শুক্রবার ২ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:৩৬
শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিকভাবে গড়ে তুলতে সব সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে

ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমের হাওজায়ে ইলমিয়া তথা মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মালেকি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিকভাবে গড়ে তুলতে মাদ্রাসার সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে। স্যাটেলাইট চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও সংশয় সৃষ্টিকারী কনটেন্টের বিস্তার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ‘আমিন টাইপ-১’ মাদ্রাসাগুলোর পরিচালকদের এক সমাবেশে তিনি বলেন, সমাজের ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; মাদ্রাসার পরিচালক হলে তিনি শিক্ষক, পরামর্শদাতা ও কর্মীদের সমন্বিতভাবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার কাজে নেতৃত্ব দিতে পারেন।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধে গুরুত্ব
কিশোরদের মধ্যে বিশ্বাসগত দুর্বলতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মালেকি বলেন, এর পেছনে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নানা কারণ রয়েছে। বিশেষ করে স্যাটেলাইট চ্যানেল ও অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও সংশয় সৃষ্টিকারী কনটেন্টের ব্যাপক বিস্তার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষার্থীরাও কখনো কখনো বিভিন্ন বই বা অনলাইন কনটেন্টের মাধ্যমে এমন প্রশ্ন ও সংশয়ের মুখোমুখি হয়, যার উত্তর তারা সহজে খুঁজে পায় না। এ অবস্থায় সচেতন ও জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষক এবং মাদ্রাসা পরিচালকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

আস্থাই শিক্ষকের প্রভাবের ভিত্তি
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মালেকি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো তাদের আস্থা অর্জন করা। পরিচালক ও শিক্ষকদের এমন আচরণ করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের কাছে নিজেদের প্রশ্ন ও সমস্যার কথা নির্ভয়ে বলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো শিক্ষার্থী বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া কিংবা পক্ষপাতমূলক আচরণ মাদ্রাসার পরিবেশে বিরূপতা সৃষ্টি করতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ, বিরোধিতা, গোপনীয়তা ও ভণ্ডামির প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা সুস্থ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে শুধু পরীক্ষার ফল বা নম্বরের ওপর নির্ভর না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মেধা ও সক্ষমতা আলাদা। তাই তার ব্যক্তিগত অগ্রগতি, চেষ্টা ও পরিশ্রমও মূল্যায়নের অংশ হওয়া উচিত।

সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ জরুরি
একজন সফল মাদ্রাসা পরিচালকের অন্যতম দায়িত্ব হলো প্রতিষ্ঠানের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা—বলেন হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মালেকি।

তিনি বলেন, এ কাজে শিক্ষক, পরামর্শদাতা ও অন্যান্য কর্মীদের মতামত নেওয়া জরুরি। শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের বিষয়টি জটিল হওয়ায় কোনো পরিচালকের পক্ষে এককভাবে সব সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধান করা সম্ভব নয়। সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ কাজে লাগিয়েই কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

তিনি মাদ্রাসা পরিচালকদের অভিজ্ঞ ও সফল সহকর্মীদের কাছ থেকে শেখার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, বাস্তব অভিজ্ঞতা ব্যবস্থাপনা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পরিচালক হবেন শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সমন্বয়কারী
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মালেকি বলেন, মাদ্রাসার পরিচালক মূলত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সমন্বয়কারী। শিক্ষক, পরামর্শদাতা ও কর্মীদের একটি অভিন্ন লক্ষ্যের দিকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে পারলে শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার কাজে পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা এবং আহলে বাইতের (আ.) প্রতি আধ্যাত্মিক সম্পর্ক ও তাওয়াসসুল বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এ কাজে সাফল্যকে নিজের কৃতিত্ব হিসেবে না দেখে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha