হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আরবাইন বা চল্লিশা উপলক্ষে ইরাকের কারবালা ও নাজফসহ বিভিন্ন জিয়ারতস্থলে লক্ষাধিক মুহিব্বিনের সমাগম হয়। এ বছরের চল্লিশা মরসুমে প্রবাসী ভারতীয় ছাত্রদের সংগঠন ‘বাকিয়াতুল্লাহ কমিটি’ জিয়ারতকারীদের জন্য এক অভাবনীয় আতিথেয়তার আয়োজন করেছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে কারবালার প্রধান সড়ক ও জিয়ারতপথের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে বহু খাদ্য স্টল, যেখানে দিনরাত নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিতরণ করা হচ্ছে নানা ধরনের খাবার ও পানীয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রতিটি স্টলেই রয়েছে পবিত্র পানি, ঠান্ডা শরবত, তাজা ফলের রস, কলা, আপেল, খেজুরসহ বিভিন্ন ফল। পাশাপাশি দুপুর ও রাতে গরম গরম পূর্ণাঙ্গ খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছ-যেন কোনো জিয়ারতকারী ক্ষুধার্ত না থাকেন। শুধু খাবারই নয়, দীর্ঘ পথচলায় ক্লান্ত পায়ে বিশ্রামের জন্যও স্থান করে দিয়েছে কমিটি।
বাকিয়াতুল্লাহ কমিটির এক মুখপাত্র বলেন, আমরা প্রবাসী ভারতীয় ছাত্র, কিন্তু এ পবিত্র ভূমিতে আমরা নিজেদের ইমাম হোসাইন (আ.)-এর খাদেম মনে করি। আমাদের সামর্থ্য যতটুকু, আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিটি জিয়ারতকারীকে যেন মায়ের বাড়ির মতো স্নেহ ও তৃপ্তি দেয়া যায়। এটা আমাদের ইমানের দাবি এবং মহান ইমামের প্রতি ভালোবাসার নজরানা।
আয়োজনের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবক গোলাম মোস্তফা জানান, আমরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছি। ভারত, পাকিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান-নানা দেশের জিয়ারতকারীরা এসে আমাদের স্টলে থামছেন, দুআ করছেন। তাঁদের মুখের হাসি আমাদের শ্রমকে সার্থক করে তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য দেশের জিয়ারতকারীরাও এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ইরানের এক জিয়ারতকারী বলেন, ভারতীয় ছাত্রদের এই সেবা সত্যিই হৃদয়গ্রাহী। তাঁরা শুধু খাবার দিচ্ছেন না, দিচ্ছেন আবেগ ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা।
বাকিয়াতুল্লাহ কমিটি আগামী কয়েক দিনেও এই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। তাঁরা আরও জানান, চল্লিশার শেষ দিন পর্যন্ত জিয়ারতকারীদের জন্য যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর রাখা হচ্ছে।
প্রতি বছর আরবাইনে আত্মত্যাগ ও মহব্বতের যে অমিয় বাণী ছড়িয়ে পড়ে, এবার সেই বাণীতে যুক্ত হলো প্রবাসী ভারতীয় ছাত্রদের নিবেদিত সেবার মধুর ছোঁয়া-যা ইমাম হোসাইন (আ.)-এর পথের মুসাফিরদের মনে গভীর দাগ কাটবে নিশ্চিত।
আপনার কমেন্ট