বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬ - ১২:২৬
ভারতের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার প্রতিনিধি ‘বাবুল হুসাইন’ মওকিব (৮২০ নম্বর আমুদ) পরিদর্শন করেছেন

ভারতের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আব্দুল মাজিদ হাকিম ইলাহী, নাজাফ আশরাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত আরবাঈন পদযাত্রার সময় ৮২০ নম্বর আমুদের ‘বাবুল হুসাইন’ মওকিব পরিদর্শন করেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আব্দুল মাজিদ হাকিম ইলাহী মওকিবটির বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি মওকিবের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, খাদেম ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারতকারীদের সেবায় তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি জিয়ারতকারীদের আবাসন ব্যবস্থাও পরিদর্শন করেন, যেখানে একই সময়ে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে থাকার ও বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া যায়। এই মওকিবে প্রতিদিন ৩০ হাজারেরও বেশি জিয়ারতকারীকে খাবার, চিকিৎসাসেবা, ক্লান্তি দূর করার জন্য ম্যাসাজ সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই প্রদান করা হয়।

জিয়ারতকারীদের আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যও এখানে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা হয় এবং প্রতিদিন আলেম, বক্তা ও আহলে বাইত (আ.)-এর স্মরণকারী বক্তাদের অংশগ্রহণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসব অনুষ্ঠানে আহলে বাইত (আ.)-এর পরিচয়, আরবাঈনের দর্শন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবনাদর্শ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা এবং বর্তমান বিশ্বে কারবালার চিরন্তন বার্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত জিয়ারতকারীদের অংশগ্রহণে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শোকানুষ্ঠান মর্যাদার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আব্দুল মাজিদ হাকিম ইলাহী বলেন: পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। আমরা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যে তিনি আমাদের আরবাঈনের এই নূরানী সফরে অংশগ্রহণের তাওফিক দান করেছেন। একই সঙ্গে আমরা কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাদের এই বৃহৎ মওকিব পরিদর্শনের সুযোগ দিয়েছেন, যেখানে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারতকারীদের সব ধরনের প্রয়োজন পূরণের জন্য সর্বোত্তম ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আমি এই মওকিবের প্রতিষ্ঠাতা, দায়িত্বশীল ব্যক্তি, খাদেম এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তাঁরা নিষ্ঠা, আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার সঙ্গে দিন-রাত জিয়ারতকারীদের সেবা করছেন।

এই মওকিবে আমি সেই ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, উদারতা ও মানবিকতার চেতনাই দেখেছি, যা আমি ভারতেও প্রত্যক্ষ করেছি। ভারত হলো ভালোবাসা, সহাবস্থান, পারস্পরিক সম্মান, হুসাইনি মাহফিল এবং শোকানুষ্ঠানের একটি দেশ।

আজ সেই একই মূল্যবোধ এই মওকিবেও সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এটাই আরবাঈনের প্রকৃত বার্তা-যা মানুষকে একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং সেবা, আত্মত্যাগ ও ভ্রাতৃত্বের সংস্কৃতিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেয়।”

তিনি আরও বলেন, আরবাঈনের এই বিশাল সমাবেশ শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি মানবতা, আত্মত্যাগ, পারস্পরিক ভালোবাসা এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের একটি বাস্তব প্রতীক। বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মানুষের উপস্থিতি এবং খাদেমদের আন্তরিক সেবাপরায়ণতা প্রমাণ করে যে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বার্তা আজও মানুষের হৃদয়কে একত্রিত করতে এবং তাদের কল্যাণ, ভালোবাসা, আত্মত্যাগ ও মানবসেবার পথে পরিচালিত করতে সক্ষম।

পরিদর্শনের শেষে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আব্দুল মাজিদ হাকিম ইলাহী মওকিবের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও খাদেমদের সেবার প্রশংসা করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন তিনি তাঁদের জিয়ারতকারীদের সেবার তাওফিক আরও বৃদ্ধি করেন, তাঁদের প্রচেষ্টা কবুল করেন এবং মহান প্রতিদান দান করেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha