হাওজা নিউজ এজেন্সি: ‘মাওকেআল মুকাওয়েম’ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আয়াতুল্লাহ শেখ ঈসা কাসেম আমেরিকার আধিপত্যের মুখোমুখি আরব, মুসলিম এবং বিশ্বের অন্যান্য জনগণের উদ্দেশে এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জনগণকে তাদের ওপর কর্তৃত্বকারী রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থাগুলোকে প্রশ্ন করতে হবে—যেসব শাসক আমেরিকাকে আল্লাহর পরিবর্তে নিজেদের প্রভু ও উপাস্য হিসেবে বেছে নিয়েছে এবং আনুগত্য ও নিঃশর্ত অনুসরণের মাধ্যমে অর্থ, শক্তি ও জীবন দিয়ে আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করছে। এমনকি নিজেদের সন্তানদেরও তারা এই আনুগত্যের পথে নিয়োজিত করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আয়াতুল্লাহ কাসেমের ভাষায়, এসব শাসক এমন এক ‘মিথ্যা উপাস্যের’ সমর্থনে অর্থ ও জীবন ব্যয় করছে, যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রাষ্ট্র ও জনগণকে দমন করতে অন্যায় যুদ্ধ ও আগ্রাসনে শক্তি প্রয়োগ করে।
তিনি জনগণকে এসব শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের বলতে হবে—“তোমরা যে অজ্ঞ ও অহংকারী প্রভুকে আল্লাহর পরিবর্তে বেছে নিয়েছ, সে এমন এক অত্যাচারী, যার মধ্যে ন্যায়বিচার নেই; এমন এক কঠোর হৃদয়ের অধিকারী, যার মধ্যে দয়া নেই; এমন এক লোভী, যার লোভের কোনো সীমা নেই; এবং এমন এক স্বৈরাচারী, যার অত্যাচারের কোনো শেষ নেই।”
তিনি আরও বলেন, এই শক্তি রক্তের জন্য তৃষ্ণার্ত, সম্মানের প্রতি অবজ্ঞাশীল এবং মূল্যবোধ ও মানবমর্যাদার প্রতি অস্বীকৃতিশীল। এমনকি তার মিত্রদের মধ্যেও সে কেবল এমন দাসদের দেখতে পায়, যারা তার ও তার অনুগত অনুসারীদের জন্য কাজ করে। তার দাবি অনুযায়ী, এসব সহযোগীকে নিজেদের নীচ উদ্দেশ্য পূরণ, বিকৃত আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ এবং চরম অনিষ্ট সাধনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
শেখ ঈসা কাসেম বলেন, যারা ধর্মীয় বন্ধন, মূল্যবোধ, মর্যাদাবোধ ও মানবিক বৈশিষ্ট্য বিসর্জন দিয়ে কেবল ক্ষমতার আসন ধরে রাখা এবং নিপীড়িত জনগণের ওপর কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য এই পথ অব্যাহত রাখে, তাদের কর্মকাণ্ড মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, সুস্থ বিবেক, মহৎ অনুভূতি এবং পরিপূর্ণতার আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
তিনি এমন শাসনব্যবস্থারও সমালোচনা করেন, যারা নিজেদের এবং নিজেদের সব ধরনের সামর্থ্য এমন ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেয়, যাদের একমাত্র লক্ষ্য বলে তিনি মনে করেন—মানুষকে অপমানিত করা এবং তাদের ইচ্ছাশক্তি ভেঙে দেওয়া।
এ ধরনের নীতির পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, এর ফল হতে পারে যুদ্ধ, ধ্বংস, ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ও বিপর্যয়—যা শান্তিপ্রিয় ও যোদ্ধা, ছোট ও বড়, নিকট ও দূরের মধ্যে কোনো পার্থক্য করবে না। এর ফলে এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, যা মানুষের জীবনকে ধ্বংস করে দেবে।
জনগণের নীরবতা ও সত্য কথা বলতে বিলম্ব করার পরিণতি সম্পর্কেও সতর্ক করেন শেখ ঈসা কাসেম। তিনি বলেন, জনগণ যদি এই জুলুমের বিরুদ্ধে কথা না বলে অথবা তা বলার ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ করে, তাহলে নিজেদের প্রতি তাদের অপরাধের মাত্রা হবে অপরিমেয়।
তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, “সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই তোমরা সবাই সতর্ক হও এবং সচেতন হও।”
আপনার কমেন্ট