হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইমাম আলী (আ.) বলেন,
يُسْتَدَلُّ عَلَى إِدْبَارِ الدُّوَلِ بِأَرْبَعٍ: تَضْيِيعِ الْأُصُولِ، وَالتَّمَسُّكِ بِالْفُرُوعِ، وَتَقْدِيمِ الْأَرَاذِلِ، وَتَأْخِيرِ الْأَفَاضِلِ.
রাষ্ট্রের পতনের চারটি লক্ষণ রয়েছে: মৌলিক বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করা, গৌণ বিষয়গুলোকে আঁকড়ে ধরা, নীচ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং গুণী ও যোগ্য ব্যক্তিদের পিছনে সরিয়ে রাখা।”
[গুরারুল হিকাম, পৃ. ৩৪২]
বাণীটির তাৎপর্য
ইমাম আলী (আ.)-এর এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর বাণীতে রাষ্ট্রের অবক্ষয় ও পতনের চারটি মৌলিক কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
১. মৌলিক বিষয়কে উপেক্ষা করা — تَضْيِيعِ الْأُصُولِ
রাষ্ট্রের মূলনীতি, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও মৌলিক বিষয়গুলোকে অবহেলা করা রাষ্ট্রের দুর্বলতার সূচনা ঘটায়।
২. গৌণ বিষয়কে আঁকড়ে ধরা — وَالتَّمَسُّكِ بِالْفُرُوعِ
মূল বিষয় বাদ দিয়ে তুচ্ছ ও গৌণ বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকা রাষ্ট্র পরিচালনায় অগ্রাধিকারের ভুলকে প্রকাশ করে।
৩. নীচ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া — وَتَقْدِيمِ الْأَرَاذِلِ
যোগ্যতা ও নৈতিকতার পরিবর্তে অযোগ্য, নীচ ও স্বার্থপর ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো রাষ্ট্রের ভিত দুর্বল করে দেয়।
৪. যোগ্য ও গুণী ব্যক্তিদের পিছনে সরিয়ে রাখা — وَتَأْخِيرِ الْأَفَاضِلِ
যোগ্য, জ্ঞানী ও সৎ ব্যক্তিদের উপেক্ষা করে তাদের যথাযথ দায়িত্ব ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা রাষ্ট্রের পতনকে ত্বরান্বিত করে।
ইমাম আলী (আ.)-এর এই বাণীর মূল শিক্ষা হলো—রাষ্ট্রের স্থিতি ও উন্নতির জন্য সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ, যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদান এবং মৌলিক বিষয়কে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য।
আপনার কমেন্ট