হাওজা নিউজ এজেন্সি: মরহুম আল্লামা মিসবাহ ইয়াজদি তাঁর এক বক্তব্যে মহানবী (সা.)-এর ইবাদতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। তাঁর ইবাদত কেবল আল্লাহর শাস্তির ভয় থেকে উৎসারিত ছিল না; বরং তা ছিল মহান আল্লাহর অগণিত নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এক স্ত্রী তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আল্লাহ যখন আপনার জন্য নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে আপনি শাস্তি পাবেন না, তখনও আপনি এত বেশি কাঁদেন ও অশ্রুপাত করেন কেন?”
জবাবে মহানবী (সা.) বলেন,
أَلَا أَکُونُ عَبْداً شَکُوراً
“আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?”
অর্থাৎ, আল্লাহ যখন আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তখন কি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়া আমার উচিত নয়?
(বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৬৮, পৃষ্ঠা ২৪)
এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, মহানবী (সা.)-এর ইবাদত কেবল জাহান্নামের ভয় থেকে ছিল না; বরং তা ছিল মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার প্রকাশ।
মানুষ যদি কিছু সময়ের জন্য নিজের মনোযোগকে একাগ্র করতে পারে, অন্য চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রেখে আল্লাহর নেয়ামতগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে, তাহলে হয়তো তার অজান্তেই চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়বে এবং হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জাগ্রত হবে।
এমন ইবাদতই মানুষের আত্মিক রূপান্তর ঘটাতে পারে। এটি যেন কিমিয়ার মতো—যা মানুষের অস্তিত্বের তামাকে সোনায় পরিণত করে। এ অবস্থায় মানুষ শুধু সওয়াব লাভ কিংবা শাস্তি থেকে বাঁচার চিন্তায় ইবাদত করে না; বরং তার ইবাদত হয়ে ওঠে আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
সুতরাং, আল্লাহর নেয়ামত নিয়ে চিন্তা করা মানুষের অন্তরে একদিকে যেমন কৃতজ্ঞতার স্বভাবকে জাগিয়ে তুলতে পারে, অন্যদিকে তেমনি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসাও সৃষ্টি করতে পারে। আর এই দুটি আধ্যাত্মিক সম্পদ এমন মূল্যবান, যার মর্যাদা মানুষের সমস্ত পার্থিব অর্জন ও সম্পদের চেয়েও বেশি।
সূত্র: মরহুম আল্লামা মিসবাহ ইয়াজদির বক্তব্য
আপনার কমেন্ট