হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ধর্মীয় দৃষ্টিতে সব ক্ষতি আর্থিক নয়। কখনো মানুষ এমন কোনো বিষয়ের পেছনে দুনিয়ার সম্পদ ব্যয় করে, যার পরিণতিতে সে দুনিয়া ও আখিরাত-উভয়ই হারিয়ে ফেলে। আয়াতুল্লাহ মোজতবা তেহরানি ইমাম যায়নুল আবেদিন (আ.)-এর বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে এমনই একটি গোপন ও বিপজ্জনক ক্ষতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
ইমাম যায়নুল আবেদিন (আ.) বলেন:
«...فَإِنَّ فِی النَّاسِ مَنْ (خَسِرَ الدُّنْیَا وَ الْآخِرَةَ) یَتْرُکُ الدُّنْیَا لِلدُّنْیَا وَ یَرَی أَنَّ لَذَّةَ الرِّئَاسَةِ الْبَاطِلَةِ أَفْضَلُ مِنْ لَذَّةِ الْأَمْوَالِ وَ النِّعَمِ الْمُبَاحَةِ الْمُحَلَّلَةِ فَیَتْرُکُ ذَلِکَ أَجْمَعَ طَلَباً لِلرِّئَاسَةِ...»
অর্থাৎ, মানুষের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি আছে যারা দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা দুনিয়ার স্বার্থেই দুনিয়াকে পরিত্যাগ করে। তাদের কাছে অবৈধ নেতৃত্ব ও পদ-মর্যাদা লাভের আনন্দ বৈধ সম্পদ ও বৈধ নেয়ামতের আনন্দের চেয়ে বেশি মূল্যবান মনে হয়। ফলে তারা নেতৃত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষায় এসব সম্পদ ও নেয়ামতও ত্যাগ করে।
আয়াতুল্লাহ তেহরানি বলেন, আমি অতীতে ‘অবৈধ নেতৃত্ব’ সম্পর্কে যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম, সেটি হাদিস থেকেই নিয়েছিলাম। আমি খুবই সতর্ক থাকি, যেন ইনশাআল্লাহ কোরআনের আয়াত ও হাদিসের বক্তব্যের সীমা অতিক্রম না করি।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, একজন ব্যক্তি যখন অর্থ-সম্পদ ও বৈধ নেয়ামতের স্বাভাবিক ভোগের চেয়ে ক্ষমতা, খ্যাতি ও পদ-মর্যাদার আকাঙ্ক্ষাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, তখন সে সেই পদ অর্জনের জন্য নিজের সমস্ত অর্থ-সম্পদ ব্যয় করতে শুরু করতে পারে।
অর্থাৎ, কেবল মর্যাদা ও নেতৃত্বের আসন লাভের জন্য যখন একজন মানুষ নিজের সম্পদ বিসর্জন দিতে শুরু করে, তখন তাকে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত বলা হয় যারা “দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই হারিয়েছে” (خَسِرَ الدُّنْیَا وَ الْآخِرَة)।
পাদটীকা
(১) বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৪।
আপনার কমেন্ট