনো পরিকল্পনা থাকলে প্রস্তুত হন; কারণ কয়েক মিলিয়ন শরণার্থী এখানে আসতে পারে। ইরানে আপনাদের কোনো সম্পদ বা সম্পত্তি থাকলে তা নিয়ে আসুন।

তিনি বলেন, এটাই ছিল শত্রুর চিন্তা ও হিসাব

সারদার নাকদি আরও বলেন, আজ সেই দিনের সাত মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আজ যারা অপমানিত ও উদ্বাস্তু, তারা হলো আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ-যেগুলো তাদের ঘাঁটি ও নৌবহর থেকে বিতাড়িত হয়ে সমুদ্রগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের সৈন্য ও সামরিক কর্মকর্তারা যুদ্ধজাহাজের ভেতরে বন্দির মতো আটকে আছে এবং তারা জানে না কোথায় যাবে। উদ্বাস্তু তারা, ইরানের জনগণ নয়।

২০ বছরের দখলদারিত্বের লজ্জাজনক পরিণতি

তিনি বলেন, ইরাক থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীকে অপমানজনকভাবে বহিষ্কারের জন্য মুসলিম উম্মাহকে অভিনন্দন জানানো উচিত। আমরা দেখেছি, তাদের অবশিষ্ট সেনারাও ইরাক থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ইরাকে তাদের দখলদারিত্ব শুরুর ২০ বছর পার হয়েছে। ২০ বছর অবস্থান, যুদ্ধে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় এবং হাজার হাজার সেনা নিহত হওয়ার পর-যার মধ্যে তারা নিজেরাই ৪,৮০০ জন নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে-শেষ পর্যন্ত ইরাকের জনগণ আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে তাদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। তিনি বলেন, এটাই আপনাদের শত্রুদের লজ্জাজনক পরিণতি।

‘টেবিলে থাকা বিকল্পগুলো’ ছিল ফাঁপা হুমকি

সারদার নাকদি বলেন, “আপনারা দাঁড়িয়ে ছিলেন, ধৈর্য ধরেছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করেছিলেন।” শত্রুরা আমাদের শিক্ষার্থী সন্তানদের টুকরো টুকরো করেছে, আমাদের নারীদের নিজ ঘরে হত্যা করেছে এবং আমাদের পুরুষদের যুদ্ধের ময়দানে শহীদ করেছে। কিন্তু আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করে গেছি।

তিনি বলেন, শত্রুর সব লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে এবং সেই দিন থেকে এখন পর্যন্ত শত্রু বিভ্রান্ত ও দিশেহারা।

তিনি আরও বলেন, আমেরিকা ৩০ বছর ধরে ‘টেবিলে থাকা বিকল্পগুলোর’ কথা বলে আসছিল। প্রতিবার তারা ইরানের জনগণকে ভয় দেখিয়ে বলত, আমি সামরিক হামলা করতে পারি। কিন্তু ৩০ বছর পর যখন তারা হামলা করল, তখন আমরা বুঝলাম-তারা কিছুই নয়, সম্পূর্ণ ফাঁপা।

নাকদির ভাষায়, কয়েক হাজার বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা এই সামরিক বাহিনীর শক্তি আপনারা যা দেখেছেন, সেটুকুই। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে তাদের যুদ্ধজাহাজ ভারত মহাসাগরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তারা জানে না কোথায় নোঙর করবে। তাদের সৈন্য ও কর্মকর্তারা যুদ্ধজাহাজের ভেতর থেকে পরিবারের কাছে চিঠি লিখে খাবার, জীবনযাত্রার সুযোগ-সুবিধা এবং আতঙ্কের কথা জানাচ্ছেন-কারণ যেকোনো মুহূর্তে তারা হামলার শিকার হতে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

সত্যের পক্ষে বিজয়ের ঐশী প্রতিশ্রুতি

সারদার নাকদি ঐশী প্রতিশ্রুতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন: আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও পূরণ করবেন-‘وَمَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ’-আল্লাহর চেয়ে বেশি অঙ্গীকার পূরণকারী আর কে আছে?

তিনি বলেন, আল্লাহ অঙ্গীকার করেছেন যে, তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো, তাহলে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং কেউ তোমাদের ওপর বিজয়ী হতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, নিশ্চিত থাকুন, যতদিন আপনারা এভাবে ময়দানে থাকবেন এবং বেলায়াতের নির্দেশের প্রতি অটল থাকবেন, ততদিন আপনারাই বিজয়ী হবেন।

বেলায়াতের প্রতি অনুগত জনগণের মোকাবিলায় কোনো শক্তিই সক্ষম নয়

জাঞ্জানের ‘আত্মোৎসর্গকারীদের’ সমাবেশে বক্তব্যের পরবর্তী অংশে সারদার নাকদি এই অঞ্চলের জনগণের দৃঢ়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, নিশ্চিত থাকুন, যেকোনো ধরনের অস্ত্রধারী কোনো শক্তিই আপনাদের পরাজিত করতে পারবে না এবং আপনারাই এই ময়দানে বিজয়ী হবেন। আপনাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে।

এই প্রদেশের জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের অবস্থান উল্লেখ করে সিপাহর সর্বাধিনায়কের উপদেষ্টা বলেন, এই প্রদেশের মানুষ হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর বংশধর। সেই ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ একাই, কোনো ভয় ছাড়াই এবং অস্ত্র ও সরঞ্জাম ছাড়াই নমরুদের শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন এবং মূর্তিগুলো ভেঙে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, এই জনগণ সেই ঐশী নবীর পথের ধারাবাহিকতা বহন করে চলেছে এবং নিজেদের ঈমানের মাধ্যমে এই স্থানকে নিরাপত্তা ও শান্তির আবাসে পরিণত করেছে।

সারদার নাকদি বলেন, এখানেই আমাদের আস্থা ও প্রশান্তির স্থান। তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা যুদ্ধের সময় জাঞ্জানের শহীদ ডুবুরি যোদ্ধাদের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। তারা যে মহান কীর্তি সৃষ্টি করেছিলেন, তার কারণ ছিল বেলায়াত, ধর্ম ও মাতৃভূমির প্রতি তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।

তিনি শেষে বলেন, আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতিগুলোও বাস্তবায়ন করবেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha