রবিবার ৩০ আগস্ট ২০২৬ - ০৮:১০
ঈমান, মর্যাদা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে শহীদদের পথ অনুসরণ করতে হবে

আয়াতুল্লাহ আল-উজমা জাওয়াদি আমোলি বলেছেন, আজকের মর্যাদাপূর্ণ জীবন শহীদদের আত্মত্যাগের ফল। তাঁদের পবিত্র রক্ত ও আল্লাহর পথে আত্মত্যাগী ব্যক্তিদের সাহসিকতার কাছে আমরা ঋণী। তাই ঈমান, মর্যাদা ও দূরদর্শিতা অটুট রেখে শহীদদের পথ অনুসরণ করতে হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: সুপ্রিম কোর্টের উপপ্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন আলী সাইফি আমোলি আয়াতুল্লাহ আল-উজমা জাওয়াদি আমোলির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন। এ সময় তিনি তাঁর দায়িত্ব ও বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে প্রতিবেদন তুলে ধরেন এবং আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমোলির দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন।

সাক্ষাতে আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি আলেম সমাজের সঙ্গে মসজিদ, মেহরাব ও হাওজায়ে ইলমিয়ার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে মসজিদ ও মেহরাবের মাধ্যমে আলেম সমাজকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রশাসনিক দায়িত্ব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ব্যস্ততার কারণে এসব নূরানী কেন্দ্র থেকে দূরে সরে যাওয়া উচিত নয়। আলহামদুলিল্লাহ, আপনি বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জ্ঞানী ও পরিশ্রমী তালাবাদের শিক্ষাদান ও প্রশিক্ষণের কাজও অব্যাহত রেখেছেন। দ্বীন ও ইসলামী সমাজের সেবার পথে এটি একটি মূল্যবান তাওফিক।

শহীদদের মর্যাদা ও আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের যা কিছু আছে, তা শহীদদের পবিত্র রক্ত এবং আল্লাহর পথে আত্মত্যাগী ব্যক্তিদের সাহসিকতার বরকতে। আজ আমরা যে সম্মানজনক জীবনযাপন করছি, তা তাঁদের আত্মত্যাগের ফল, যারা আল্লাহর পথে নিজেদের জীবন ও সর্বস্ব উৎসর্গ করেছেন। শহীদদের কাছে আমরা ঋণী। তাই ঈমান, মর্যাদা ও দূরদর্শিতা বজায় রেখে তাঁদের পথ অনুসরণ করতে হবে।

তিনি শহীদ ড. আলী লারিজানির ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে বলেন, তিনি ছিলেন বিরল ও অসাধারণ গুণের অধিকারী এবং জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একজন ব্যক্তি। তাঁর পবিত্র দেহাবশেষ থেকে কেবল একটি হাত অবশিষ্ট ছিল; সেই হাতই ইসলাম ও দেশের জন্য তাঁর আত্মিক দৃঢ়তা, ঈমান ও আত্মত্যাগের সুস্পষ্ট সাক্ষ্য বহন করে।

আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আল-উজমা খামেনেয়ীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আল-উজমা খামেনেয়ী ইসলামের জন্য আত্মোৎসর্গ করেছেন এবং দ্বীন, ইসলামী উম্মাহর মর্যাদা ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় নিজের সামর্থ্য ও সর্বস্ব নিয়োজিত করেছেন।

তিনি বলেন, তিনি দৃঢ় মনোবল ও সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়ে বিশ্ব আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। দ্বীন ও আহলে বাইত (আ.)-এর শিক্ষায় কোনো ভূখণ্ডের নিরাপত্তা ও একটি জাতির মর্যাদার ওপর আগ্রাসন জবাবহীন থাকতে পারে না। আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঈমান, দূরদর্শিতা ও সাহসের সঙ্গে দাঁড়াতে হবে।

সাক্ষাতের শেষে তেহরানের হজরত হুজ্জাত (আ.) ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তি আয়াতুল্লাহ আল-উজমা জাওয়াদি আমোলির বৈজ্ঞানিক, আধ্যাত্মিক ও প্রজ্ঞাপূর্ণ ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি তাঁকে ইসলামী বিশ্বের জন্য গৌরব হিসেবে উল্লেখ করে হজরত ইমাম মাহদি (আ.)-এর কাছে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, তাওফিক ও বরকতময় সেবাজীবন কামনা করেন।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha