রবিবার ২ আগস্ট ২০২৬ - ১৩:৩২
ঈমাম হোসাইন (আ.)-এর শাহাদাত স্মরণে আলোচনা সভা

করবালার মহান শহীদ ঈমাম হোসাইন (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার আটলিয়া গ্রামে এক আবেগঘন শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশিষ্ট আলেম মাওলা আতর আলী প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে ঈমামের জীবনী, আদর্শ ও আত্মত্যাগের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আটলিয়া, ২৪ পরগনা, ২ আগস্ট: করবালার ময়দানে সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগের মহান দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ঈমাম হোসাইন (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার আটলিয়া গ্রামে এক গভীর আবেগপূর্ণ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই সভায় ধর্মপ্রাণ আজাদার ও গ্রামবাসীরা উপস্থিত হয়ে করবালার বীভৎস ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন এবং আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত হন।

সভার প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আলেম মাওলা আতর আলী। তিনি তাঁর বক্তব্যে ঈমাম হোসাইন (আ.)-এর জীবনী, ব্যক্তিত্ব, মানবিক গুণাবলী ও ইসলামের মূল শিক্ষায় তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মাওলা আতর আলী বলেন, ঈমাম হোসাইন (আ.) শুধু ঐতিহাসিক এক ব্যক্তিত্ব নন; তিনি চিরন্তন সত্যের প্রতীক। যমীনে জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস, আত্মত্যাগের ঊর্ধ্বতন আদর্শ এবং আল্লাহর রাস্তায় সর্বস্ব উৎসর্গ করার যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা যুগ যুগ ধরে মুমিনের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।

তিনি ঈমামের শৈশব, তাঁর নবিজীর প্রতি অগাধ ভালোবাসা, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দৌহিত্র হিসেবে তাঁর মর্যাদা, এবং কারবালার ময়দানে পিপাসার্ত অবস্থায় পরিবার-পরিজন ও সঙ্গীদের নিয়ে কীভাবে অকুতোভয়ে সত্যের পক্ষে লড়াই করেছেন-তা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় উপস্থাপন করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ঈমাম হোসাইন (আ.)-এর সংগ্রাম কখনোই রাজনৈতিক ছিল না; বরং এটি ছিল ইসলামের মূল নীতি ‘আমর বিল মা‘রুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার’ (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ)-এর বাস্তব প্রয়োগ।

তিনি আরও বলেন, ঈমাম হোসাইন (আ.)-এর শাহাদাত মুসলিম উম্মাহকে কায়েমি সংগ্রামের প্রেরণা জোগায়। উপস্থিত বিপুল সংখ্যক মানুষ শোকের কবিতা (নওহা) পাঠ করেন এবং করবালার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আটলিয়া গ্রামের এই শোকসভা ছিল এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলা; যেখানে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি পারস্পরিক ঐক্য ও মানবতার বাণী উচ্চারিত হয়। শেষে মুনাজাতের মাধ্যমে ঈমাম হোসাইন (আ.) ও তাঁর পরিবারের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সভা পরিচালনা করেন স্থানীয় মসজিদ কমিটির সদস্যরা। তাঁরা জানান, আগামী বছরও আরও বৃহৎ পরিসরে এই শোকানুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সভা শেষে উপস্থিতদের মধ্যে তাবাররুক (পবিত্র খাদ্য) বিতরণ করা হয়।

আটলিয়ার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, করবালার চিরন্তন বার্তা আজও হৃদয়ে সমান সজীব, এবং ঈমাম হোসাইন (আ.)-এর আদর্শ বাঙালি মুসলিম সমাজে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আসন দখল করে আছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha