হাওজা নিউজ এজেন্সি: নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রাক্কালে রোববার (১৬ আগস্ট) তেহরানের শহীদ বাহোনার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শিক্ষা বিভাগের ৩৯তম জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়। এতে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ের এক হাজারেরও বেশি শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সরাসরি ও ভার্চুয়াল উভয় মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।
এ বছরের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল “ইরানের জন্য, বিদ্যালয়ের জন্য—ঐক্যের মহাকাব্য”। সম্মেলনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ, অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাজি তাঁর বার্তায় সম্মেলনের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের মেধা ও সম্ভাবনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনে শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক বিকাশের গুরুত্ব বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ মানবজাতিকে অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তি থেকে জ্ঞান, হেদায়েত ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করার জন্য নবী-রাসূলদের প্রেরণ করেছেন। শিক্ষা ও চরিত্র গঠন তাই ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অন্যতম স্তম্ভ।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও নৈতিক প্রশিক্ষণ কোনো নির্দিষ্ট বয়স, অঞ্চল বা শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তবে তরুণ ও কিশোর প্রজন্মের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি, কারণ ভবিষ্যৎ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তাদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আয়াতুল্লাহ শিরাজি শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসক, অভিভাবক এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন, স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য দায়িত্বশীলদের দূরদর্শী ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান যুগের দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, বিশেষ করে ভার্চুয়াল জগৎ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তারের ফলে সৃষ্ট সুযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি পরিবার ও বিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশু-কিশোরদের শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে পরিবার এবং বিদ্যালয় একে অপরের পরিপূরক; এ দুটি প্রতিষ্ঠানই সমাজের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান ভিত্তি।
আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাজি শিক্ষকদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, নৈতিক বিকাশ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে শিক্ষকদের আগ্রহ ও উদ্দীপনা আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি তাদের পেশাগত ও সামাজিক সমস্যাগুলো কমিয়ে একটি প্রাণবন্ত, সৃজনশীল ও অনুপ্রেরণামূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, ইরানের ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, তরুণ প্রজন্মের ধর্মীয় ও আদর্শিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করা জাতীয় সাফল্য ও মর্যাদা রক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার নীতিনির্ধারণ ও কর্মসূচিতে এ বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
বার্তার শেষে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার কর্মকর্তা, প্রশাসক ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাদের অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও অগ্রগতি আরও সুদৃঢ় হোক—এই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
সূত্র: হাওজা নিউজ এজেন্সি
আপনার কমেন্ট