হাওজা নিউজ এজেন্সি: আলোচনার শুরুতে তিনি ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর একটি বাণী উল্লেখ করে আল্লাহর সঙ্গে একান্ত সম্পর্ক ও তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইমাম (আ.) বলেছেন
اِنَّ الوُصُولَ اِلی اللهِ عَزَّوَجَلَّ سَفَرٌ لا یُدرَکُ اِلّا بِامتِطاءِ اللَّیلِ.
মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছানো একটি দীর্ঘ সফর, যা রাতের ইবাদতকে বাহন হিসেবে গ্রহণ করা ছাড়া অর্জন করা যায় না।
আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি বলেন, আল্লাহর পথে এই যাত্রা দীর্ঘ ও কঠিন। রাতের নির্জনতায় মানুষ যখন তাহাজ্জুদে দাঁড়ায়, তখন লোকদেখানো বা বাহ্যিকতার কোনো সুযোগ থাকে না; সে তার প্রকৃত দুর্বলতা, অভাব ও প্রয়োজন আল্লাহর সামনে তুলে ধরে। এই আন্তরিক সম্পর্কই আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক বিকাশের অন্যতম মাধ্যম।

এরপর তিনি পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ‘আমানত’-এর ধারণা ব্যাখ্যা করে বলেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ....
নিশ্চয়ই আমি আমানতকে আসমানসমূহ, পৃথিবী ও পর্বতমালার সামনে পেশ করেছিলাম...” (সূরা আল-আহযাব: ৭২)
তিনি বলেন, এখানে আমানত বলতে কেবল কোনো বস্তু, সম্পদ বা বাহ্যিক জিনিসকে বোঝানো হয়নি; বরং এটি মানুষের ওপর অর্পিত এক মহান দায়িত্ব ও মর্যাদার প্রতীক। যেমন কাউকে শাসনক্ষমতা দিলে সে ‘আমির’ হয়, তেমনি আল্লাহর আমানত গ্রহণকারীকে ‘আমিনুল্লাহ’—আল্লাহর বিশ্বস্ত প্রতিনিধি—হতে হয়। আর এই মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন ও দায়িত্বপূর্ণ কাজ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানুষের জীবন, সম্পদ, সম্মান-সম্ভ্রম এবং দেশের ভূখণ্ড—সবই আল্লাহর আমানত। তাই রাষ্ট্রের কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সকল দায়িত্বশীল ব্যক্তির কর্তব্য হলো এসব আমানত যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্ব, আর্থিক কর্তৃত্ব, নিরাপত্তা রক্ষা এবং সমাজের বিভিন্ন পদ ও কর্তব্যও একেকটি আমানত। যে ব্যক্তি কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করে, তার জানা উচিত যে সেটি তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; বরং একটি আমানত, যা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও আদায় করতে হবে।
আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি এরপর পবিত্র কোরআনের এই আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করেন,
هُوَ الَّذِي أَيَّدَكَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ.
তিনিই তোমাকে তাঁর সাহায্য এবং মুমিনদের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন।” (সূরা আল-আনফাল: ৬২)
তিনি বলেন, মুমিন জনগণের উপস্থিতি ও সমর্থন আল্লাহর সাহায্য লাভের অন্যতম প্রধান উপায়। খায়বার যুদ্ধের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাহ্যিক হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী মুসলমানদের বিজয় অত্যন্ত কঠিন মনে হলেও আল্লাহর সাহায্য এবং মুমিনদের দৃঢ় উপস্থিতির কারণে তারা বিজয় অর্জন করেছিলেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন চাপ ও চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের উপস্থিতি ও সমর্থন রাষ্ট্রের শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। যতদিন জনগণ দ্বীন ও ইসলামী ব্যবস্থার পাশে থাকবে, ততদিন আল্লাহর সাহায্যও তাদের সঙ্গী হবে।
তিনি কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণ যদি অনুভব করে যে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও তাদের কষ্ট, নিরাপত্তা-সংকট ও সামাজিক সমস্যার অংশীদার, তাহলে জনগণ ও রাষ্ট্রের পারস্পরিক আস্থা ও সংহতি আরও সুদৃঢ় হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি শহীদদের মহান মর্যাদার কথা স্মরণ করেন এবং তাদের স্মৃতি ও আদর্শ জীবিত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সকল রাষ্ট্রসেবকের জন্য আল্লাহর কাছে এই দোয়া করেন যে, তারা যেন অর্পিত আমানত যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারেন এবং জনগণের প্রতি সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করতে সক্ষম হন।

আপনার কমেন্ট