হাওজা নিউজ এজেন্সি: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “তাঁর আগমন মানবতার সামনে সত্য ও আলোর নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। মহানবী (সা.) মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করেছেন এবং সত্য, ন্যায়বিচার, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “তাঁর জীবন ও শিক্ষা মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও আদর্শ হয়ে রয়েছে।”
পবিত্র কোরআনের সূরা আল-আহযাবের ২১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।”
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন পবিত্র কোরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। তাঁর জীবন ছিল সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক মর্যাদার পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সকল মানুষের মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রেখেছেন। তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, নারী, শিশু ও সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “তাঁর শিক্ষা মানুষকে বিভক্ত করে না; বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।”
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্ব যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয়সহ নানা সংকটের মুখোমুখি। এসব সংকট বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে।
তিনি বলেন, “এমন সময়ে শান্তি, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা, ক্ষমাশীলতা ও মানবতার বিষয়ে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।”
তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও দর্শন অনুসরণ করলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ তরুণদের মাদক, সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ ও অপরাধ থেকে দূরে থাকতে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে তাঁর আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের চেতনা আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমেই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।”
শেষে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন তিনি সবাইকে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবন ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করেন এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী শান্তি, ন্যায়বিচার, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবতা প্রতিষ্ঠিত করেন।
আপনার কমেন্ট